বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাকারবার্গকে ৩ দিনের আলটিমেটাম ভারতের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও বার্তা সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির সংসদীয় যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কমিটি।

ওই ঘটনার জন্য এবার ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’-র প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে আগামী তিন দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। অন্যথায় দেশটিতে মেটার আইনি সুরক্ষা বা ‘সেফ হারবার’ সুবিধা বাতিল করে সরাসরি জাকারবার্গের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের হুমকি দিয়েছে সংসদীয় যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কমিটি।

বুধবার (৫ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভ।

বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বে পরিচালিত এই সংসদীয় কমিটি বলেছে, ১৪০ কোটি ভারতীয় নাগরিকের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিডিও মুছে ফেলার ঘটনাটি সরাসরি ‘গণতন্ত্রের ওপর হামলা’।

কমিটি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, “ফেসবুক যদি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তাদের প্রদান করা ‘সেফ হারবার ক্লাজ’ বা আইনি সুরক্ষার সুবিধা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে মার্ক জাকারবার্গকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যেতে পারে।”

ভারতে সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা সুবিধা তুলে নেওয়ার অর্থ হলো- আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যেকোনো আপত্তিকর বিষয়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর দায়ের করতে পারবে।

নিশিকান্ত দুবে অভিযোগ করে বলেন, “মেটা এতদিন ধরে ‘সেফ হারবার’ বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাওয়া বিশেষ আইনি অধিকারের অপব্যবহার’ করে আসছে।”

তিনি বলেন, “আমরা তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি যে, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও মুছে ফেলা কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সরাসরি একজন প্রকাশকের মতো আচরণ। তাই মার্ক জাকারবার্গকে আগামী তিন দিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ব্যর্থ হলে ‘সেফ হারবার’ আইনি সুরক্ষা বাতিল করা হবে।”

তিনি আরো যোগ করেন, “যদি এই ধরনের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের কারণে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মেটা প্রধানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ দেশব্যাপী একাধিক এফআইআর দায়ের করা শুরু করে, তাহলে পরিস্থিতি তাদের জন্য অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গত ২৩ জুলাই তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি-দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রথমবারের মতো একটি সেলফি ভিডিও প্রথমে ইনস্টগ্রামে এবং পরে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। প্রশ্নফাঁস বিরোধী কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া সেই ভিডিওটি সেসময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বেশ আলোচিত ছিল। কিন্তু ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’ সেই ভিডিওটির অ্যাকসেস সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে মেটা দ্রুত ভিডিওটি পুনরায় সচল করে।

এ ঘটনার জেরে মেটা কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যে সংসদীয় কমিটির মুখোমুখি হতে হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দীর্ঘ জেরা করা হয় তাদের।

মেটার পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে একটি ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষমা চাওয়া হলেও, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সেই ব্যাখ্যাকে ‘যুক্তিযুক্ত নয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, যদি এটি সত্যিই প্রযুক্তিগত ত্রুটি হয়ে থাকে, তাহলে মেটার মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উচিত দ্রুত তাদের অ্যালগরিদম ও টুলস সংস্কার করা।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিডিও বিতর্ক ছাড়াও ইনস্টাগ্রামের বিজ্ঞাপনে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট প্রদর্শনের অভিযোগে মেটার ওপর এমনিতেই কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ভারত। গত মাসেই ভারত সরকার এ নিয়ে মেটাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়।

বুধবার (৫ আগস্ট) সংসদীয় কমিটি সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলোকে ভারতের শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে, অন্যথায় আইনি মামলার মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে।

কমিটির জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়, “এই সতর্কবার্তা গুগল, ইউটিউব, এক্স (টুইটার), ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাটসহ সব প্ল্যাটফর্মের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।”

সংসদীয় যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান নিশিকান্ত দুবে বলেন, “ভারতে শিশু যৌন নির্যাতন বা এআই দিয়ে তৈরি নারীদের ভুয়া ও অশ্লীল ছবি-ভিডিও ছড়ানো জঘন্য অপরাধ। বিষয়টি দেশ ও সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত, তাই এখানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জাকারবার্গকে ৩ দিনের আলটিমেটাম ভারতের

