রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি বিক্রি চলছে। কোথাও দীর্ঘ লাইন বা জ্বালানি সংকটের চিত্র দেখা যাচ্ছে না। মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িচালকরা নির্ধারিত সময়ে পাম্পে এসে অপেক্ষা ছাড়াই জ্বালানি নিতে পারছেন। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। অন্যদিকে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় নির্বিঘ্নে জ্বালানি বিক্রি করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পাম্প কর্তৃপক্ষও।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগ, আসাদগেট, গাবতলীসহ গুরুত্বপূর্ণ পাম্প ঘুরে দেখা যায়, স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চলছে। চালকরা অপেক্ষা ছাড়াই জ্বালানি নিতে পারছেন।
শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা মোটরসাইকেলচালক শাহারিয়ার আহমেদ বলেন, “ইরান মার্কিন যুদ্ধের জন্য কয়েক মাস আগে বিভিন্ন সময় পাম্পে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। এখন কোনো ভোগান্তি নেই।”
রাজধানীর আসাদগেটের মেসার্স তালুকদার ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারে জ্বালানি নিতে আসা আরেক মোটরসাইকেলচালক নুরনবী তালুকদার বলেন, “এখন জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তা না থাকায় স্বস্তিতে আছি। আজ পাম্পে এসে কোনো লাইন পাইনি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই জ্বালানি নিয়ে চলে যেতে পেরেছি।”
গাবতলীর এসপি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা ব্যক্তিগত গাড়িচালক তুহিন বলেন,“আগে অনেক সময় জ্বালানি নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক।”

শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক এম এ মান্নান মজুমদার“বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের সংকট বা অতিরিক্ত চাপ নেই।”
৩০ জুলাই সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের ঘোষণা
কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোর দাবিতে ৩০ জুলাই ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশজুড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
দাবি পূরণ না হলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধেরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী।
তিনি বলেন, “৩০ জুলাই দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলবে। দাবি পূরণ না হলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, “২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে ৮ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রাংশের দাম, ব্যাংক কমিশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমির ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্স ফি বহুগুণ বেড়েছে। ফলে বর্তমান কমিশনে ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।” রাইজিংবিডি ডটকম
তাদের দাবি, প্রতি ঘনমিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ, বর্তমানে প্রতি ঘনমিটারে কমিশন ৫ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরো দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম বাড়লে কমিশনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করতে হবে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে জামানত নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সওজের ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের লাইসেন্স ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, “তারা নতুন করে অতিরিক্ত মুনাফার দাবি করছেন না। সরকারের আগের হিসাব, মূল্যস্ফীতি এবং পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান কমিশনের দাবি নির্ধারণ করা হয়েছে।”
ফারহান নূর বলেন, “২০১৭ সালে গঠিত সরকারি কমিটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের জন্য প্রতি ঘনমিটারে অতিরিক্ত ১ টাকা ৯৮ পয়সা মার্জিনের সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশকে ভিত্তি ধরে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি ও যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির হিসাব করলে ২০২৪ সালের শুরুতে এই মার্জিন দাঁড়ায় ৩ টাকা ৭০ পয়সা।”
সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, গ্যাসের দামের সঙ্গে আনুপাতিক সমন্বয়ে আরো ৩ টাকা ৩০ পয়সা এবং বিদ্যুতের দাম ৮ দফা বাড়ানোর কারণে ২ টাকা ৪৬ পয়সা যুক্ত হওয়ার কথা। সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের শুরুতেই তাঁদের ন্যায্য দাবি প্রতি ঘনমিটারে ৫ টাকা ১০ পয়সা ছিল বলে জানিয়েছেন ফারহান নূর।
অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, “সর্বশেষ গত জুনে বিদ্যুতের দাম ১৯ শতাংশ বাড়ায় প্রতি ঘনমিটারে খরচ আরো ৮৬ পয়সা বেড়েছে। তবে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। শুধু সরকারি সুপারিশ, মূল্যস্ফীতি এবং বিদ্যুতের ব্যয় বৃদ্ধির হিসাব বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান কমিশন ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্তসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 





















