ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। তবে, এই আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই তা ভেস্তে দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার।
এনডিটিভি অনলাইন জানিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা আন্দোলনকারীদের দিল্লিতে পৌঁছোনো আটকাতে রেল, পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। কর্মসূচির জন্য যে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টির তরফে, সেই অনুমতিও দেয়নি দিল্লি পুলিশ। মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল হওয়ার ফলে রাজধানীজুড়ে যাত্রীরা ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন। এছাড়া দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ২৩ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের জন্য প্রয়োজনীয় ১০ দিন আগে যে আগাম নোটিশ বা তথ্য জানানোর নিয়ম রয়েছে, তা পালন না করায় এই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। কর্মকর্তারা আগের বিক্ষোভের সময় নির্দেশিকা লঙ্ঘনের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মধ্য দিল্লির কিছু এলাকায় ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’-এর ১৬৩ ধারা কার্যকর করা হয়েছে। পুলিশ সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই বিধিনিষেধ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। মধ্যপ্রদেশের ইটারসী জংশনে একাধিক ট্রেন থামিয়ে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের জোর করে ট্রেন থেকে নামিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ট্রেন চলাচলে এই ধরনের আচমকা বিধিনিষেধের ফলে সাধারণ যাত্রীরাও দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।
রাজধানীতে বিক্ষোভ রুখতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের আটক করে রাখতে অন্তত ১০টি অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার তৈরি রাখা হয়েছে। দিল্লির প্রায় ৫৭টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লির স্থানীয় হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলিকে নতুন করে কোনো অতিথিকে ঘর না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের ভিডিও তোলা বা প্রচার চালানোর ক্ষেত্রে ইউটিউবারদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সাংবাদিকদের আইডি কার্ড সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করা হয়েছে।
তবে ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোর দাবি, প্রশাসনিক দমনপীড়ন চালিয়ে এই প্রতিবাদ চেপে দেওয়া যাবে না। সব বাধা পেরিয়েও হাজার হাজার মানুষ ১০ অক্টোবর দিল্লির বুকে তাদের দাবি তুলে ধরবেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 























