মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপনি মেঘা না?

অভিনয়ে এলেন কিভাবে?

একদম হঠাৎ করেই আসা। ২০২১ সালে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। সুযোগ না পাওয়ায় ভর্তি হয়েছিলাম প্রাণিবিদ্যায়। পড়াশোনার চাপ কিছুটা কম থাকায় ভাবলাম অন্য কিছু করি।

পরের বছর জানতে পারলাম মিফতা আনান ভাই ‘ডিস্টার্ব মি’ নামের একটি নাটক নির্মাণ করবেন। সেখানে কয়েকজন অতিরিক্ত শিল্পী লাগবে; যাকে বলে ‘পাসিং শট’। ভাবলাম লাইনে দাঁড়িয়ে যাই। গেলাম সেটে, কিন্তু ভাগ্য যে ঘুরে যাবে বুঝতে পারিনি।

নাটকের প্রধান অভিনেত্রী কেয়া পায়েল আপুর সঙ্গে প্যারালাল একটি চরিত্র করার জন্য নির্মাতা একজনকে ভেবে রেখেছিলেন। কিন্তু শুটিংয়ের দিন তিনি বাদ পড়ে যান। মিফতা ভাই তখন আমার অডিশন নিলেন। সে চরিত্রটি পরে আমি করলাম।

মাত্র কয়েক দিনে নাটকটির এক কোটির বেশি ভিউ হয়ে গেল। মিফতা ভাই আমার কথা জাহিদ প্রীতম ভাইকে বললেন। পরে জাহিদ প্রীতম ভাইয়ের নাটক ‘মেময়ার অব লাভ’, মিজানুর রহমান আরিয়ান ভাইয়ের ওয়েব ছবি ‘পুনর্মিলনে’ করলাম। অনম বিশ্বাস ভাইয়ের পরিচালনায় গ্রামীণ ফোন এবং একটি ইনস্যুরেন্সের বিজ্ঞাপনচিত্রও করলাম। এই তো! এভাবেই শোবিজে পথচলা শুরু।

দীপ্ত টিভির ‘স্টার হান্ট’ প্রতিযোগিতায়ও তো অংশ নিয়েছিলেন?

হ্যাঁ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। দীপ্ত টিভিরই একজন পরিচিত ভাই আমাকে রেজিস্ট্রেশন করার কথা বলেছিলেন। প্রতিযোগিতায় আমি সেরা ১২-তে ছিলাম। বিশ্বাস ছিল, সেরা তিনে জায়গা করে নিতে পারব। সেটা যখন হলো না, খুব মন খারাপ হয়েছিল। তবে হাল ছেড়ে দিইনি। দীপ্ত টিভির বিভিন্ন ধারাবাহিক নাটকের জন্য অডিশন দিতাম। কয়েকটি নাটকে সিলেক্ট হলেও চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় করিনি। শেষে ‘পরম্পরা’র জন্য নির্বাচিত হয়েছি।

‘পরম্পরা’র মেঘাকে পছন্দ করছে দর্শক। পর্দার মেঘা হতে কেমন প্রস্তুতি নিয়েছেন?

আমার চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। বাস্তবে আমি যেমন, মেঘা ঠিক তার উল্টো মেরুর। মনমরা একটি মেয়ে মেঘা। তার বাবা নেই, মা নির্যাতিতা। ফলে তার মুখে হাসি নেই, চপলতা নেই। বাস্তবে আমি অনেক কথা বলি, সারাক্ষণ নেচেগেয়ে বাড়ি মাথায় করে রাখি। তবে পর্দায় সত্যিকারের মেঘা হয়ে ওঠার জন্য সব সময় লেগে থাকি। চরিত্রটি মনের মধ্যে ধারণ করি। দর্শক আমাকে মেঘা হিসেবে মেনেও নিয়েছে। কিছুদিন আগে লাজ ফার্মায় গিয়েছিলাম ওষুধ কিনতে। সেখানকার সেলসম্যান আমাকে চিনতে পেরে বলেন, ‘আপনি মেঘা না!’ আমি খুশি হয়েছিলাম অনেক। পহেলা বৈশাখের জন্য চুড়ি কিনতে গিয়েছি এক দোকানে, সেখানেও মানুষ আমাকে মেঘা বলে ডেকেছে। এই যে আমার আসল নামকে ছাপিয়ে চরিত্রের নামে পরিচিতি পেলাম, এটা অনেক আনন্দের।

আর কোনো নাটক করছেন?

‘পরম্পরা’র শুটিং নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। ঈদের পর থেকেই টানা শুটিং। তবে এর মধ্যে একটা একক নাটক করেছি আলোক হাসানের। আমার সহশিল্পীও নতুন, নাম শুভ। নাটকটি সম্ভবত কোরবানির ঈদে আসবে। আরো কিছু কাজের প্রস্তাব আছে। দেখি, করার সুযোগ পাই কি না!

ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

অবশ্যই ভালো অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চাই। দেখুন, ‘ডিস্টার্ব মি’, কিংবা ‘মেময়ার অব লাভ’ লাখ লাখ মানুষ দেখেছে; কিন্তু দিন শেষে নাটকগুলো আমার নয়। সেখানে তৌসিফ মাহবুব, কেয়া পায়েল, তানজিন তিশার মতো স্টাররা ছিলেন। যখন নিজে এ রকম হিট নাটক দিতে পারব, নিজের নামে কনটেন্ট চলবে—তখন তৃপ্তি পাব। সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।-কালের কণ্ঠ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

আপনি মেঘা না?

