রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৭ বছরের দুঃশাসন-বাজেট সাড়ে তিন হাজার কোটি, লাগেনি একটি ইটও: মির্জা ফখরুল

গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বাজেট, অথচ একটি ইটও নেই। গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে এমন দুর্নীতি করেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। অথচ মুখে ছিল উন্নয়নের বুলি।’

শনিবার দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) আয়োজিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে দুদিনব্যাপী ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক ও সংঘাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দিতে হবে। দেশে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা বেশি হলেও গবেষণা ও উদ্ভাবনের সাফল্য যথাযথ গুরুত্ব পায় না। অথচ গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, দেশের বাজেটের বড় একটি অংশ অপচয় হলেও গবেষণার মতো মৌলিক জায়গায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয় না। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। গণমাধ্যমকেও গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সাফল্য আরও বেশি করে তুলে ধরতে হবে।

পল্লী উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর নির্মাণ নয়—উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করাও পল্লী উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষকের সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদন নয়, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের অভাবে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। কোল্ড স্টোরেজ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণব্যবস্থার উন্নয়নে গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে হবে।

দেশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে হলে প্রতিটি গ্রামকে উন্নত অর্থনীতি ও শহুরে সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, আরডিএ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের উপযুক্ত মর্যাদা ও সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে শিক্ষা, মর্যাদা ও টেকসই উন্নয়নের পথ বেছে নিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, শুধু চাকরি বা ঠিকাদারির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে তরুণেরা এগিয়ে এলে কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি কৃষকেরাও লাভবান হবেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি সবার জন্য সহজলভ্য উন্নত চিকিৎসা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য এবং শ্রমিকদের সঠিক শ্রমমজুরি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএর মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন (রনি)।

এ ছাড়া বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ইসলাম মোহাম্মদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আরডিএর কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় তারেক রহমান

১৭ বছরের দুঃশাসন-বাজেট সাড়ে তিন হাজার কোটি, লাগেনি একটি ইটও: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বাজেট, অথচ একটি ইটও নেই। গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে এমন দুর্নীতি করেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। অথচ মুখে ছিল উন্নয়নের বুলি।’

শনিবার দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) আয়োজিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে দুদিনব্যাপী ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক ও সংঘাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দিতে হবে। দেশে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা বেশি হলেও গবেষণা ও উদ্ভাবনের সাফল্য যথাযথ গুরুত্ব পায় না। অথচ গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, দেশের বাজেটের বড় একটি অংশ অপচয় হলেও গবেষণার মতো মৌলিক জায়গায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয় না। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। গণমাধ্যমকেও গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সাফল্য আরও বেশি করে তুলে ধরতে হবে।

পল্লী উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর নির্মাণ নয়—উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করাও পল্লী উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষকের সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদন নয়, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের অভাবে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। কোল্ড স্টোরেজ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণব্যবস্থার উন্নয়নে গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে হবে।

দেশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে হলে প্রতিটি গ্রামকে উন্নত অর্থনীতি ও শহুরে সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, আরডিএ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের উপযুক্ত মর্যাদা ও সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে শিক্ষা, মর্যাদা ও টেকসই উন্নয়নের পথ বেছে নিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, শুধু চাকরি বা ঠিকাদারির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে তরুণেরা এগিয়ে এলে কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি কৃষকেরাও লাভবান হবেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি সবার জন্য সহজলভ্য উন্নত চিকিৎসা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য এবং শ্রমিকদের সঠিক শ্রমমজুরি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএর মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন (রনি)।

এ ছাড়া বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ইসলাম মোহাম্মদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আরডিএর কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।