শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যখাতে ৪০ শতাংশ পদ শূন্য, নিয়োগ হচ্ছে ৫ হাজার চিকিৎসক: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের জনবলসংকট নিরসনে সরকার ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজশাহী নগরীর একটি হোটেলে সম্প্রসারিত টিকাদান ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে সমস্যা হচ্ছে। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’ বর্তমানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

উপজেলা পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন এবং বিদ্যমান যন্ত্রপাতি সচল করা গেলে রোগ নির্ণয় সহজ হবে। এতে রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া সহজ হবে।’

হাম প্রতিরোধে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চলমান টিকাদান কর্মসূচি এবং টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের আওতায় আনতে নেওয়া বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।’

ডেঙ্গু মোকাবিলায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশা ও লার্ভা নিধন এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে দুই হাজার চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা বেশি কার্যকর। এ কারণে টিকাদান, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।’

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজধানীতে ৪০টির বেশি চেকপোস্ট ও ২১ টহল দল মোতায়েন

স্বাস্থ্যখাতে ৪০ শতাংশ পদ শূন্য, নিয়োগ হচ্ছে ৫ হাজার চিকিৎসক: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত সময় : ০৯:২০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের জনবলসংকট নিরসনে সরকার ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজশাহী নগরীর একটি হোটেলে সম্প্রসারিত টিকাদান ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে সমস্যা হচ্ছে। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’ বর্তমানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

উপজেলা পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন এবং বিদ্যমান যন্ত্রপাতি সচল করা গেলে রোগ নির্ণয় সহজ হবে। এতে রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া সহজ হবে।’

হাম প্রতিরোধে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চলমান টিকাদান কর্মসূচি এবং টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের আওতায় আনতে নেওয়া বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।’

ডেঙ্গু মোকাবিলায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশা ও লার্ভা নিধন এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে দুই হাজার চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা বেশি কার্যকর। এ কারণে টিকাদান, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।’

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।