সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা করের রায় স্থগিত করেনি আদালত

পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর পরিশোধ করা সংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবির বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেননি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের পৃথক আবেদন সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগেরে চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ।

পরে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চেম্বার জজ বললেন যেহেতু হাইকোর্ট এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ রায় দেননি এবং আমরা পাইনি, সুতরাং এ ব্যাপারে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না। রায় এলে এবং রায় দেখলে তারপর হস্তক্ষেপ করব।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, তারা স্টে’র জন্য এসেছিলেন। কিন্তু অনারেবল জাজ ইন চেম্বার কোনো আদেশ দেন নাই।

বলেছেন যে, জাজমেন্টটা সিগনেচার হয়ে নামার পর সারটিফায়েড কপি নিয়ে যেন তারা রেগুলার লিভ পিটিশন ফাইল করে। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল আছে। আর তাদের আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের দুটি রুল খারিজ করে রায় দেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট একই বেঞ্চ এ বিষয়ে রিট খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন।

পরে ওই রায় প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে বলা হয়, বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক এক সময় এসব মামলায় সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কারণে রায়টি প্রত্যাহার করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। এরপর মামলাগুলো শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।

গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ প্রদেয় অর্থের দাবি জানানো হয়। এ দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ।

২০২৪ সালে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছিল, পাঁচটি করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি দাবি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা করের রায় স্থগিত করেনি আদালত

প্রকাশিত সময় : ১০:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর পরিশোধ করা সংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবির বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেননি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের পৃথক আবেদন সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগেরে চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ।

পরে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চেম্বার জজ বললেন যেহেতু হাইকোর্ট এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ রায় দেননি এবং আমরা পাইনি, সুতরাং এ ব্যাপারে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না। রায় এলে এবং রায় দেখলে তারপর হস্তক্ষেপ করব।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, তারা স্টে’র জন্য এসেছিলেন। কিন্তু অনারেবল জাজ ইন চেম্বার কোনো আদেশ দেন নাই।

বলেছেন যে, জাজমেন্টটা সিগনেচার হয়ে নামার পর সারটিফায়েড কপি নিয়ে যেন তারা রেগুলার লিভ পিটিশন ফাইল করে। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল আছে। আর তাদের আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের দুটি রুল খারিজ করে রায় দেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট একই বেঞ্চ এ বিষয়ে রিট খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন।

পরে ওই রায় প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে বলা হয়, বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক এক সময় এসব মামলায় সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কারণে রায়টি প্রত্যাহার করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। এরপর মামলাগুলো শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।

গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ প্রদেয় অর্থের দাবি জানানো হয়। এ দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ।

২০২৪ সালে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছিল, পাঁচটি করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি দাবি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।