শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফিতে কত ভরি সোনা থাকে, দাম কত?

চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে উত্তেজনা। অনেকের ধারণা, এটি হতে পারে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। একইভাবে নেইমারের ব্রাজিল নিয়েও রয়েছে জোর আলোচনা। সম্ভাব্য শিরোপা দাবিদার হিসেবে উঠে আসছে ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের নামও। এমন পরিস্থিতিতে ৪৮টি দেশ মাঠে নামছে বিশ্বজয়ের লক্ষ্য নিয়ে।

এই আবহে ফুটবলপ্রেমীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি প্রশ্ন- ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির আসল মূল্য কত? এতে আসলে কতটা সোনা ব্যবহার করা হয়?

ট্রফিতে কত সোনা থাকে?

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির উচ্চতা প্রায় ৩৭ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ১৩ সেন্টিমিটার। এর মোট ওজন প্রায় ৬ কিলোগ্রাম। ট্রফিটি মূলত ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি।

নকশায় দেখা যায়, দুইজন মানুষ পৃথিবীকে উপরে তুলে ধরছে—যা বিশ্বব্যাপী ফুটবলের ঐক্য ও জনপ্রিয়তাকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করে।

প্রায় ৬১৭৫ গ্রাম সোনা ব্যবহার করে তৈরি এই ট্রফি। বাংলাদেশি হিসাব অনুযায়ী এটি প্রায় ৬১৭ ভরি ৫ গ্রাম সোনার সমান।

ট্রফির বাজারমূল্য কত?

আবেগের দিক থেকে এই ট্রফি অমূল্য হলেও, উপাদানের ভিত্তিতে এর একটি আনুমানিক বাজারমূল্য রয়েছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী শুধুমাত্র সোনার দাম ধরলে ট্রফিটির মূল্য প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকারও বেশি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সোনার বাজারদর বৃদ্ধি এবং ট্রফির সূক্ষ্ম কারুকাজ বিবেচনায় নিলে এর প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় আরও বেশি হতে পারে। এমনকি যদি কখনও এটি নিলামে ওঠে, তাহলে এর দাম কয়েকগুণ বেড়ে ২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।

ট্রফির ইতিহাস

বিশ্বকাপ ট্রফির বর্তমান নকশা তৈরি করেন ইতালিয়ান শিল্পী সিলভিও গাজানিগা। ১৯৭০ সালে ফিফা নতুন ট্রফির জন্য আন্তর্জাতিক ডিজাইন প্রতিযোগিতা আয়োজন করে, যেখানে তার নকশাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়।

এর আগে বিশ্বকাপে দেওয়া হতো ‘জুলে রিমে ট্রফি’। ১৯৭০ সালের পর সেই ট্রফি স্থায়ীভাবে ব্রাজিলকে প্রদান করা হয়। এরপর থেকে গাজানিগার তৈরি এই সোনালি ট্রফিই ফুটবল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গৌরবের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফিতে কত ভরি সোনা থাকে, দাম কত?

প্রকাশিত সময় : ০৯:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে উত্তেজনা। অনেকের ধারণা, এটি হতে পারে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। একইভাবে নেইমারের ব্রাজিল নিয়েও রয়েছে জোর আলোচনা। সম্ভাব্য শিরোপা দাবিদার হিসেবে উঠে আসছে ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের নামও। এমন পরিস্থিতিতে ৪৮টি দেশ মাঠে নামছে বিশ্বজয়ের লক্ষ্য নিয়ে।

এই আবহে ফুটবলপ্রেমীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি প্রশ্ন- ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির আসল মূল্য কত? এতে আসলে কতটা সোনা ব্যবহার করা হয়?

ট্রফিতে কত সোনা থাকে?

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির উচ্চতা প্রায় ৩৭ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ১৩ সেন্টিমিটার। এর মোট ওজন প্রায় ৬ কিলোগ্রাম। ট্রফিটি মূলত ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি।

নকশায় দেখা যায়, দুইজন মানুষ পৃথিবীকে উপরে তুলে ধরছে—যা বিশ্বব্যাপী ফুটবলের ঐক্য ও জনপ্রিয়তাকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করে।

প্রায় ৬১৭৫ গ্রাম সোনা ব্যবহার করে তৈরি এই ট্রফি। বাংলাদেশি হিসাব অনুযায়ী এটি প্রায় ৬১৭ ভরি ৫ গ্রাম সোনার সমান।

ট্রফির বাজারমূল্য কত?

আবেগের দিক থেকে এই ট্রফি অমূল্য হলেও, উপাদানের ভিত্তিতে এর একটি আনুমানিক বাজারমূল্য রয়েছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী শুধুমাত্র সোনার দাম ধরলে ট্রফিটির মূল্য প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকারও বেশি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সোনার বাজারদর বৃদ্ধি এবং ট্রফির সূক্ষ্ম কারুকাজ বিবেচনায় নিলে এর প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় আরও বেশি হতে পারে। এমনকি যদি কখনও এটি নিলামে ওঠে, তাহলে এর দাম কয়েকগুণ বেড়ে ২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।

ট্রফির ইতিহাস

বিশ্বকাপ ট্রফির বর্তমান নকশা তৈরি করেন ইতালিয়ান শিল্পী সিলভিও গাজানিগা। ১৯৭০ সালে ফিফা নতুন ট্রফির জন্য আন্তর্জাতিক ডিজাইন প্রতিযোগিতা আয়োজন করে, যেখানে তার নকশাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়।

এর আগে বিশ্বকাপে দেওয়া হতো ‘জুলে রিমে ট্রফি’। ১৯৭০ সালের পর সেই ট্রফি স্থায়ীভাবে ব্রাজিলকে প্রদান করা হয়। এরপর থেকে গাজানিগার তৈরি এই সোনালি ট্রফিই ফুটবল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গৌরবের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।