প্রকাশিত সময় :
০৯:০১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
১০
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর স্পিডবোটে হামলা চালিয়েছে। বন্দার আব্বাস বন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার এ হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা কাতারে পৌঁছান, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা আলোচনাকে আবার এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসএনএন জানায়, লারাক দ্বীপের দক্ষিণে, হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে আইআরজিসি নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত তিনজন ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে আরও বলা হয়, বন্দার আব্বাস এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে, যেখানে ইরানের একটি নৌঘাঁটি অবস্থিত।
আল জাজিরার সাংবাদিক আলী হাসেম এক ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আইআরজিসি একটি অজ্ঞাত জাহাজকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। ওই সূত্র আরও জানায়, বন্দার আব্বাসের কাছে গুলির শব্দও শোনা গেছে।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা “আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়েছে, যাতে ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের রক্ষা করা যায়।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লক্ষ্যবস্তু ছিল ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং “মাইন স্থাপনের চেষ্টা করা ইরানি নৌযান”।
এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী সতর্ক করেছিল যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানি হামলা হলে তারা হস্তক্ষেপ করবে।
ইরান ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর “শত্রু দেশগুলোর” জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দেয়। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয়।
এপ্রিলের ৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয়, তা এখনো মোটামুটি কার্যকর আছে—যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান তার শর্ত না মানলে আবার বোমা হামলা শুরু করা হবে।