প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এখন জাতীয় সংকট। এই সংকট সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করা দরকার। কিন্তু জামায়াত এই সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা না করে লংমার্চের নামে লংড্রাইভ করছে।
তিনি বলেন, এই জামায়াত ৯৬ এর বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করেছিল। জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে জামায়াত এখন আওয়ামী লীগকে বিক্ষোভ করার সাহস যোগাচ্ছে। এসময় তিনি জামায়াতআমীরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা লংমার্চের নামে লংড্রাইভ বন্ধ করুন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেতুলতলা মায়াধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন রাশেদ খাঁন।
তিনি আওয়ামী লীগের মিছিল প্রসঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগ আর ফিরবে না। শেখ হাসিনা মারা গেলে তার লাশও দেশে ফিরিয়ে আনার মতো শেখ পরিবারের কেউ নেই। আওয়ামী লীগের নেতারা কেউ দেশেই আসতে পারবে না। আওয়ামী লীগ এখন পঁচে গলে ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশের জনগণ তাদের আর গ্রহণ করবে না।
জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, তিনি তো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বক্তৃতায় বলেছেন, তিনি অনেক বড় হ্যাডমওয়ালা, তার হ্যাডম নাকি শেখ হাসিনা জানতেন। আমার ইচ্ছে, আমি শেখ হাসিনাকে যদি পেতাম, তাহলে শফিকুল ইসলাম মাসুদের হ্যাডম বা শক্তি কতটুকু তা জানতে চাইতাম। গুপ্ত বট বাহিনী দিয়ে শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ জামায়াতের নেতারা বিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের চরিত্র হনন করছে। তারা সেনাবাহিনী মানে না, তারা কোনো বাহিনী মানে না। কারণ তাদের কাছে তাদের বট বাহিনীই সবকিছু।
সার সংকট ও কৃষকের ভোগান্তি প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, দেশে কোনো সার সংকট নেই। ডিলাররা কৃত্রিমভাবে সার মজুদ করে সংকট দেখানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে সারের ডিলার হিসেবে কারা নিয়োগ পেয়েছে তা সবাই জানে। সরকার সেই সব ফ্যাসিস্ট সুবিধাভোগী সার ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সার ব্যবসার পুরো সিস্টেম নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসময় তিনি কৃষকদের ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান।
এর আগে বেলা ১০টায় সদর উপজেলার তেতুলতলা মায়াধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাশেদ খান। এসময় জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দীন সহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সভায় অংশ নেন।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























