মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু: ট্রাম্প

মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার বিকেলেই এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা।

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলে যুদ্ধ এড়ানো যাবে এবং বহু মানুষের জীবন রক্ষা পাবে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। তিনি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চলছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সোমবার (আজ) বিকেলে আলোচনা শুরু হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কথা বলছি।

সোমবার বিকেলে আলোচনা শুরু হবে। এরপর কী হয়, তা দেখা যাবে। আমি চাই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক। এতে অনেক মানুষের জীবন বাঁচবে এবং অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগও এড়ানো যাবে।

আমি একটি চুক্তি করতে চাই। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। কারণ যুদ্ধে অনেক মানুষ মারা যায়। আমরা তা চাই না। ইরান আমাদের কাছে এসেছে। অন্য তিনটি দেশও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের কারণে তিনি শুক্রবার পরিকল্পিত একটি বড় ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন। তার দাবি, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার কার্যকর আলোচনা শুরু করার জন্য মধ্যস্থতাকারীরা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রোববার ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক আবার কার্যকর করার চেষ্টা করছেন। এই সমঝোতার উদ্দেশ্য হলো, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অন্তত ৬০ দিন খোলা রাখা এবং কোনো ধরনের ফি ছাড়া জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশ এ বিষয়ে একটি যৌথ কার্যক্রমের ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে।

তবে আগের সমঝোতা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কারণ চুক্তির শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের ব্যাখ্যা এক ছিল না। ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে সবার জন্য খোলা থাকবে। কিন্তু ইরান দাবি করে, ওই সমঝোতায় প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে পর্দার আড়ালে চলা কূটনৈতিক তৎপরতা সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কাতারের কর্মকর্তারা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও যোগাযোগ করেন। পরে শনিবার তারা ট্রাম্পকে জানান, তেহরান প্রণালি-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সামরিক অভিযান না চালিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।

এসব কূটনৈতিক তৎপরতার পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে রবিবার ভোর পর্যন্ত কোনো সামরিক হামলার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে ইরানের সামরিক নেতারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে তেহরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানায়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।

এদিকে ইরানকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। রবিবার প্রকাশিত দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে সংযম দেখানোর পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত আরো কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশটির মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি শক্তি প্রয়োগ না করলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরস তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে না।

সূত্র: এএনআই

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আজ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু: ট্রাম্প

প্রকাশিত সময় : ১০:৩২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার বিকেলেই এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা।

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলে যুদ্ধ এড়ানো যাবে এবং বহু মানুষের জীবন রক্ষা পাবে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। তিনি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চলছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সোমবার (আজ) বিকেলে আলোচনা শুরু হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কথা বলছি।

সোমবার বিকেলে আলোচনা শুরু হবে। এরপর কী হয়, তা দেখা যাবে। আমি চাই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক। এতে অনেক মানুষের জীবন বাঁচবে এবং অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগও এড়ানো যাবে।

আমি একটি চুক্তি করতে চাই। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। কারণ যুদ্ধে অনেক মানুষ মারা যায়। আমরা তা চাই না। ইরান আমাদের কাছে এসেছে। অন্য তিনটি দেশও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের কারণে তিনি শুক্রবার পরিকল্পিত একটি বড় ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন। তার দাবি, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার কার্যকর আলোচনা শুরু করার জন্য মধ্যস্থতাকারীরা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রোববার ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক আবার কার্যকর করার চেষ্টা করছেন। এই সমঝোতার উদ্দেশ্য হলো, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অন্তত ৬০ দিন খোলা রাখা এবং কোনো ধরনের ফি ছাড়া জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশ এ বিষয়ে একটি যৌথ কার্যক্রমের ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে।

তবে আগের সমঝোতা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কারণ চুক্তির শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের ব্যাখ্যা এক ছিল না। ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে সবার জন্য খোলা থাকবে। কিন্তু ইরান দাবি করে, ওই সমঝোতায় প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে পর্দার আড়ালে চলা কূটনৈতিক তৎপরতা সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কাতারের কর্মকর্তারা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও যোগাযোগ করেন। পরে শনিবার তারা ট্রাম্পকে জানান, তেহরান প্রণালি-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সামরিক অভিযান না চালিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।

এসব কূটনৈতিক তৎপরতার পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে রবিবার ভোর পর্যন্ত কোনো সামরিক হামলার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে ইরানের সামরিক নেতারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে তেহরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানায়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।

এদিকে ইরানকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। রবিবার প্রকাশিত দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে সংযম দেখানোর পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত আরো কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশটির মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি শক্তি প্রয়োগ না করলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরস তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে না।

সূত্র: এএনআই