বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব, বৃষ্টি ঝরবে খুলনা রাজশাহী রংপুরে

দিনভর ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে তান্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে আঘাত করেছে ঝড়টি। ধীরলয়ে উপকূল অতিক্রম করতে গিয়ে দিনভর বাতাস প্রবাহিত হয়েছে এবং বৃষ্টিপাত ঝরিয়েছে। তবে এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হলেও বুধবার রাত থেকে বৃষ্টিপাতের মাত্রা বাড়তে পারে।

বৃষ্টিপাত কোথায় বাড়তে পারে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোকাস্টিং কর্মকর্তা ড. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘ ঘূর্ণিঝড় অর্ণব দুর্বল হয়ে বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে অবস্থান করছে। তবে এটি আজ বুধবার মধ্যরাতের পর স্থল নি-চাপে পরিণত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হবে।’

উত্তর দিকে অগ্রসর হলে বাংলাদেশ উপকূলে কি প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ এর প্রভাবে বুধবার রাত থেকে খুলনা উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়বে। কাল বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় এলাকায় বাড়বে বৃষ্টির তীব্রতা এবং তা শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকতে পারে।’

এসব এলাকা ছাড়া কি অন্য এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে না? এই প্রশ্নের জবাবে ওমর ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত না হলেও দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বেশি বৃস্টিপাত হবে পশ্চিমাঞ্চল এলাকায়।

পশ্চিমাঞ্চলে কেন বেশি হবে এই প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন,‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণব স্থল নি¤œচাপে পরিণত হয়ে উত্তর দিকে ভারতের ওড়িশা উপকূল দিয়ে এগিয়ে আসবে। তখন এর বর্ধিতাংশ থাকবে আমাদের বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল এলাকা। তাই এই এলাকায় বেশি বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।’

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ উপকূলে আঘাতের আগে বাতাসের গতিবেগ ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু উপকূলে আঘাতের আগ মুহুর্তে বাতাসের গতিবেগ কমে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটারে পৌছে বলে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের উপাত্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি উপকূলে আঘাতের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে এক মিটারের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ¡াস দেখা দিয়েছিল। এছাড়া বৃষ্টি ও বাতাসের একটানা গড় গতিবেগ ছিল ১১০ কিলোমিটার।

এবারের ঘূর্ণিঝড় অর্ণন আঘাতের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে অক্টোবর মাসে বিগত ১৩৫ বছরের ইতিহাসে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা হলো ৯৮টি। এরমধ্যে ৭৯টি আঘাত করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে এবং ১৯টির গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ উপকূল। শুধু অক্টোবর নয়, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের ঘূর্ণিঝড়গুলোর বেশিরভাগের গন্তব্য দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল। ১৯৭০ সালের ১৩ নভেম্বরের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় কিন্তু গিয়েছিল ভোলার উপর দিয়ে। এছাড়া ২০০৭ সালের ১৬ নভেম্বরের ‘সিডর’ কিন্তু আঘাত করেছিল বরগুনার উপর দিয়ে। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবরের ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ আঘাত করেছিল ভোলায়। ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত করেছিল খুলনায় এবং ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবরের ‘তিতলি’ আবার ওড়িশার ভুবনেশ^রে আঘাত করেছিল।

উল্লেখ্য,বঙ্গোপসাগরে বর্ষার আগে ( এপ্রিল-মে) ও বর্ষার শেষে (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) এসময়ে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। চলতি মাসের আবহাওয়া দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসেও দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ বা নি¤œচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এদের মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে বলা হয়েছিল। এর আগে গত মাসেও একটি গভীর নি¤œচাপ ভারতের আন্দামান হয়ে মিয়ানমার উপকূলে আঘাত করেছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব, বৃষ্টি ঝরবে খুলনা রাজশাহী রংপুরে

প্রকাশিত সময় : ১০:৫২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দিনভর ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে তান্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে আঘাত করেছে ঝড়টি। ধীরলয়ে উপকূল অতিক্রম করতে গিয়ে দিনভর বাতাস প্রবাহিত হয়েছে এবং বৃষ্টিপাত ঝরিয়েছে। তবে এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হলেও বুধবার রাত থেকে বৃষ্টিপাতের মাত্রা বাড়তে পারে।

বৃষ্টিপাত কোথায় বাড়তে পারে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোকাস্টিং কর্মকর্তা ড. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘ ঘূর্ণিঝড় অর্ণব দুর্বল হয়ে বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে অবস্থান করছে। তবে এটি আজ বুধবার মধ্যরাতের পর স্থল নি-চাপে পরিণত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হবে।’

উত্তর দিকে অগ্রসর হলে বাংলাদেশ উপকূলে কি প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ এর প্রভাবে বুধবার রাত থেকে খুলনা উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়বে। কাল বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় এলাকায় বাড়বে বৃষ্টির তীব্রতা এবং তা শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকতে পারে।’

এসব এলাকা ছাড়া কি অন্য এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে না? এই প্রশ্নের জবাবে ওমর ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত না হলেও দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বেশি বৃস্টিপাত হবে পশ্চিমাঞ্চল এলাকায়।

পশ্চিমাঞ্চলে কেন বেশি হবে এই প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন,‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণব স্থল নি¤œচাপে পরিণত হয়ে উত্তর দিকে ভারতের ওড়িশা উপকূল দিয়ে এগিয়ে আসবে। তখন এর বর্ধিতাংশ থাকবে আমাদের বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল এলাকা। তাই এই এলাকায় বেশি বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।’

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ উপকূলে আঘাতের আগে বাতাসের গতিবেগ ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু উপকূলে আঘাতের আগ মুহুর্তে বাতাসের গতিবেগ কমে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটারে পৌছে বলে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের উপাত্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি উপকূলে আঘাতের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে এক মিটারের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ¡াস দেখা দিয়েছিল। এছাড়া বৃষ্টি ও বাতাসের একটানা গড় গতিবেগ ছিল ১১০ কিলোমিটার।

এবারের ঘূর্ণিঝড় অর্ণন আঘাতের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে অক্টোবর মাসে বিগত ১৩৫ বছরের ইতিহাসে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা হলো ৯৮টি। এরমধ্যে ৭৯টি আঘাত করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে এবং ১৯টির গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ উপকূল। শুধু অক্টোবর নয়, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের ঘূর্ণিঝড়গুলোর বেশিরভাগের গন্তব্য দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল। ১৯৭০ সালের ১৩ নভেম্বরের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় কিন্তু গিয়েছিল ভোলার উপর দিয়ে। এছাড়া ২০০৭ সালের ১৬ নভেম্বরের ‘সিডর’ কিন্তু আঘাত করেছিল বরগুনার উপর দিয়ে। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবরের ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ আঘাত করেছিল ভোলায়। ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত করেছিল খুলনায় এবং ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবরের ‘তিতলি’ আবার ওড়িশার ভুবনেশ^রে আঘাত করেছিল।

উল্লেখ্য,বঙ্গোপসাগরে বর্ষার আগে ( এপ্রিল-মে) ও বর্ষার শেষে (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) এসময়ে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। চলতি মাসের আবহাওয়া দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসেও দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ বা নি¤œচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এদের মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে বলা হয়েছিল। এর আগে গত মাসেও একটি গভীর নি¤œচাপ ভারতের আন্দামান হয়ে মিয়ানমার উপকূলে আঘাত করেছিল।