প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির মামলায় সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রের জামিন আদেশের দুই দিন পর জামিন বাতিল করেছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে এ সংক্রান্তে এক আবেদনের শুনানি শেষে আজ রোববার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সাদেকীন হাবিব বাপ্পী এ জামিন বাতিলের আদেশ দিয়েছেন। একই আদালত গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।
ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী ঈসমাইল হোসেন জামিন বাতিলের বিষয়ে বলেন, ‘ওই দিন আইনজীবী শুনানিতে বলেছিলেন সচিবালয় থেকে চুরির ঘটনা ঘটে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করেননি। তাই রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিন বাতিলের আবেদন করা হলে আদালত জামিনের বাতিলের আদেশ দিয়েছেন।’
রঞ্জনের আইনজীবী পরিমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, এটা তো চুরির মামলা। আর মামলা মূল নথি তো বিচারকের সামনেই ছিল। এ মামলায় তিন আসামির মধ্যে দুজন আগেই জামিন পেয়েছেন। রঞ্জন কারাগারে ছিলেন। রঞ্জন কারামুক্ত হতে পারেননি।
কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হয় গত ২৫ মে। সাত দিনের ছুটি শেষে গত ১ জুন অফিস খোলার পর সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দেখতে পান, ওই লাল টেলিফোনে সংযোগ নেই। বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা এসে কয়েক ঘণ্টা পর সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। ওই লাল টেলিফোনের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো জায়গায় তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি কথা বলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে গত ১ জুন শাহবাগ থানায় জিডি করেন। সেখানে বলা হয়, সচিবালয়ের পুরাতন এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত টেলিযোগাযোগের কপার কেবল ছিল। এই কেবলের মাধ্যমেই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোন নম্বরসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল।জিডিতে বলা হয়, ভবনের ছাদে কপার কেবল ‘দুর্বৃত্তরা’ কেটে ফেলে। ফলে ওই লাল টেলিফোন নম্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর রঞ্জন চন্দ্র ও যে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী তার কিনেছেন, সেই রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫ জুন তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়স রেজাকুলসহ দুজন জামিন পেয়েছেন। কারাগারে ছিলেন রঞ্জন।

রিপোর্টারের নাম 























