বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধেয়ে আসছে এল নিনো—মহাপ্রলয়ের শঙ্কা, স্থায়ী হবে কতদিন?

বিশ্বজুড়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে এল নিনো। এর ফলে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থা ডব্লিউএমও।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় রেকর্ড মাত্রায় বাড়তে পারে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ডব্লিউএমও জানিয়েছে, ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে প্রলয়ের আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, এবারের এল নিনো ১৯৫০ সালের পর নথিভুক্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে।

উল্লেখ্য, এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। একই দিন প্রকাশিত ডব্লিউএমওর মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ শুরুর পর সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।

জাতিসংঘের এই সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেছেন, এল নিনো এরই মধ্যে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দ্রুত তীব্র হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।

সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো দেখা দেয়। একবার শুরু হলে এটি সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হতে পারে। এল নিনোর বিপরীত আবহাওয়াগত পর্যায়কে বলা হয় লা নিনা।

বাড়তে পারে খরা-বন্যার ঝুঁকি

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এর প্রভাব কৃষি, বাস্তুতন্ত্র, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

এল নিনো পৃথিবীতে নতুন করে তাপ তৈরি করে না। বরং প্রশান্ত মহাসাগরে সঞ্চিত তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে আরও তীব্র করে। বর্তমানে সমুদ্রের তাপমাত্রা ইতোমধ্যে রেকর্ড পর্যায়ে থাকায় এবার বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়ার মতো তাপের পরিমাণও বেশি হতে পারে।

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এরই মধ্যে বেড়েছে। এর সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম তাপমাত্রার পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ধেয়ে আসছে এল নিনো—মহাপ্রলয়ের শঙ্কা, স্থায়ী হবে কতদিন?

প্রকাশিত সময় : ০৯:৩৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্বজুড়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে এল নিনো। এর ফলে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থা ডব্লিউএমও।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় রেকর্ড মাত্রায় বাড়তে পারে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ডব্লিউএমও জানিয়েছে, ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে প্রলয়ের আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, এবারের এল নিনো ১৯৫০ সালের পর নথিভুক্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে।

উল্লেখ্য, এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। একই দিন প্রকাশিত ডব্লিউএমওর মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ শুরুর পর সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।

জাতিসংঘের এই সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেছেন, এল নিনো এরই মধ্যে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দ্রুত তীব্র হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।

সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো দেখা দেয়। একবার শুরু হলে এটি সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হতে পারে। এল নিনোর বিপরীত আবহাওয়াগত পর্যায়কে বলা হয় লা নিনা।

বাড়তে পারে খরা-বন্যার ঝুঁকি

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এর প্রভাব কৃষি, বাস্তুতন্ত্র, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

এল নিনো পৃথিবীতে নতুন করে তাপ তৈরি করে না। বরং প্রশান্ত মহাসাগরে সঞ্চিত তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে আরও তীব্র করে। বর্তমানে সমুদ্রের তাপমাত্রা ইতোমধ্যে রেকর্ড পর্যায়ে থাকায় এবার বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়ার মতো তাপের পরিমাণও বেশি হতে পারে।

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এরই মধ্যে বেড়েছে। এর সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম তাপমাত্রার পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি