রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ শহীদ মিনারসহ তিন স্থানে জানাজা হবে কারিনা কায়সারের

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে তিনটি আলাদা স্থানে। আজ রোববার রাত ১০টায় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

কারিনা কায়সার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর অকালপ্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে।

রোববার (১৭ মে) ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে কারিনা কায়সারের জানাজার তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দেশের সর্বস্তরের জনগণকে, বিশেষ করে জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের কারিনার জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে শরিক হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

পারিবারিক ও সহযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ রোববার কারিনা কায়সারের মোট তিনটি জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামীকাল সোমবার তাঁকে দাফন করা হবে।

প্রথম জানাজা: বাদ মাগরিব বনানী ডিওএইচএস মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বিতীয় জানাজা: বাদ এশা বনানী দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হবে।

তৃতীয় জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা: আজ রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁর শেষ জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।

ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘আমাদের জুলাইয়ের সহযোদ্ধা কারিনা কায়সার চিরতরে বিদায় নিয়েছেন। আজ (রবিবার) তাঁর জানাজা এবং কাল দাফন হবে। সকলকে যার যার সুবিধা অনুযায়ী জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বিশেষ করে আজ রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জানাজায় সবাইকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা সবাই উপস্থিত থাকবো। জুলাইয়ের সকল সহযোদ্ধা, ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সহযোদ্ধা কারিনা কায়সারকে শেষ বিদায় জানাবো।’

লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় গত শুক্রবার ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১১ মে) তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

কারিনার বয়স হয়েছিল ৩১ বছর। তিনি মা-বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তাঁর দাদি। তাঁর বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক কায়সার হামিদ।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সম্প্রতি অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা কায়সার। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬ ’।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আজ শহীদ মিনারসহ তিন স্থানে জানাজা হবে কারিনা কায়সারের

প্রকাশিত সময় : ০৬:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে তিনটি আলাদা স্থানে। আজ রোববার রাত ১০টায় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

কারিনা কায়সার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর অকালপ্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে।

রোববার (১৭ মে) ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে কারিনা কায়সারের জানাজার তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দেশের সর্বস্তরের জনগণকে, বিশেষ করে জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের কারিনার জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে শরিক হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

পারিবারিক ও সহযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ রোববার কারিনা কায়সারের মোট তিনটি জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামীকাল সোমবার তাঁকে দাফন করা হবে।

প্রথম জানাজা: বাদ মাগরিব বনানী ডিওএইচএস মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বিতীয় জানাজা: বাদ এশা বনানী দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হবে।

তৃতীয় জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা: আজ রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁর শেষ জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।

ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘আমাদের জুলাইয়ের সহযোদ্ধা কারিনা কায়সার চিরতরে বিদায় নিয়েছেন। আজ (রবিবার) তাঁর জানাজা এবং কাল দাফন হবে। সকলকে যার যার সুবিধা অনুযায়ী জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বিশেষ করে আজ রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জানাজায় সবাইকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা সবাই উপস্থিত থাকবো। জুলাইয়ের সকল সহযোদ্ধা, ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সহযোদ্ধা কারিনা কায়সারকে শেষ বিদায় জানাবো।’

লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় গত শুক্রবার ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১১ মে) তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

কারিনার বয়স হয়েছিল ৩১ বছর। তিনি মা-বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তাঁর দাদি। তাঁর বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক কায়সার হামিদ।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সম্প্রতি অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা কায়সার। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬ ’।