মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিস

দেশের বাজারে ইলিশের লাগামহীন দাম, স্থানীয় চাহিদা ও ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা ইলিশ বিদেশে পুনঃরপ্তানির মাধ্যমে মুনাফা করার অভিযোগও তোলা হয়েছে নোটিসে।

মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এই নোটিস পাঠান।

আইনি নোটিসে ইলিশকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের জন্য মাছটি কেনা কঠিন হয়ে উঠেছে।

নোটিসে আরও দাবি করা হয়, দেশের বাজারে ইলিশের সংকট ও উচ্চমূল্য থাকা সত্ত্বেও অতীতে তুলনামূলক কম দামে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হয়েছে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং স্থানীয় ভোক্তাদের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কম দামে ইলিশ নেওয়ার পর ভারতের কিছু আমদানিকারক সেটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেশি দামে পুনঃরপ্তানি করে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করছে বলেও নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে।

আইনি নোটিসে বলা হয়েছে, ইলিশ রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনই যদি উদ্দেশ্য হয়, তাহলে ভারতীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে আন্তর্জাতিক দামে ইলিশ বিক্রির জন্য স্বচ্ছ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নোটিসে আগামী সাত দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে নতুন কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ, নির্বাহী অনুমোদন বা নীতিগত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ সরবরাহ নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম রাখার উদ্যোগ এবং মধ্যস্বত্বভোগী বাদ দিয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির জন্য একটি স্থায়ী নীতিমালা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।রূপালী বাংলাদেশ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিস

প্রকাশিত সময় : ০৫:৩৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের বাজারে ইলিশের লাগামহীন দাম, স্থানীয় চাহিদা ও ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা ইলিশ বিদেশে পুনঃরপ্তানির মাধ্যমে মুনাফা করার অভিযোগও তোলা হয়েছে নোটিসে।

মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এই নোটিস পাঠান।

আইনি নোটিসে ইলিশকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের জন্য মাছটি কেনা কঠিন হয়ে উঠেছে।

নোটিসে আরও দাবি করা হয়, দেশের বাজারে ইলিশের সংকট ও উচ্চমূল্য থাকা সত্ত্বেও অতীতে তুলনামূলক কম দামে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হয়েছে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং স্থানীয় ভোক্তাদের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কম দামে ইলিশ নেওয়ার পর ভারতের কিছু আমদানিকারক সেটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেশি দামে পুনঃরপ্তানি করে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করছে বলেও নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে।

আইনি নোটিসে বলা হয়েছে, ইলিশ রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনই যদি উদ্দেশ্য হয়, তাহলে ভারতীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে আন্তর্জাতিক দামে ইলিশ বিক্রির জন্য স্বচ্ছ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নোটিসে আগামী সাত দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে নতুন কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ, নির্বাহী অনুমোদন বা নীতিগত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ সরবরাহ নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম রাখার উদ্যোগ এবং মধ্যস্বত্বভোগী বাদ দিয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির জন্য একটি স্থায়ী নীতিমালা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।রূপালী বাংলাদেশ