আমর ইবনু তাগলিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার মহানবী (সা.)-এর কাছে যুদ্ধলব্ধ মাল বা যুদ্ধবন্দিদের আনা হয়। তখন মহানবী (সা.) সেসব সম্পদ কিছু সাহাবিদের মাছে বণ্টন করে দেন আর এমন অনেকে ছিলেন যাদের তিনি কিছুই দেননি। যাদের কিছুই দেওয়া হয়নি তাদের অসন্তুষ্টির ব্যাপারে মহানবী (সা.) জানতে পারেন। তিনি ভাষণ দিতে দাঁড়ান, প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করেন, তারপর বলেন, হামদ ও সালাতের পর কথা এই যে, ওয়াল্লাহি (আল্লাহ কসম), আমি কাউকে কিছু দিই, আবার কাউকে কিছু দেওয়া থেকে বিরত থাকি।
যাকে কিছু দিই না, তারা যাদের দিই তাদের থেকে আমার কাছে প্রিয়। আমি কিছু লোককে তাদের অন্তরের অস্থিরতা ও পেরেশানি দেখে দান করে থাকি। আর কিছু লোককে আল্লাহর দানকৃত অন্তরের ধনাঢ্যতা-কল্যাণের কাছেই সমর্পণ করি। আর আমর ইবনে তাগলিব তাদের একজন।
একথা শোনে আমর ইবনে তাগলিব বলেন, ওয়াল্লাহি (আল্লাহ কসম), আমি মহানবী (সা.)-এর এ কথার কারণে লাল উট গ্রহণ করাও পছন্দ করি না। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৯২৩)
শিক্ষা ও বিধান
১. মহানবী (সা.) দাওয়াহ, নেতৃত্ব বা সামাজিক আচরণে মানুষের মানসিক অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতেন। তাই মানুষের অন্তরের অবস্থা বিবেচনা করে মানুষের সঙ্গে আচরণ করা উচিত
২. নতুন মুসলিম বা দুর্বল ঈমানের ব্যক্তিদের সাহায্য-সহযোগিতা করা এবং উৎসাহ দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
৩. প্রকৃত সম্পদ হলো অন্তরের ধনাঢ্যতা । তাই ধন-সম্পদ নয়, বরং আত্মতুষ্টি ও আল্লাহর উপর ভরসাই আসল সম্পদ
৪. দুনিয়ার সম্পদের চেয়ে নবিজির প্রশংসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অনেক বড় নিয়ামত।
৫. নেতৃত্বে প্রজ্ঞা ও ন্যায়বিচার প্রয়োজন। আর সবসময় সমান ভাগ মানেই ন্যায় নয়; বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্তই প্রকৃত ন্যায়।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























