সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে ভিডিও ভাষণ দেবেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না মেলায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভিডিওর মাধ্যমে ভাষণ দেবেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ১৫২ ভোটে পাস হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এতে বিপক্ষে ভোট দিয়েছে তিনটি দেশ এবং ভোটদানে বিরত ছিল চারটি দেশ।

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী এক বছর মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনের অন্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাধাগ্রস্ত হলে ভিডিওর মাধ্যমে জাতিসংঘের সভা ও সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন।

গত বছরও নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভিডিওর মাধ্যমে ভাষণ দিয়েছিলেন আব্বাস। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) ও পশ্চিম তীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সদস্যদের ভিসা দেওয়া ও বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

এবারও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এসব ভিসা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
ভোটের আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হতে চাইলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ‘সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ’ করতে হবে এবং ‘গুরুতর শাসনের বিকল্প হিসেবে কূটনৈতিক প্রদর্শনী’ বন্ধ করতে হবে।

তবে ফিলিস্তিনি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা করেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির জাতিসংঘ দূত রিয়াদ মানসুর।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার জানায়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ‘আন্তর্জাতিকীকরণের’ চেষ্টার অভিযোগে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগও রয়েছে।

১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের ‘হেডকোয়ার্টার্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ অনুযায়ী, সাধারণত নিউইয়র্কে জাতিসংঘে আসা বিদেশি কূটনীতিকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের অধিকার রয়েছে বলে ওয়াশিংটন জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, আট দশকেরও বেশি সময় পরও বিশ্বের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। যুদ্ধ ও শান্তি, উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবাধিকারসহ সমকালীন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের ক্ষেত্রে এ পরিষদের গুরুত্ব এখনো অটুট রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্সের বরাতে কালের কণ্ঠ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জবির দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭ সালের ৩০ জানুয়ারি

জাতিসংঘে ভিডিও ভাষণ দেবেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট

প্রকাশিত সময় : ০৮:০৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না মেলায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভিডিওর মাধ্যমে ভাষণ দেবেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ১৫২ ভোটে পাস হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এতে বিপক্ষে ভোট দিয়েছে তিনটি দেশ এবং ভোটদানে বিরত ছিল চারটি দেশ।

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী এক বছর মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনের অন্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাধাগ্রস্ত হলে ভিডিওর মাধ্যমে জাতিসংঘের সভা ও সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন।

গত বছরও নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভিডিওর মাধ্যমে ভাষণ দিয়েছিলেন আব্বাস। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) ও পশ্চিম তীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সদস্যদের ভিসা দেওয়া ও বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

এবারও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এসব ভিসা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
ভোটের আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হতে চাইলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ‘সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ’ করতে হবে এবং ‘গুরুতর শাসনের বিকল্প হিসেবে কূটনৈতিক প্রদর্শনী’ বন্ধ করতে হবে।

তবে ফিলিস্তিনি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা করেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির জাতিসংঘ দূত রিয়াদ মানসুর।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার জানায়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ‘আন্তর্জাতিকীকরণের’ চেষ্টার অভিযোগে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগও রয়েছে।

১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের ‘হেডকোয়ার্টার্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ অনুযায়ী, সাধারণত নিউইয়র্কে জাতিসংঘে আসা বিদেশি কূটনীতিকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের অধিকার রয়েছে বলে ওয়াশিংটন জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, আট দশকেরও বেশি সময় পরও বিশ্বের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। যুদ্ধ ও শান্তি, উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবাধিকারসহ সমকালীন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের ক্ষেত্রে এ পরিষদের গুরুত্ব এখনো অটুট রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্সের বরাতে কালের কণ্ঠ