পাবনার সাঁথিয়ায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সালিশ বৈঠকে মহব্বত আলী খাঁ নামের এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে জুতাপেটার ঘটনায় গৌরিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মাষ্টারসহ ১২ জনের নামে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ওসি আনিছুর রহমান। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী মহব্বত আলী খাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী এক ব্যক্তির প্রতিবন্ধী বোনকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় গ্রামে এ সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, সালিশে তার স্বামীকে প্রকাশ্যে ২০টি জুতার আঘাত করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এ সময় তিনি উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও সালিশকারীরা সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। একপর্যায়ে সালিশকারীদের নির্দেশে দুই ব্যক্তি তার স্বামী মহব্বত আলী খাঁকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করেন।
এদিকে, একইদিন ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীর ভাই বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মহব্বত আলী খাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১২ জুলাই দুপুরে মহব্বত আলী খাঁ কাঁঠাল কাটার অজুহাতে তাদের বাড়িতে কাঁচি আনতে যান। সে সময় কিশোরী বাড়িতে একা থাকার সুযোগে তিনি ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণচেষ্টা করেন। পরে সন্ধ্যায় সালিশে মহব্বত আলীকে জুতাপেটা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে গৌরিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মাষ্টারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
সাঁথিয়া থানার ওসি আনিছুর রহমান পৃথক মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 






















