মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই-এর অশ্লীল কারসাজিতে ক্ষিপ্ত জাহ্নবী

বিনোদন দুনিয়ার তারকাদের বর্তমানে ডিপফেকের শিকার হওয়া যেন প্রায় জলভাতের মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছে! তাদের ছবি-ভিডিও নিয়ে যত্রতত্র যৌনতা সংক্রান্ত কনটেন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলত, ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে তারকাদের। আসলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘অভিশাপে’ সিনেমা, টেলিভিশন, ওটিটির পর্দা পেরিয়ে রূপালি দুনিয়ার তারকারা যে একেবারে আমজনতার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না। ‘ডিপফেক’-এর এমন বাড়বাড়ন্তে নাজেহাল তারকামহলও। ব্যতিক্রম হয়নি জাহ্নবী কাপুরের ক্ষেত্রেও। এআই-এর কারসাজিতে নায়িকার রোমান্টিক গানের দৃশ্য বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নেটভুবনে। সেই প্রেক্ষিতেই এবার গর্জে উঠলেন জাহ্নবী।

ঠিক কী ঘটেছে? ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দক্ষিণী সিনেমা ‘দেবারা: পার্ট ওয়ান’-এর ‘চুট্টামালে’ গানের দৃশ্য কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজিতে বিকৃত করা হয়েছে। যে ছবিতে জুনিয়র এনটিআরের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন জাহ্নবী কাপুর। সেই বিকৃত ডিপফেক ভিডিওই বিগত কয়েক দিন ধরেই নেটভুবনের আতশকাচে। নজর এড়ায়নি সিনেমার নায়কের। পালটা আইনি হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন জুনিয়র এনটিআর। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন খোদ জাহ্নবী।

অভিনেত্রীর মন্তব্য, ‘নারীদের ভোগপণ্য হিসেবে তুলে ধরার জন্য প্রযুক্তির অপরাধমূলক ব্যবহার এবং বিনা অনুমতিতে এমন বিষয়বস্তু ছড়িয়ে দেওয়াটা অত্যন্ত আপত্তিকর— যেটা কার্যত যৌন নিগ্রহের সমান। আমাদের সিনেইন্ডাস্ট্রির প্রায় প্রতিটি নারীই কোনও না কোনোভাবে ডিপফেকের শিকার হয়েছেন। সর্বত্রই মহিলাদের এধরনের ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। নারীশরীরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া কিংবা নারীদের সম্মতি রয়েছে কিনা- এগুলো তো মানবতার অন্যতম মৌলিক বিষয় হওয়া উচিত, অথচ কেন জানি না এগুলোকে জটিল বিষয় হিসেবে দেখা হয়।’

এখানেই থামেননি তিনি। জাহ্নবীর সংযোজন, একজন মহিলা যদি টানা পাঁচ দিন কোনো বিষয়ে সম্মতি দেন এবং ষষ্ঠ দিনে ‘না’ বলেন, সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে। এই বিষয়টি বুঝতে এখনও কিছু মানুষের এত সমস্যা হয়, যা অবাক করার মতো! কেউ যদি মিনিস্কার্ট পরেন, তার অর্থ এই নয় যে, তাঁর স্কার্টের নিচে ক্যামেরা ধরা যায় বা আপত্তিকর অ্যাঙ্গেলে ছবি তোলা যায়। একজন নারী কোন বিষয়ে স্বচ্ছন্দ, কোথায় তিনি সীমারেখা টানছেন এবং নিজের শরীর নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?- সেগুলি একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

জাহ্নবীর মতে, ‘এমনসমস্যা শুধু আমাকে নিয়ে তৈরি ডিপফেক ভিডিওর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নারীনিরাপত্তা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো বিষয়ও। মহিলাদের এখন ডিজিটাল দুনিয়াতেও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। শুধু নিজের বাড়ির মেয়েদের সুরক্ষিত রাখতে হবে- এমন ধ্যানধারণায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বরং মানসিকতা বদলে কিছু মানুষকে মনে করিয়ে দিতে হবে, যে অন্যের ব্যক্তিগত সীমারেখাও সম্মান করা উচিত।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এআই-এর অশ্লীল কারসাজিতে ক্ষিপ্ত জাহ্নবী

