রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র জ্বালানি সংকট রাশিয়ায়

নিজ শহর ভোলগদায় ফেরার পথে রুশ দম্পতি ইয়েলেনা ও দিমিত্রিকে একের পর এক চারটি পেট্রোল পাম্প ঘুরতে হয়েছে। অবশেষে পঞ্চম একটি পাম্পে গিয়ে তারা জ্বালানি পান।

মস্কো থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ভোলগদাসহ রাশিয়ার প্রায় সব অঞ্চলে এখন জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় রাশিয়ার তেল সংরক্ষণাগার ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এবারই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়ায় এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি। এতদিন দেশটিতে সহজেই জ্বালানি পাওয়া যেত এবং ইউরোপের তুলনায় এর দামও ছিল অনেক কম। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে পেট্রোলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো এখন রাশিয়ার বহু মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

গাড়িতে বসে অপেক্ষা করতে করতে বিরক্তি প্রকাশ করে ইয়েলেনা বলেন, ‘কী ভয়াবহ পরিস্থিতি! এখন অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই। দেখি, পেট্রোল আদৌ অবশিষ্ট আছে কি না।’

-সংকটকে ততটা গুরুতর মনে করছে না ক্রেমলিন-

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন সংকটকে অতটা গুরুতর নয় বলে দাবি করেছে। পুতিনের অভিযোগ, ইউক্রেনের লক্ষ্য রুশ জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া।

তবে রাজধানীর বাইরে সাধারণ চালকদের মধ্যে অসন্তোষ স্পষ্ট। বিশাল আয়তনের দেশ রাশিয়ায় অধিকাংশ অঞ্চলে ব্যক্তিগত গাড়িই প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। ফলে, জ্বালানি সংকট মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

এএফপির হিসাব অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে জুন মাস থেকে রাশিয়ার ৯০ শতাংশের বেশি অঞ্চলে জ্বালানি রেশনিং বা সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।

ভোলগদায় কিছু পেট্রোল পাম্প বন্ধ রয়েছে, আর যেগুলো চালু আছে, সেগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন চালকেরা।
সূত্র: বাসস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

তীব্র জ্বালানি সংকট রাশিয়ায়

প্রকাশিত সময় : ১১:০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
নিজ শহর ভোলগদায় ফেরার পথে রুশ দম্পতি ইয়েলেনা ও দিমিত্রিকে একের পর এক চারটি পেট্রোল পাম্প ঘুরতে হয়েছে। অবশেষে পঞ্চম একটি পাম্পে গিয়ে তারা জ্বালানি পান।

মস্কো থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ভোলগদাসহ রাশিয়ার প্রায় সব অঞ্চলে এখন জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় রাশিয়ার তেল সংরক্ষণাগার ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এবারই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়ায় এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি। এতদিন দেশটিতে সহজেই জ্বালানি পাওয়া যেত এবং ইউরোপের তুলনায় এর দামও ছিল অনেক কম। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে পেট্রোলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো এখন রাশিয়ার বহু মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

গাড়িতে বসে অপেক্ষা করতে করতে বিরক্তি প্রকাশ করে ইয়েলেনা বলেন, ‘কী ভয়াবহ পরিস্থিতি! এখন অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই। দেখি, পেট্রোল আদৌ অবশিষ্ট আছে কি না।’

-সংকটকে ততটা গুরুতর মনে করছে না ক্রেমলিন-

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন সংকটকে অতটা গুরুতর নয় বলে দাবি করেছে। পুতিনের অভিযোগ, ইউক্রেনের লক্ষ্য রুশ জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া।

তবে রাজধানীর বাইরে সাধারণ চালকদের মধ্যে অসন্তোষ স্পষ্ট। বিশাল আয়তনের দেশ রাশিয়ায় অধিকাংশ অঞ্চলে ব্যক্তিগত গাড়িই প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। ফলে, জ্বালানি সংকট মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

এএফপির হিসাব অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে জুন মাস থেকে রাশিয়ার ৯০ শতাংশের বেশি অঞ্চলে জ্বালানি রেশনিং বা সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।

ভোলগদায় কিছু পেট্রোল পাম্প বন্ধ রয়েছে, আর যেগুলো চালু আছে, সেগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন চালকেরা।
সূত্র: বাসস