বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরকে গলা টিপে হত্যা, ১৯ বছর পর মামা-ভাগ্নের যাবজ্জীবন

ভোলা সদর উপজেলার আলোচিত কিশোর রেদোয়ান রাসেল হত্যা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙাশিয়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মো. সুজন ও তার মামা মো. ইলিয়াস।

প্রায় ১৯ বছর আগে ২০০৭ সালে মোবাইল বিক্রি না করায় তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতে এ রায় ঘোষণা করো ভোলা জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোর রেদোয়ান রাসেল তার বাবার হাওলাদার বাজারের মুদি দোকানে অবস্থান করছিল, তার সঙ্গে মায়ের কেনা নোকিয়া ১১০০ মডেলের একটি মোবাইল ফোন ছিল। এ সময় মোবাইল ফোনে কথা বলার কথা বলে প্রতিবেশী সুজন তাকে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

এরপর থেকে রেদোয়ান নিখোঁজ ছিল। পরিবার ভেবেছিল রেদোয়ান হয়তো তার পার্শ্ববর্তী নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে গেছে। প্রায়ই সে আত্মীয়দের বাসায় যেত, কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সে কারো বাড়িতে যায়নি। নিখোঁজের পরদিন পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।

ঘটনার দুই দিন পর ৩০ ডিসেম্বর স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, দক্ষিণ চরপাতা দারোগার খালের পাশে সিদ্দিক মালের বাড়ির সামনে এক কিশোরের মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে মরদেহ দেখে পরিবারের সদস্যরা রেদোয়ানকে শনাক্ত করেন। মরদেহের মুখ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়

এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর রেদোয়ানের বাবা আব্দুল হক বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তাগণ সুজন ও ইলিয়াসকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে ২০০৯ সালের ২৩ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

পরে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. তৈয়ব বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞ আদালত আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এতে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছি। সামান্য একটি মোবাইলের জন্য হত্যাকাণ্ড—এটি সামাজিক অবক্ষয়ের নমুনা ও নির্মম হত্যাকাণ্ড এটি। ভুক্তভোগীকে গলা টিপে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দিয়েছিল আসামিরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘বিয়ে শুধুই কাগজের সম্পর্ক নয়, পরস্পরের ভালোবাসা ও সম্মান জরুরি’

কিশোরকে গলা টিপে হত্যা, ১৯ বছর পর মামা-ভাগ্নের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত সময় : ১০:১৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোলা সদর উপজেলার আলোচিত কিশোর রেদোয়ান রাসেল হত্যা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙাশিয়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মো. সুজন ও তার মামা মো. ইলিয়াস।

প্রায় ১৯ বছর আগে ২০০৭ সালে মোবাইল বিক্রি না করায় তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতে এ রায় ঘোষণা করো ভোলা জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোর রেদোয়ান রাসেল তার বাবার হাওলাদার বাজারের মুদি দোকানে অবস্থান করছিল, তার সঙ্গে মায়ের কেনা নোকিয়া ১১০০ মডেলের একটি মোবাইল ফোন ছিল। এ সময় মোবাইল ফোনে কথা বলার কথা বলে প্রতিবেশী সুজন তাকে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

এরপর থেকে রেদোয়ান নিখোঁজ ছিল। পরিবার ভেবেছিল রেদোয়ান হয়তো তার পার্শ্ববর্তী নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে গেছে। প্রায়ই সে আত্মীয়দের বাসায় যেত, কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সে কারো বাড়িতে যায়নি। নিখোঁজের পরদিন পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।

ঘটনার দুই দিন পর ৩০ ডিসেম্বর স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, দক্ষিণ চরপাতা দারোগার খালের পাশে সিদ্দিক মালের বাড়ির সামনে এক কিশোরের মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে মরদেহ দেখে পরিবারের সদস্যরা রেদোয়ানকে শনাক্ত করেন। মরদেহের মুখ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়

এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর রেদোয়ানের বাবা আব্দুল হক বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তাগণ সুজন ও ইলিয়াসকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে ২০০৯ সালের ২৩ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

পরে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. তৈয়ব বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞ আদালত আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এতে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছি। সামান্য একটি মোবাইলের জন্য হত্যাকাণ্ড—এটি সামাজিক অবক্ষয়ের নমুনা ও নির্মম হত্যাকাণ্ড এটি। ভুক্তভোগীকে গলা টিপে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দিয়েছিল আসামিরা।