সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেটলাইফে ব্রাজিলকে রুখে দিল মরক্কো, ১-১ ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি

নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮২ হাজার দর্শকের সামনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করেছে। ১০০ মিনিটেরও বেশি সময়ের লড়াই শেষে কোনো দলই জয়ের দেখা না পাওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। তাদের সেই আগ্রাসনের ফল আসে ১৭ মিনিটে। ব্রাহিম দিয়াজের দুর্দান্ত থ্রু পাস থেকে আলিসনকে একা পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান আবদে সাইবারি। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে করা এই গোলে এগিয়ে যায় আটলাস লায়ন্সরা।

তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ৩২ মিনিটে রাফিনহার পাস থেকে বক্সের বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে ডান পায়ের চমৎকার কার্লড শটে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বউনো চেষ্টা করেও বল ঠেকাতে পারেননি। ব্রাজিলের জার্সিতে এটি ছিল ভিনিসিয়ুসের ৫০তম ম্যাচ, যা তিনি স্মরণীয় করে রাখলেন একটি দুর্দান্ত গোল দিয়ে।

প্রথমার্ধের শেষদিকে ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো ও ইবানিয়েজ হলুদ কার্ড দেখেন। অতিরিক্ত সময়ে লুকাস পাকেতার অ্যাক্রোবেটিক সিজার কিক অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন বউনো। ফলে ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। কোচ কার্লো আনচেলোত্তি কার্ডের ঝুঁকিতে থাকা ক্যাসেমিরো ও ইবানিয়েজকে তুলে ফাবিনহো এবং দানিলোকে মাঠে নামান। এরপর বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে সেলেসাওরা।

৬৭ মিনিটে গুইমারেসের ক্রস থেকে রাফিনহা অল্পের জন্য সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ৭৮ মিনিটে তার শক্তিশালী শটও রুখে দেন বউনো। অন্যদিকে ম্যাচের শেষভাগে ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসনকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করতে হয় মরক্কোর আক্রমণ ঠেকাতে।

ম্যাচে ভিএআরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেষদিকে ব্রাজিলের একটি কর্নারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে প্রযুক্তি, কারণ রিপ্লেতে দেখা যায় বল সর্বশেষ স্পর্শ করেছিলেন ব্রাজিলেরই একজন খেলোয়াড়।

পরিসংখ্যানেও ছিল লড়াইয়ের প্রতিফলন। প্রথমার্ধে মরক্কোর এক্সপেক্টেড গোল (xG) ছিল ১.২২, যেখানে ব্রাজিলের ছিল ০.৮৫। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত কোনো দলই নির্ণায়ক গোল আদায় করতে না পারায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।

এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-তে দুই দলেরই পরবর্তী ম্যাচগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় না পেলে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করা কঠিন হয়ে পড়বে ব্রাজিল ও মরক্কো—দুই দলের জন্যই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মেটলাইফে ব্রাজিলকে রুখে দিল মরক্কো, ১-১ ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৯:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮২ হাজার দর্শকের সামনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করেছে। ১০০ মিনিটেরও বেশি সময়ের লড়াই শেষে কোনো দলই জয়ের দেখা না পাওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। তাদের সেই আগ্রাসনের ফল আসে ১৭ মিনিটে। ব্রাহিম দিয়াজের দুর্দান্ত থ্রু পাস থেকে আলিসনকে একা পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান আবদে সাইবারি। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে করা এই গোলে এগিয়ে যায় আটলাস লায়ন্সরা।

তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ৩২ মিনিটে রাফিনহার পাস থেকে বক্সের বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে ডান পায়ের চমৎকার কার্লড শটে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বউনো চেষ্টা করেও বল ঠেকাতে পারেননি। ব্রাজিলের জার্সিতে এটি ছিল ভিনিসিয়ুসের ৫০তম ম্যাচ, যা তিনি স্মরণীয় করে রাখলেন একটি দুর্দান্ত গোল দিয়ে।

প্রথমার্ধের শেষদিকে ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো ও ইবানিয়েজ হলুদ কার্ড দেখেন। অতিরিক্ত সময়ে লুকাস পাকেতার অ্যাক্রোবেটিক সিজার কিক অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন বউনো। ফলে ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। কোচ কার্লো আনচেলোত্তি কার্ডের ঝুঁকিতে থাকা ক্যাসেমিরো ও ইবানিয়েজকে তুলে ফাবিনহো এবং দানিলোকে মাঠে নামান। এরপর বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে সেলেসাওরা।

৬৭ মিনিটে গুইমারেসের ক্রস থেকে রাফিনহা অল্পের জন্য সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ৭৮ মিনিটে তার শক্তিশালী শটও রুখে দেন বউনো। অন্যদিকে ম্যাচের শেষভাগে ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসনকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করতে হয় মরক্কোর আক্রমণ ঠেকাতে।

ম্যাচে ভিএআরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেষদিকে ব্রাজিলের একটি কর্নারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে প্রযুক্তি, কারণ রিপ্লেতে দেখা যায় বল সর্বশেষ স্পর্শ করেছিলেন ব্রাজিলেরই একজন খেলোয়াড়।

পরিসংখ্যানেও ছিল লড়াইয়ের প্রতিফলন। প্রথমার্ধে মরক্কোর এক্সপেক্টেড গোল (xG) ছিল ১.২২, যেখানে ব্রাজিলের ছিল ০.৮৫। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত কোনো দলই নির্ণায়ক গোল আদায় করতে না পারায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।

এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-তে দুই দলেরই পরবর্তী ম্যাচগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় না পেলে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করা কঠিন হয়ে পড়বে ব্রাজিল ও মরক্কো—দুই দলের জন্যই।