বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২ শ কোটি রুপির মামলা: নোরাকে নিয়ে যা জানালেন আইনজীবীরা

দুইশো কোটি রুপির চাঁদাবাজির মামলায় বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহিকে অভিযুক্ত হিসেবে তলব করা হয়নি, বরং সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছে। দিল্লির আদালতে তার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে অভিনেত্রীর আইনজীবীরা। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির হতে হবে।

সুকেশ চন্দ্রশেখর-সংশ্লিষ্ট মামলায় নোরাকে অভিযুক্ত হিসেবে তলব করা হয়েছে—বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তার আইনজীবীরা বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তাদের বক্তব্য, নোরা এই মামলার অভিযুক্ত নন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়নি। আদালতকে সহায়তা করার জন্যই তাকে সাক্ষী হিসেবে তলব করা হয়েছে।

কেন আদালতে যাননি নোরা?

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে সুকেশ চন্দ্রশেখর-সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার (ইওডব্লিউ) মামলাটি ওঠে। এদিন সাক্ষী হিসেবে নোরার আদালতে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

তবে, তার আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জানান, খুব অল্প সময় আগে সমন পাওয়ায় এবং আগে থেকে নির্ধারিত পেশাগত ব্যস্ততা থাকায় নোরা হাজির হতে পারেননি। তার ব্যক্তিগত উপস্থিতি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদনও জমা দেওয়া হয়।

এরপর মামলার শুনানি পিছিয়ে ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে ওই দিন আদালতে হাজিরার জন্য নোরার নামে নতুন করে সমন জারি করা হয়েছে।

নোরার অনুপস্থিতি নিয়ে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালত বলে, “তিনি একজন সাক্ষী এবং তার এখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তার আচরণ সন্তোষজনক নয়। আদালতকে হালকাভাবে নেবেন না।”

সুকেশের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা

দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে মামলাটি তদন্ত করছে। এর আগে আদালত সুকেশ, তার স্ত্রী লীনা পল এবং অন্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৭০, ৩৮৪ ও ৩৮৬ ধারায় অভিযোগ গঠন করে। সরকারি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা এবং ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের মতো অপরাধ এসব ধারার আওতাভুক্ত।

এছাড়া, মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অব অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্ট (মকোকা), ১৯৯৯-এর বিধানেও অভিযোগ আনা হয়েছে। সংগঠিত অপরাধচক্র ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল।

পুলিশের চার্জশিটে এর আগে বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ ও নোরা ফাতেহিসহ একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য রেকর্ড করার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

নোরার আইনি দলের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলায় তার ভূমিকা সাক্ষীর। আগামী ৬ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে তিনি বিচার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবেন।

* মানিকন্ট্রোল অবলম্বনে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

২ শ কোটি রুপির মামলা: নোরাকে নিয়ে যা জানালেন আইনজীবীরা

প্রকাশিত সময় : ১১:৪১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

দুইশো কোটি রুপির চাঁদাবাজির মামলায় বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহিকে অভিযুক্ত হিসেবে তলব করা হয়নি, বরং সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছে। দিল্লির আদালতে তার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে অভিনেত্রীর আইনজীবীরা। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির হতে হবে।

সুকেশ চন্দ্রশেখর-সংশ্লিষ্ট মামলায় নোরাকে অভিযুক্ত হিসেবে তলব করা হয়েছে—বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তার আইনজীবীরা বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তাদের বক্তব্য, নোরা এই মামলার অভিযুক্ত নন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়নি। আদালতকে সহায়তা করার জন্যই তাকে সাক্ষী হিসেবে তলব করা হয়েছে।

কেন আদালতে যাননি নোরা?

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে সুকেশ চন্দ্রশেখর-সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার (ইওডব্লিউ) মামলাটি ওঠে। এদিন সাক্ষী হিসেবে নোরার আদালতে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

তবে, তার আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জানান, খুব অল্প সময় আগে সমন পাওয়ায় এবং আগে থেকে নির্ধারিত পেশাগত ব্যস্ততা থাকায় নোরা হাজির হতে পারেননি। তার ব্যক্তিগত উপস্থিতি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদনও জমা দেওয়া হয়।

এরপর মামলার শুনানি পিছিয়ে ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে ওই দিন আদালতে হাজিরার জন্য নোরার নামে নতুন করে সমন জারি করা হয়েছে।

নোরার অনুপস্থিতি নিয়ে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালত বলে, “তিনি একজন সাক্ষী এবং তার এখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তার আচরণ সন্তোষজনক নয়। আদালতকে হালকাভাবে নেবেন না।”

সুকেশের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা

দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে মামলাটি তদন্ত করছে। এর আগে আদালত সুকেশ, তার স্ত্রী লীনা পল এবং অন্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৭০, ৩৮৪ ও ৩৮৬ ধারায় অভিযোগ গঠন করে। সরকারি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা এবং ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের মতো অপরাধ এসব ধারার আওতাভুক্ত।

এছাড়া, মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অব অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্ট (মকোকা), ১৯৯৯-এর বিধানেও অভিযোগ আনা হয়েছে। সংগঠিত অপরাধচক্র ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল।

পুলিশের চার্জশিটে এর আগে বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ ও নোরা ফাতেহিসহ একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য রেকর্ড করার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

নোরার আইনি দলের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলায় তার ভূমিকা সাক্ষীর। আগামী ৬ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে তিনি বিচার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবেন।

* মানিকন্ট্রোল অবলম্বনে