শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুদক পরিচালক মীজানুল বরখাস্ত

এভারকেয়ার হাসপাতালের পরিচালক মাহাবুবুল আনামের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অ‌ভি‌যোগের সত‌্যতা মিলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক খান মো. মীজানুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন স্বাক্ষ‌রিত এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়ে‌ছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেহেতু খান মো. মীজানুল ইসলামের বিরুদ্ধে কমিশনের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এভারকেয়ার হাসপাতালের পরিচালক মাহাবুবুল আনামের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের একটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়। এরপর কমিশনের নির্দেশে গোপন অনুসন্ধানে দেখা যায়, খান মো. মীজানুল ইসলাম ১৭ আগস্ট এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২০ আগস্ট চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেন। চিকিৎসা বাবদ বকেয়া ২ লাখ ৪ হাজার ১৩২ টাকা তিনি নিজে পরিশোধ না করে, কমিশনের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাহাবুবুল আনামের গ্যারান্টির ভিত্তিতে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেন।

অভিযোগের গুরুত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় গত ৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমন কমিটির ০৩/২০২৫ নং সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। সভায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ অনুসারে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ আদেশ জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে। বরখাস্তকালীন তিনি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন

এর আগে, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের গত ২ সেপ্টেম্বর খান মো. মীজানুল ইসলামের চিকিৎসা খরচ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। সেই পোস্টে তিনি হাসপাতালের বিল পরিশোধের নথিপত্রও জুড়ে দিয়ে লেখেন, ‘প্রশ্ন হলো দুদকের মতো একটি সংস্থার পরিচালক, যার অধীন বিভাগ অনুসন্ধান করছে এমন এক ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে কি তা কোনোভাবে নৈতিক হতে পারে? আর যদি তা না হয়, তাহলে দুর্নীতি দমনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারাই যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দোসর হয়ে যায়।

পোস্ট‌টি দেওয়ার পর থে‌কে সমা‌লোচনা শুরু হয়। বিষয়‌টি আম‌লে নি‌য়ে দুদক খান মো. মীজানুল ইসলামকে গত রবিবার দুদকের এনআইএস এবং উন্নয়ন সহযোগী ও সমন্বয় (দেশীয়) বিভাগের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এর একদিন পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

দুদক পরিচালক মীজানুল বরখাস্ত

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৯:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এভারকেয়ার হাসপাতালের পরিচালক মাহাবুবুল আনামের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অ‌ভি‌যোগের সত‌্যতা মিলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক খান মো. মীজানুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন স্বাক্ষ‌রিত এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়ে‌ছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেহেতু খান মো. মীজানুল ইসলামের বিরুদ্ধে কমিশনের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এভারকেয়ার হাসপাতালের পরিচালক মাহাবুবুল আনামের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের একটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়। এরপর কমিশনের নির্দেশে গোপন অনুসন্ধানে দেখা যায়, খান মো. মীজানুল ইসলাম ১৭ আগস্ট এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২০ আগস্ট চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেন। চিকিৎসা বাবদ বকেয়া ২ লাখ ৪ হাজার ১৩২ টাকা তিনি নিজে পরিশোধ না করে, কমিশনের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাহাবুবুল আনামের গ্যারান্টির ভিত্তিতে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেন।

অভিযোগের গুরুত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় গত ৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমন কমিটির ০৩/২০২৫ নং সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। সভায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ অনুসারে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ আদেশ জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে। বরখাস্তকালীন তিনি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন

এর আগে, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের গত ২ সেপ্টেম্বর খান মো. মীজানুল ইসলামের চিকিৎসা খরচ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। সেই পোস্টে তিনি হাসপাতালের বিল পরিশোধের নথিপত্রও জুড়ে দিয়ে লেখেন, ‘প্রশ্ন হলো দুদকের মতো একটি সংস্থার পরিচালক, যার অধীন বিভাগ অনুসন্ধান করছে এমন এক ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে কি তা কোনোভাবে নৈতিক হতে পারে? আর যদি তা না হয়, তাহলে দুর্নীতি দমনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারাই যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দোসর হয়ে যায়।

পোস্ট‌টি দেওয়ার পর থে‌কে সমা‌লোচনা শুরু হয়। বিষয়‌টি আম‌লে নি‌য়ে দুদক খান মো. মীজানুল ইসলামকে গত রবিবার দুদকের এনআইএস এবং উন্নয়ন সহযোগী ও সমন্বয় (দেশীয়) বিভাগের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এর একদিন পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।