প্রকাশিত সময় : ১০:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও বার্তা সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির সংসদীয় যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কমিটি।

ওই ঘটনার জন্য এবার ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’-র প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে আগামী তিন দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। অন্যথায় দেশটিতে মেটার আইনি সুরক্ষা বা ‘সেফ হারবার’ সুবিধা বাতিল করে সরাসরি জাকারবার্গের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের হুমকি দিয়েছে সংসদীয় যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কমিটি।

বুধবার (৫ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভ।

বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বে পরিচালিত এই সংসদীয় কমিটি বলেছে, ১৪০ কোটি ভারতীয় নাগরিকের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিডিও মুছে ফেলার ঘটনাটি সরাসরি ‘গণতন্ত্রের ওপর হামলা’।

কমিটি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, “ফেসবুক যদি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তাদের প্রদান করা ‘সেফ হারবার ক্লাজ’ বা আইনি সুরক্ষার সুবিধা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে মার্ক জাকারবার্গকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যেতে পারে।”

ভারতে সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা সুবিধা তুলে নেওয়ার অর্থ হলো- আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যেকোনো আপত্তিকর বিষয়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর দায়ের করতে পারবে।

নিশিকান্ত দুবে অভিযোগ করে বলেন, “মেটা এতদিন ধরে ‘সেফ হারবার’ বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাওয়া বিশেষ আইনি অধিকারের অপব্যবহার’ করে আসছে।”

তিনি বলেন, “আমরা তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি যে, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও মুছে ফেলা কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সরাসরি একজন প্রকাশকের মতো আচরণ। তাই মার্ক জাকারবার্গকে আগামী তিন দিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ব্যর্থ হলে ‘সেফ হারবার’ আইনি সুরক্ষা বাতিল করা হবে।”

তিনি আরো যোগ করেন, “যদি এই ধরনের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের কারণে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মেটা প্রধানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ দেশব্যাপী একাধিক এফআইআর দায়ের করা শুরু করে, তাহলে পরিস্থিতি তাদের জন্য অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গত ২৩ জুলাই তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি-দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রথমবারের মতো একটি সেলফি ভিডিও প্রথমে ইনস্টগ্রামে এবং পরে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। প্রশ্নফাঁস বিরোধী কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া সেই ভিডিওটি সেসময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বেশ আলোচিত ছিল। কিন্তু ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’ সেই ভিডিওটির অ্যাকসেস সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে মেটা দ্রুত ভিডিওটি পুনরায় সচল করে।

এ ঘটনার জেরে মেটা কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যে সংসদীয় কমিটির মুখোমুখি হতে হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দীর্ঘ জেরা করা হয় তাদের।

মেটার পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে একটি ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষমা চাওয়া হলেও, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সেই ব্যাখ্যাকে ‘যুক্তিযুক্ত নয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, যদি এটি সত্যিই প্রযুক্তিগত ত্রুটি হয়ে থাকে, তাহলে মেটার মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উচিত দ্রুত তাদের অ্যালগরিদম ও টুলস সংস্কার করা।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিডিও বিতর্ক ছাড়াও ইনস্টাগ্রামের বিজ্ঞাপনে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট প্রদর্শনের অভিযোগে মেটার ওপর এমনিতেই কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ভারত। গত মাসেই ভারত সরকার এ নিয়ে মেটাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়।

বুধবার (৫ আগস্ট) সংসদীয় কমিটি সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলোকে ভারতের শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে, অন্যথায় আইনি মামলার মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে।

কমিটির জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়, “এই সতর্কবার্তা গুগল, ইউটিউব, এক্স (টুইটার), ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাটসহ সব প্ল্যাটফর্মের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।”

সংসদীয় যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান নিশিকান্ত দুবে বলেন, “ভারতে শিশু যৌন নির্যাতন বা এআই দিয়ে তৈরি নারীদের ভুয়া ও অশ্লীল ছবি-ভিডিও ছড়ানো জঘন্য অপরাধ। বিষয়টি দেশ ও সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত, তাই এখানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”