বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ ফাইনালে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জল্পনা ভাঙলেন মেসি

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরবিদায় জানানোর মঞ্চে দাঁড়িয়ে চিরচেনা শান্ত মেজাজেই ধরা দিলেন লিওনেল মেসি। চারদিকে ভক্তদের আকুলতা আর সতীর্থদের চোখের জল ছাপিয়ে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের বিদায়ী মঞ্চে তিনি কেবল স্মৃতির রোমন্থনই করেননি, বরং স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের হারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নানা গুঞ্জন ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্বে সরাসরি ইতি টেনেছেন।

বিশ্বজয়ের পর থেকে চলা নানা কানাঘুষার কড়া জবাব দিয়ে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, নেপথ্যে কোনো রহস্যময় ঘটনা ছিল না; বরং তা ছিল চরম ক্লান্তি আর লড়াইয়ের ফল।

মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই আবেগঘন বিদায়ী ভাষণে দলের তরুণ মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ যখন সতীর্থের চোখে জল লুকিয়ে রাখতে ব্যর্থ, তখন অধিনায়ক মেসি ছিলেন অবিশ্বাস্যরকম সংযত। উপস্থিত হাজারো দর্শকের সামনে নিজের অন্তিম অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি চিরকাল এখানেই থাকতে চাই, তবে মনে হচ্ছে বিদায় নেওয়ার এটাই সঠিক সময়। শেষ বিশ্বকাপটা আমার জন্য সত্যিই ভীষণ কঠিন ছিল। আমরা আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম, খুব কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, কিছু মানুষ যেভাবে ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন, তেমন অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। আমরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়েছিলাম।’

ফাইনালের আগের সেই কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে মেসি আরও যোগ করেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি শারীরিক ও মানসিক দুই দিক থেকেই আমাদের ভীষণভাবে নিঃশেষ করে দিয়েছিল। বাস্তবতা হলো, আমরা কোনোমতে সেই ধকল সামলে উঠি।’

ক্যারিয়ারজুড়ে এই আকাশি-সাদা জার্সির জন্য সতীর্থদের সঙ্গে লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি স্মরণ করেন অতীতের দিনগুলোকেও।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে এসে মেসি সতীর্থদের উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ থাকার কড়া বার্তা দেন। বাইরের সমালোচনা ও ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি সতর্ক করেন যে সামনের দিনগুলো কঠিন হতে পারে। তার ভাষায়, ‘এটা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে যে আমরা যখন একসঙ্গে ও ঐক্যবদ্ধ থাকি, তখন যে কারও চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠি এবং যেকোনো বাধা পেরিয়ে যেতে পারি। সামনে কঠিন সময় আসছে, কারণ এতদিন আমরা যা অর্জন করেছি তা স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। বড় লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ দল গড়তে হয়, কারণ এমন কিছু মানুষ আছে যারা জাতীয় দলকে ব্যর্থ দেখতে চায়। আমরা তাদের সেই সন্তুষ্টি দিতে পারি না।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিশ্বকাপ ফাইনালে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জল্পনা ভাঙলেন মেসি

প্রকাশিত সময় : ০৫:২১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরবিদায় জানানোর মঞ্চে দাঁড়িয়ে চিরচেনা শান্ত মেজাজেই ধরা দিলেন লিওনেল মেসি। চারদিকে ভক্তদের আকুলতা আর সতীর্থদের চোখের জল ছাপিয়ে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের বিদায়ী মঞ্চে তিনি কেবল স্মৃতির রোমন্থনই করেননি, বরং স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের হারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নানা গুঞ্জন ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্বে সরাসরি ইতি টেনেছেন।

বিশ্বজয়ের পর থেকে চলা নানা কানাঘুষার কড়া জবাব দিয়ে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, নেপথ্যে কোনো রহস্যময় ঘটনা ছিল না; বরং তা ছিল চরম ক্লান্তি আর লড়াইয়ের ফল।

মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই আবেগঘন বিদায়ী ভাষণে দলের তরুণ মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ যখন সতীর্থের চোখে জল লুকিয়ে রাখতে ব্যর্থ, তখন অধিনায়ক মেসি ছিলেন অবিশ্বাস্যরকম সংযত। উপস্থিত হাজারো দর্শকের সামনে নিজের অন্তিম অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি চিরকাল এখানেই থাকতে চাই, তবে মনে হচ্ছে বিদায় নেওয়ার এটাই সঠিক সময়। শেষ বিশ্বকাপটা আমার জন্য সত্যিই ভীষণ কঠিন ছিল। আমরা আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম, খুব কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, কিছু মানুষ যেভাবে ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন, তেমন অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। আমরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়েছিলাম।’

ফাইনালের আগের সেই কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে মেসি আরও যোগ করেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি শারীরিক ও মানসিক দুই দিক থেকেই আমাদের ভীষণভাবে নিঃশেষ করে দিয়েছিল। বাস্তবতা হলো, আমরা কোনোমতে সেই ধকল সামলে উঠি।’

ক্যারিয়ারজুড়ে এই আকাশি-সাদা জার্সির জন্য সতীর্থদের সঙ্গে লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি স্মরণ করেন অতীতের দিনগুলোকেও।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে এসে মেসি সতীর্থদের উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ থাকার কড়া বার্তা দেন। বাইরের সমালোচনা ও ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি সতর্ক করেন যে সামনের দিনগুলো কঠিন হতে পারে। তার ভাষায়, ‘এটা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে যে আমরা যখন একসঙ্গে ও ঐক্যবদ্ধ থাকি, তখন যে কারও চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠি এবং যেকোনো বাধা পেরিয়ে যেতে পারি। সামনে কঠিন সময় আসছে, কারণ এতদিন আমরা যা অর্জন করেছি তা স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। বড় লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ দল গড়তে হয়, কারণ এমন কিছু মানুষ আছে যারা জাতীয় দলকে ব্যর্থ দেখতে চায়। আমরা তাদের সেই সন্তুষ্টি দিতে পারি না।’