মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমির হামজার শ্যালক ও চালককে মারধরের ঘটনায় মামলা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় গাড়ি সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার শ্যালক ও তাঁর গাড়িচালকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১-২ জনকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সোলাইমান শেখ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার রাতে সংসদ সদস্যের শ্যালক ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে এই এজাহার দায়ের করেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারপাড়ার মোস্তাক হোসেন, হাসাদাহ গ্রামের রিমন হোসেন এবং পুরন্দরপুর গ্রামের মাশরুল মুহিব।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সংসদ সদস্য আমির হামজা পৃথক একটি গাড়িতে ছিলেন। অন্য একটি গাড়িতে ছিলেন তাঁর স্ত্রী তামান্না সুলতানা তানি, দুই সন্তান এবং শ্যালক আবু বক্কর সিদ্দিক। তাঁরা ঝিনাইদহের মহেশপুরের একটি কর্মসূচি শেষে জীবননগরের দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি হাসাদাহ বাজারের প্রধান সড়কের সংযোগস্থলে পৌঁছালে একটি ইজিবাইক রাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে থাকায় তাঁদের গাড়ির গতি থেমে যায়। বারবার হর্ন দেওয়ার পরও ইজিবাইকটি না সরানোয় চালক সাদ্দাম হোসেন নিচে নেমে কথা বললে ইজিবাইক চালকের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে এমপির শ্যালক আবু বক্কর সিদ্দিক গাড়ি থেকে নামলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের পথরোধ করে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্ত মোস্তাক, রিমন ও মাশরুল দলবদ্ধভাবে আবু বক্কর সিদ্দিক এবং গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেনকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে জখম করেন। এ সময় গাড়িতে থাকা এমপির স্ত্রী নিজের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে, অভিযুক্তরা তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে পেছনে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পর আহতরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

প্রশাসনে বড় রদবদল, প্রজ্ঞাপন জারি

আমির হামজার শ্যালক ও চালককে মারধরের ঘটনায় মামলা

প্রকাশিত সময় : ০৪:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় গাড়ি সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার শ্যালক ও তাঁর গাড়িচালকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১-২ জনকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সোলাইমান শেখ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার রাতে সংসদ সদস্যের শ্যালক ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে এই এজাহার দায়ের করেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারপাড়ার মোস্তাক হোসেন, হাসাদাহ গ্রামের রিমন হোসেন এবং পুরন্দরপুর গ্রামের মাশরুল মুহিব।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সংসদ সদস্য আমির হামজা পৃথক একটি গাড়িতে ছিলেন। অন্য একটি গাড়িতে ছিলেন তাঁর স্ত্রী তামান্না সুলতানা তানি, দুই সন্তান এবং শ্যালক আবু বক্কর সিদ্দিক। তাঁরা ঝিনাইদহের মহেশপুরের একটি কর্মসূচি শেষে জীবননগরের দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি হাসাদাহ বাজারের প্রধান সড়কের সংযোগস্থলে পৌঁছালে একটি ইজিবাইক রাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে থাকায় তাঁদের গাড়ির গতি থেমে যায়। বারবার হর্ন দেওয়ার পরও ইজিবাইকটি না সরানোয় চালক সাদ্দাম হোসেন নিচে নেমে কথা বললে ইজিবাইক চালকের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে এমপির শ্যালক আবু বক্কর সিদ্দিক গাড়ি থেকে নামলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের পথরোধ করে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্ত মোস্তাক, রিমন ও মাশরুল দলবদ্ধভাবে আবু বক্কর সিদ্দিক এবং গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেনকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে জখম করেন। এ সময় গাড়িতে থাকা এমপির স্ত্রী নিজের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে, অভিযুক্তরা তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে পেছনে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পর আহতরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।