প্রকাশিত সময় : ০৫:০৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

অভিনয়ে এলেন কিভাবে?

একদম হঠাৎ করেই আসা। ২০২১ সালে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। সুযোগ না পাওয়ায় ভর্তি হয়েছিলাম প্রাণিবিদ্যায়। পড়াশোনার চাপ কিছুটা কম থাকায় ভাবলাম অন্য কিছু করি।

পরের বছর জানতে পারলাম মিফতা আনান ভাই ‘ডিস্টার্ব মি’ নামের একটি নাটক নির্মাণ করবেন। সেখানে কয়েকজন অতিরিক্ত শিল্পী লাগবে; যাকে বলে ‘পাসিং শট’। ভাবলাম লাইনে দাঁড়িয়ে যাই। গেলাম সেটে, কিন্তু ভাগ্য যে ঘুরে যাবে বুঝতে পারিনি।

নাটকের প্রধান অভিনেত্রী কেয়া পায়েল আপুর সঙ্গে প্যারালাল একটি চরিত্র করার জন্য নির্মাতা একজনকে ভেবে রেখেছিলেন। কিন্তু শুটিংয়ের দিন তিনি বাদ পড়ে যান। মিফতা ভাই তখন আমার অডিশন নিলেন। সে চরিত্রটি পরে আমি করলাম।

মাত্র কয়েক দিনে নাটকটির এক কোটির বেশি ভিউ হয়ে গেল। মিফতা ভাই আমার কথা জাহিদ প্রীতম ভাইকে বললেন। পরে জাহিদ প্রীতম ভাইয়ের নাটক ‘মেময়ার অব লাভ’, মিজানুর রহমান আরিয়ান ভাইয়ের ওয়েব ছবি ‘পুনর্মিলনে’ করলাম। অনম বিশ্বাস ভাইয়ের পরিচালনায় গ্রামীণ ফোন এবং একটি ইনস্যুরেন্সের বিজ্ঞাপনচিত্রও করলাম। এই তো! এভাবেই শোবিজে পথচলা শুরু।

দীপ্ত টিভির ‘স্টার হান্ট’ প্রতিযোগিতায়ও তো অংশ নিয়েছিলেন?

হ্যাঁ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। দীপ্ত টিভিরই একজন পরিচিত ভাই আমাকে রেজিস্ট্রেশন করার কথা বলেছিলেন। প্রতিযোগিতায় আমি সেরা ১২-তে ছিলাম। বিশ্বাস ছিল, সেরা তিনে জায়গা করে নিতে পারব। সেটা যখন হলো না, খুব মন খারাপ হয়েছিল। তবে হাল ছেড়ে দিইনি। দীপ্ত টিভির বিভিন্ন ধারাবাহিক নাটকের জন্য অডিশন দিতাম। কয়েকটি নাটকে সিলেক্ট হলেও চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় করিনি। শেষে ‘পরম্পরা’র জন্য নির্বাচিত হয়েছি।

‘পরম্পরা’র মেঘাকে পছন্দ করছে দর্শক। পর্দার মেঘা হতে কেমন প্রস্তুতি নিয়েছেন?

আমার চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। বাস্তবে আমি যেমন, মেঘা ঠিক তার উল্টো মেরুর। মনমরা একটি মেয়ে মেঘা। তার বাবা নেই, মা নির্যাতিতা। ফলে তার মুখে হাসি নেই, চপলতা নেই। বাস্তবে আমি অনেক কথা বলি, সারাক্ষণ নেচেগেয়ে বাড়ি মাথায় করে রাখি। তবে পর্দায় সত্যিকারের মেঘা হয়ে ওঠার জন্য সব সময় লেগে থাকি। চরিত্রটি মনের মধ্যে ধারণ করি। দর্শক আমাকে মেঘা হিসেবে মেনেও নিয়েছে। কিছুদিন আগে লাজ ফার্মায় গিয়েছিলাম ওষুধ কিনতে। সেখানকার সেলসম্যান আমাকে চিনতে পেরে বলেন, ‘আপনি মেঘা না!’ আমি খুশি হয়েছিলাম অনেক। পহেলা বৈশাখের জন্য চুড়ি কিনতে গিয়েছি এক দোকানে, সেখানেও মানুষ আমাকে মেঘা বলে ডেকেছে। এই যে আমার আসল নামকে ছাপিয়ে চরিত্রের নামে পরিচিতি পেলাম, এটা অনেক আনন্দের।

আর কোনো নাটক করছেন?

‘পরম্পরা’র শুটিং নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। ঈদের পর থেকেই টানা শুটিং। তবে এর মধ্যে একটা একক নাটক করেছি আলোক হাসানের। আমার সহশিল্পীও নতুন, নাম শুভ। নাটকটি সম্ভবত কোরবানির ঈদে আসবে। আরো কিছু কাজের প্রস্তাব আছে। দেখি, করার সুযোগ পাই কি না!

ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

অবশ্যই ভালো অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চাই। দেখুন, ‘ডিস্টার্ব মি’, কিংবা ‘মেময়ার অব লাভ’ লাখ লাখ মানুষ দেখেছে; কিন্তু দিন শেষে নাটকগুলো আমার নয়। সেখানে তৌসিফ মাহবুব, কেয়া পায়েল, তানজিন তিশার মতো স্টাররা ছিলেন। যখন নিজে এ রকম হিট নাটক দিতে পারব, নিজের নামে কনটেন্ট চলবে—তখন তৃপ্তি পাব। সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।-কালের কণ্ঠ