প্রকাশিত সময় : ১০:১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বিনোদন দুনিয়ার তারকাদের বর্তমানে ডিপফেকের শিকার হওয়া যেন প্রায় জলভাতের মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছে! তাদের ছবি-ভিডিও নিয়ে যত্রতত্র যৌনতা সংক্রান্ত কনটেন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলত, ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে তারকাদের। আসলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘অভিশাপে’ সিনেমা, টেলিভিশন, ওটিটির পর্দা পেরিয়ে রূপালি দুনিয়ার তারকারা যে একেবারে আমজনতার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না। ‘ডিপফেক’-এর এমন বাড়বাড়ন্তে নাজেহাল তারকামহলও। ব্যতিক্রম হয়নি জাহ্নবী কাপুরের ক্ষেত্রেও। এআই-এর কারসাজিতে নায়িকার রোমান্টিক গানের দৃশ্য বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নেটভুবনে। সেই প্রেক্ষিতেই এবার গর্জে উঠলেন জাহ্নবী।

ঠিক কী ঘটেছে? ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দক্ষিণী সিনেমা ‘দেবারা: পার্ট ওয়ান’-এর ‘চুট্টামালে’ গানের দৃশ্য কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজিতে বিকৃত করা হয়েছে। যে ছবিতে জুনিয়র এনটিআরের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন জাহ্নবী কাপুর। সেই বিকৃত ডিপফেক ভিডিওই বিগত কয়েক দিন ধরেই নেটভুবনের আতশকাচে। নজর এড়ায়নি সিনেমার নায়কের। পালটা আইনি হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন জুনিয়র এনটিআর। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন খোদ জাহ্নবী।

অভিনেত্রীর মন্তব্য, ‘নারীদের ভোগপণ্য হিসেবে তুলে ধরার জন্য প্রযুক্তির অপরাধমূলক ব্যবহার এবং বিনা অনুমতিতে এমন বিষয়বস্তু ছড়িয়ে দেওয়াটা অত্যন্ত আপত্তিকর— যেটা কার্যত যৌন নিগ্রহের সমান। আমাদের সিনেইন্ডাস্ট্রির প্রায় প্রতিটি নারীই কোনও না কোনোভাবে ডিপফেকের শিকার হয়েছেন। সর্বত্রই মহিলাদের এধরনের ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। নারীশরীরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া কিংবা নারীদের সম্মতি রয়েছে কিনা- এগুলো তো মানবতার অন্যতম মৌলিক বিষয় হওয়া উচিত, অথচ কেন জানি না এগুলোকে জটিল বিষয় হিসেবে দেখা হয়।’

এখানেই থামেননি তিনি। জাহ্নবীর সংযোজন, একজন মহিলা যদি টানা পাঁচ দিন কোনো বিষয়ে সম্মতি দেন এবং ষষ্ঠ দিনে ‘না’ বলেন, সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে। এই বিষয়টি বুঝতে এখনও কিছু মানুষের এত সমস্যা হয়, যা অবাক করার মতো! কেউ যদি মিনিস্কার্ট পরেন, তার অর্থ এই নয় যে, তাঁর স্কার্টের নিচে ক্যামেরা ধরা যায় বা আপত্তিকর অ্যাঙ্গেলে ছবি তোলা যায়। একজন নারী কোন বিষয়ে স্বচ্ছন্দ, কোথায় তিনি সীমারেখা টানছেন এবং নিজের শরীর নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?- সেগুলি একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

জাহ্নবীর মতে, ‘এমনসমস্যা শুধু আমাকে নিয়ে তৈরি ডিপফেক ভিডিওর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নারীনিরাপত্তা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো বিষয়ও। মহিলাদের এখন ডিজিটাল দুনিয়াতেও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। শুধু নিজের বাড়ির মেয়েদের সুরক্ষিত রাখতে হবে- এমন ধ্যানধারণায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বরং মানসিকতা বদলে কিছু মানুষকে মনে করিয়ে দিতে হবে, যে অন্যের ব্যক্তিগত সীমারেখাও সম্মান করা উচিত।’