রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেনিতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা-দোকানে আড্ডা ও ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ

ফেনীতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের শহরে অযথা ঘোরাঘুরি, চায়ের দোকানে অবস্থান ও আড্ডা নিরুৎসাহিত করতে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় মাইকিং করে এ বিষয়ে জনসাধারণকে অবহিত করা হয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মাইকিংয়ে জানানো হয়, জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাগরিবের পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান, চা-দোকানে আড্ডা বা উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি থেকে বিরত থাকতে হবে। এ সময় অভিভাবকদেরও সন্তানদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, এ নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও জনসাধারণকে জনসচেতনতা ও পরামর্শমূলক প্রচারণা করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির পরে কেউ প্রতিষ্ঠান আঙিনায় অবস্থান না করে সে জন্য জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রচারণা চালানোর জন্য তথ্য অফিসারকে বলা হয়েছে।

সে হিসেবে তথ্য অফিস শহরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করার কথা। তারা না-বুঝে ভিন্নভাবে মাইকিং করেছে। যেটি কারফিউর মতো হয়ে গেছে। যেটা সঠিক নয়। সেটি কারেকশন করে আজ শনিবার পুনরায় মাইকিং ও প্রচারণা করতে বলা হয়েছে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যাপারটি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, এটি কোনো দমনমূলক সিদ্ধান্ত নয়। শিক্ষার্থী বাইরে বের হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বিষয়টি এমনও নয়। মূল লক্ষ্য হলো, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমানো, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং শিক্ষার্থীদের মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করতে নিরুৎসাহিত করা। জেলা প্রশাসনের তদারকি দল মাঠে কাজ করবে। পাশাপাশি পুলিশও বিষয়টি নজরদারি করবে বলে তিনি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ফেনিতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা-দোকানে আড্ডা ও ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ

প্রকাশিত সময় : ০৫:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
ফেনীতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের শহরে অযথা ঘোরাঘুরি, চায়ের দোকানে অবস্থান ও আড্ডা নিরুৎসাহিত করতে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় মাইকিং করে এ বিষয়ে জনসাধারণকে অবহিত করা হয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মাইকিংয়ে জানানো হয়, জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাগরিবের পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান, চা-দোকানে আড্ডা বা উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি থেকে বিরত থাকতে হবে। এ সময় অভিভাবকদেরও সন্তানদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, এ নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও জনসাধারণকে জনসচেতনতা ও পরামর্শমূলক প্রচারণা করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির পরে কেউ প্রতিষ্ঠান আঙিনায় অবস্থান না করে সে জন্য জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রচারণা চালানোর জন্য তথ্য অফিসারকে বলা হয়েছে।

সে হিসেবে তথ্য অফিস শহরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করার কথা। তারা না-বুঝে ভিন্নভাবে মাইকিং করেছে। যেটি কারফিউর মতো হয়ে গেছে। যেটা সঠিক নয়। সেটি কারেকশন করে আজ শনিবার পুনরায় মাইকিং ও প্রচারণা করতে বলা হয়েছে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যাপারটি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, এটি কোনো দমনমূলক সিদ্ধান্ত নয়। শিক্ষার্থী বাইরে বের হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বিষয়টি এমনও নয়। মূল লক্ষ্য হলো, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমানো, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং শিক্ষার্থীদের মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করতে নিরুৎসাহিত করা। জেলা প্রশাসনের তদারকি দল মাঠে কাজ করবে। পাশাপাশি পুলিশও বিষয়টি নজরদারি করবে বলে তিনি জানান।