মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানির দাম ২০ টাকা বাড়ানোর পরও ৭০ টাকা লোকসান: রিজভী

জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর পরও সরকারকে ৭০ টাকা লোকসান দিতে হবে বলে দাবি করেছেনপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এ কথা বলেন।

এসময় রুহুল কবির রিজভী সরকারের জনস্বার্থমূলক উদ্যোগগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘সেখানে পতিত স্বৈরাচার থাকতে পারে। আলামত দেখে মনে হচ্ছে নতুন দোসররাও ভূগর্ভস্থ কোনো গোপন কক্ষে বোধ হয় হাত মেলাচ্ছে। আপনারা দেখছেন, ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন জায়গায় যানবাহনে আগুন দেওয়া হচ্ছে। এগুলোও করা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ কোনো গোপন কক্ষে শুধু পরাজিত শক্তি নয়, তার সঙ্গে আরও কেউ কেউ হাত মেলাচ্ছেন কি না এটা জনগণের মধ্যে বড় করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’

জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিকল্প কোনো পথ ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেখানে যেখানে মানুষ কষ্ট পেত সেসব জায়গাগুলো অ্যাড্রেস করেছে এই সরকার এবং সরকার প্রধান তারেক রহমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্য ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এখানে লোকসান যায় প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। এই সময়ে প্রতি মাসে লোকসান ছিল ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। দেশে মোট জ্বালানি তেলের ব্যবহার ৭০ লাখ মেট্রিক টন। যার মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ডিজেলের দাম গতকাল পর্যন্ত লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা ছিল। আর ভারতে প্রায় ১৩৪ টাকা। তেল পাচার হচ্ছে, সেখানে কী করবে সরকার? বাংলাদেশকে এই ডিজেল প্রতি লিটার ২৫০ টাকায় কিনতে হয়। লোকসান হয় ৯০ টাকা। ২০ টাকা বাড়ানোর পরও ৭০ টাকা লোকসান দিতে হবে।’

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখনো জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘জাপানে ১ দশমিক ০২৭ ডলার প্রতি লিটার। বাংলাদেশে ছিল শূন্য দশমিক ৯৩০ ডলার।’

বিরোধীদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এর বিকল্প; কীভাবে (জ্বালানি তেল) এটা কম টাকায় দেওয়া যাবে সেটা আপনারা বলতেন! তা না করে যে লংমার্চ করেছেন বিরোধীদলের নেতারা তাদের দল নিয়ে এবং তারা যে ভাষা ব্যবহার করেছেন বিএনপির প্রধানতম নেতাসহ সরকারের বিরুদ্ধে, এটা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সভ্য লোকের ভাষা হতে পারে না।’

রিজভী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার নিরন্তর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস-জ্বালানি নিয়ে এসে আমাদের ন্যাশনাল গ্রিডে সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। আস্তে আস্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।’

সরকারের এসব উদ্যোগ, আন্তরিকতা, জনগণের স্বার্থে পদক্ষেপগুলোকে ব্যঙ্গ করে, অপপ্রচার ও মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু জনগণ সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়। কখনোই কোনো অপপ্রচারে জনগণের কানকে ভারী করা যায় না।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জ্বালানির দাম ২০ টাকা বাড়ানোর পরও ৭০ টাকা লোকসান: রিজভী

প্রকাশিত সময় : ১০:২০:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর পরও সরকারকে ৭০ টাকা লোকসান দিতে হবে বলে দাবি করেছেনপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এ কথা বলেন।

এসময় রুহুল কবির রিজভী সরকারের জনস্বার্থমূলক উদ্যোগগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘সেখানে পতিত স্বৈরাচার থাকতে পারে। আলামত দেখে মনে হচ্ছে নতুন দোসররাও ভূগর্ভস্থ কোনো গোপন কক্ষে বোধ হয় হাত মেলাচ্ছে। আপনারা দেখছেন, ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন জায়গায় যানবাহনে আগুন দেওয়া হচ্ছে। এগুলোও করা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ কোনো গোপন কক্ষে শুধু পরাজিত শক্তি নয়, তার সঙ্গে আরও কেউ কেউ হাত মেলাচ্ছেন কি না এটা জনগণের মধ্যে বড় করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’

জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিকল্প কোনো পথ ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেখানে যেখানে মানুষ কষ্ট পেত সেসব জায়গাগুলো অ্যাড্রেস করেছে এই সরকার এবং সরকার প্রধান তারেক রহমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্য ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এখানে লোকসান যায় প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। এই সময়ে প্রতি মাসে লোকসান ছিল ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। দেশে মোট জ্বালানি তেলের ব্যবহার ৭০ লাখ মেট্রিক টন। যার মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ডিজেলের দাম গতকাল পর্যন্ত লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা ছিল। আর ভারতে প্রায় ১৩৪ টাকা। তেল পাচার হচ্ছে, সেখানে কী করবে সরকার? বাংলাদেশকে এই ডিজেল প্রতি লিটার ২৫০ টাকায় কিনতে হয়। লোকসান হয় ৯০ টাকা। ২০ টাকা বাড়ানোর পরও ৭০ টাকা লোকসান দিতে হবে।’

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখনো জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘জাপানে ১ দশমিক ০২৭ ডলার প্রতি লিটার। বাংলাদেশে ছিল শূন্য দশমিক ৯৩০ ডলার।’

বিরোধীদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এর বিকল্প; কীভাবে (জ্বালানি তেল) এটা কম টাকায় দেওয়া যাবে সেটা আপনারা বলতেন! তা না করে যে লংমার্চ করেছেন বিরোধীদলের নেতারা তাদের দল নিয়ে এবং তারা যে ভাষা ব্যবহার করেছেন বিএনপির প্রধানতম নেতাসহ সরকারের বিরুদ্ধে, এটা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সভ্য লোকের ভাষা হতে পারে না।’

রিজভী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার নিরন্তর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস-জ্বালানি নিয়ে এসে আমাদের ন্যাশনাল গ্রিডে সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। আস্তে আস্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।’

সরকারের এসব উদ্যোগ, আন্তরিকতা, জনগণের স্বার্থে পদক্ষেপগুলোকে ব্যঙ্গ করে, অপপ্রচার ও মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু জনগণ সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়। কখনোই কোনো অপপ্রচারে জনগণের কানকে ভারী করা যায় না।’