সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্মার্ট সিটির পথে সিলেট, কিন্তু যানবাহন নিয়ন্ত্রণে এখনো ভরসা হাতের ইশারা

স্মার্ট সিটির পথে হাঁটছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। কিন্তু যানবাহন নিয়ন্ত্রণে এখনো ভরসা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের হাত ও বাঁশের লাঠির ইশারা।

নগরবাসীর অভিযোগ, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় শহরে সব সময় যানজট লেগেই থাকে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রায় ৪৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট মহানগরে বাস্তবায়ন হচ্ছে স্মার্ট সিটি প্রকল্প। এই প্রকল্পে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণসহ নানা আধুনিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকলেও নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, ডিজিটাল ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থা কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বাদ পড়েছে

১৮৭৮ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত সিলেট পৌরসভা ২০০১ সালের ৯ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে ৪২টি ওয়ার্ডের এই নগরীর সরু সড়কে একসঙ্গে চলাচল করে রিকশা, ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাসসহ বিভিন্ন গণপরিবহন। ফলে যানজট এখানে নৈমিত্তিক দৃশ্য। সিটি কর্পোরেশন হওয়ার এত বছর পরেও আধুনিক সিগনাল ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়নি এই নগরীতে।

সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশ বক্স পর্যন্ত নেই। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা তীব্র রোদ কিংবা মুষলধারার বৃষ্টিতেও সড়ক ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পান না—হাত তুললে গাড়ি থামে, হাত নামালে চলে।

দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য কামাল আহমদ বলেন, ‌“সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম একটা বিষয় হচ্ছে ট্রাফিক সিগনাল। এটা যদি না থাকে, তাহলে সেটা সিটি কর্পোরেশনের জন্য মানহানিকর বিষয়।

ডিজিটাল সিগনালের অনুপস্থিতিতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালকরা। শুধু হাতের ইশারার ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই তৈরি হয় বিভ্রান্তি, দীর্ঘ হয় যানজট। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে যাত্রীদের মূল্যবান সময়, অন্যদিকে চালকদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি জ্বালানি খরচ। নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে যান চলাচলের সুযোগ থাকলে এই দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসত বলে মত ভুক্তভোগীদের

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রাব্বী রহমান বলেন, “ডিজিটাল সিগনাল না থাকায় কোন মোড়ে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, তা বোঝাই যায় না। ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারার ওপর নির্ভর করেই চলতে হয়, ফলে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং যানজট আরো দীর্ঘ হয়। এতে যেমন আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়তি জ্বালানি খরচ হচ্ছে। ডিজিটাল সিগনাল থাকলে অন্তত নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে চলাচল করা যেত, ভোগান্তিও অনেকটা কমে যেত।”

তথ্যানুযায়ী, ১৯৯৬ সালে নগরীর ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সিগনাল লাইট স্থাপন করা হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ পরবর্তীতে আর টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সিলেট ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, মহানগরীর যানজট নিরসনে তারা ইতোমধ্যে নগর ভবনের সহযোগিতা চেয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বলেন, “আমার মনে হয়, সিলেট নগরীকে একটু সুন্দর নগরী এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য অচিরেই বিষয়গুলো সংযোজন করা প্রয়োজন, যার জন্য সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

ডিজিটাল ট্রাফিক সিগনাল স্থাপনে শিগগিরই প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে জানিয়ে সিলেট সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমরা বুঝতে পারি এগুলো ম্যানুয়ালি করতে গিয়ে পুলিশ সদস্য ও যানবাহন চালকদের সমস্যা হয়। আশা রাখি, অচিরেই এই প্রকল্পগুলো নিতে পারব।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

স্মার্ট সিটির পথে সিলেট, কিন্তু যানবাহন নিয়ন্ত্রণে এখনো ভরসা হাতের ইশারা

প্রকাশিত সময় : ০৬:৫৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

স্মার্ট সিটির পথে হাঁটছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। কিন্তু যানবাহন নিয়ন্ত্রণে এখনো ভরসা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের হাত ও বাঁশের লাঠির ইশারা।

নগরবাসীর অভিযোগ, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় শহরে সব সময় যানজট লেগেই থাকে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রায় ৪৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট মহানগরে বাস্তবায়ন হচ্ছে স্মার্ট সিটি প্রকল্প। এই প্রকল্পে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণসহ নানা আধুনিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকলেও নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, ডিজিটাল ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থা কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বাদ পড়েছে

১৮৭৮ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত সিলেট পৌরসভা ২০০১ সালের ৯ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে ৪২টি ওয়ার্ডের এই নগরীর সরু সড়কে একসঙ্গে চলাচল করে রিকশা, ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাসসহ বিভিন্ন গণপরিবহন। ফলে যানজট এখানে নৈমিত্তিক দৃশ্য। সিটি কর্পোরেশন হওয়ার এত বছর পরেও আধুনিক সিগনাল ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়নি এই নগরীতে।

সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশ বক্স পর্যন্ত নেই। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা তীব্র রোদ কিংবা মুষলধারার বৃষ্টিতেও সড়ক ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পান না—হাত তুললে গাড়ি থামে, হাত নামালে চলে।

দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য কামাল আহমদ বলেন, ‌“সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম একটা বিষয় হচ্ছে ট্রাফিক সিগনাল। এটা যদি না থাকে, তাহলে সেটা সিটি কর্পোরেশনের জন্য মানহানিকর বিষয়।

ডিজিটাল সিগনালের অনুপস্থিতিতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালকরা। শুধু হাতের ইশারার ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই তৈরি হয় বিভ্রান্তি, দীর্ঘ হয় যানজট। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে যাত্রীদের মূল্যবান সময়, অন্যদিকে চালকদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি জ্বালানি খরচ। নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে যান চলাচলের সুযোগ থাকলে এই দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসত বলে মত ভুক্তভোগীদের

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রাব্বী রহমান বলেন, “ডিজিটাল সিগনাল না থাকায় কোন মোড়ে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, তা বোঝাই যায় না। ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারার ওপর নির্ভর করেই চলতে হয়, ফলে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং যানজট আরো দীর্ঘ হয়। এতে যেমন আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়তি জ্বালানি খরচ হচ্ছে। ডিজিটাল সিগনাল থাকলে অন্তত নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে চলাচল করা যেত, ভোগান্তিও অনেকটা কমে যেত।”

তথ্যানুযায়ী, ১৯৯৬ সালে নগরীর ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সিগনাল লাইট স্থাপন করা হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ পরবর্তীতে আর টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সিলেট ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, মহানগরীর যানজট নিরসনে তারা ইতোমধ্যে নগর ভবনের সহযোগিতা চেয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বলেন, “আমার মনে হয়, সিলেট নগরীকে একটু সুন্দর নগরী এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য অচিরেই বিষয়গুলো সংযোজন করা প্রয়োজন, যার জন্য সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

ডিজিটাল ট্রাফিক সিগনাল স্থাপনে শিগগিরই প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে জানিয়ে সিলেট সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমরা বুঝতে পারি এগুলো ম্যানুয়ালি করতে গিয়ে পুলিশ সদস্য ও যানবাহন চালকদের সমস্যা হয়। আশা রাখি, অচিরেই এই প্রকল্পগুলো নিতে পারব।”