বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এ পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ শিশুর মৃত্যু হামের উপসর্গ নিয়ে

হাম বা মিসেলসের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ শিশু মারা গেছে। যাদের সবার বয়স ৬ থেকে ৯ মাস। এদের মধ্যে ৪ জন জেলা হাসপাতালে এবং ২ জন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মারা যায়। এসব মৃত্যুর ঘটনা মার্চ মাসের।

মৃতদের একজনের নমুনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। অন্যদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।
তবে গত দুদিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সামান্য কমেছে। জেলা হাসপাতালে গত ৩১ মার্চ ৭৭ ও ১ এপ্রিল ৬৭ জনের পর গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৮ জন ভর্তি রয়েছে।

এ ছাড়া গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ রোগী ভর্তি রয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলার অন্য হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। অর্থাৎ এখন জেলায় ৬০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
এ অবস্থায় আগামী ৫ এপ্রিল (রবিবার) থেকে সারাদেশের ন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জেও হামের বিশেষ টিকাদান শুরু হবে।

জেলার ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮১৪ জন শিশু এই টিকা পাবে। এই প্রথমবারের মতো ৬ মাস বয়সী শিশুদের এমআর টিকা দেওয়া হবে। এতদিন এটি ৯ মাস বয়স থেকে দেওয়া হতো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কতদিন এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে, তা এখনও বলা হয়নি।

জেলা সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও শিবগঞ্জ উপজেলায় আক্রান্তের হার সবথেকে বেশি।

সিভিল সার্জন ডা. একেএম সাহাবুদ্দীন বলেন, আপাতত নিজস্ব স্টোরের মজুদ থেকে টিকা দেওয়া শুরু হবে। পরে সরবরাহ পেলে সেখান থেকে দেওয়া হবে। ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা এই টিকা পাবে। এখন পর্যন্ত জেলার ২৫ শিশুর ১০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পজিটিভ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান, সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্টরা।

জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়, জেলা হাসপাতালে গত জানুয়ারিতে ২ ও ফেব্রুয়ারিতে ৫ জন রোগী ভর্তির পর হঠাৎ করে মার্চ মাসে রোগী ভর্তি বাড়ে। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৩৩৭ জন রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যার বেশিরভাগই শিশু। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি শিশুর ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পজিটিভ পাওয়া গেছে।

জেলা হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, গত দুদিনে ভর্তি একটু কমেছে। কিন্তু তাতে ভয়াবহতার চিত্র পাল্টায়নি। অনবরত রোগী আসছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫৪ শতাংশ জনবল না থাকা হাসপাতালে কর্মরতদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। বহির্বিভাগেও রোগী আসছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, হামের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ ও ঊর্ধ্বতন মহলে সর্বদা যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এ পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ শিশুর মৃত্যু হামের উপসর্গ নিয়ে

প্রকাশিত সময় : ০৬:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

হাম বা মিসেলসের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ শিশু মারা গেছে। যাদের সবার বয়স ৬ থেকে ৯ মাস। এদের মধ্যে ৪ জন জেলা হাসপাতালে এবং ২ জন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মারা যায়। এসব মৃত্যুর ঘটনা মার্চ মাসের।

মৃতদের একজনের নমুনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। অন্যদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।
তবে গত দুদিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সামান্য কমেছে। জেলা হাসপাতালে গত ৩১ মার্চ ৭৭ ও ১ এপ্রিল ৬৭ জনের পর গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৮ জন ভর্তি রয়েছে।

এ ছাড়া গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ রোগী ভর্তি রয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলার অন্য হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। অর্থাৎ এখন জেলায় ৬০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
এ অবস্থায় আগামী ৫ এপ্রিল (রবিবার) থেকে সারাদেশের ন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জেও হামের বিশেষ টিকাদান শুরু হবে।

জেলার ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮১৪ জন শিশু এই টিকা পাবে। এই প্রথমবারের মতো ৬ মাস বয়সী শিশুদের এমআর টিকা দেওয়া হবে। এতদিন এটি ৯ মাস বয়স থেকে দেওয়া হতো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কতদিন এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে, তা এখনও বলা হয়নি।

জেলা সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও শিবগঞ্জ উপজেলায় আক্রান্তের হার সবথেকে বেশি।

সিভিল সার্জন ডা. একেএম সাহাবুদ্দীন বলেন, আপাতত নিজস্ব স্টোরের মজুদ থেকে টিকা দেওয়া শুরু হবে। পরে সরবরাহ পেলে সেখান থেকে দেওয়া হবে। ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা এই টিকা পাবে। এখন পর্যন্ত জেলার ২৫ শিশুর ১০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পজিটিভ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান, সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্টরা।

জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়, জেলা হাসপাতালে গত জানুয়ারিতে ২ ও ফেব্রুয়ারিতে ৫ জন রোগী ভর্তির পর হঠাৎ করে মার্চ মাসে রোগী ভর্তি বাড়ে। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৩৩৭ জন রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যার বেশিরভাগই শিশু। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি শিশুর ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পজিটিভ পাওয়া গেছে।

জেলা হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, গত দুদিনে ভর্তি একটু কমেছে। কিন্তু তাতে ভয়াবহতার চিত্র পাল্টায়নি। অনবরত রোগী আসছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫৪ শতাংশ জনবল না থাকা হাসপাতালে কর্মরতদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। বহির্বিভাগেও রোগী আসছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, হামের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ ও ঊর্ধ্বতন মহলে সর্বদা যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।