রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিতর্কের মুখে ষষ্ঠ শ্রেণির বই থেকে বাদ ‘দাঁড়িপাল্লা’

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা নিয়ে বিতর্কের পর তা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জ্ঞানের পিরামিডে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা- এই চারটি স্তরের নাম থাকলেও কোনো প্রতীক বা আইকন রাখা হবে না। ইতিমধ্যে ছাপানো বইয়ের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় নতুন করে ছাপানো পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের কাছে বই সরবরাহ করা হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

এ কে এম শওকত আলী খান বলেন, ‘উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা- এ চার স্তরের নাম থাকবে। তবে এখানে কোনো আইকন থাকবে না। এ বছর এভাবেই যাবে। পরের বছর বিষয়গুলো পুনরায় আরও পরিমার্জন করব, যাতে কোনো ভুল তথ্য না যায়।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল এনসিটিবি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছিল। তবে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে কোন প্রতীক ব্যবহার করা হবে, তা তখনো নিশ্চিত ছিল না।

এনসিটিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, যেসব বই ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে চলে গেছে, সেগুলোর যে পৃষ্ঠায় জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, সেটির ওপর নতুন করে ছাপানো একটি পরিমার্জিত পৃষ্ঠা বসিয়ে দেওয়া হবে। এ পর্যায়ে পুরো বই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এতে বাড়তি খরচ ও সময়ের প্রয়োজন হবে।

দাঁড়িপাল্লার প্রতীক পরিবর্তনের বিষয়ে গতকাল শনিবার প্রেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এনসিটিবি। কয়েকজন প্রেস মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বইয়ের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় নতুন করে ছাপানো আরেকটি পৃষ্ঠা যুক্ত করার বিষয়ে তারাও সম্মত হয়েছেন।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এতে চারটি স্তর রয়েছে। নিচ থেকে সেগুলো হলো উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে আলাদা প্রতীক।

উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্যের স্তরে রয়েছে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি প্রতীক। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে দাঁড়িপাল্লা।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগই ইতিমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।

আগের শিক্ষাবর্ষের বইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে প্রজ্ঞার প্রতীক নিয়ে পরিবর্তনের ধারাটি আরও স্পষ্ট হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সে অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল।

যদিও চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসে। এ নিয়ে বিতর্কের পর এবার প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিতর্কের মুখে ষষ্ঠ শ্রেণির বই থেকে বাদ ‘দাঁড়িপাল্লা’

প্রকাশিত সময় : ০৯:০০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা নিয়ে বিতর্কের পর তা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জ্ঞানের পিরামিডে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা- এই চারটি স্তরের নাম থাকলেও কোনো প্রতীক বা আইকন রাখা হবে না। ইতিমধ্যে ছাপানো বইয়ের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় নতুন করে ছাপানো পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের কাছে বই সরবরাহ করা হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

এ কে এম শওকত আলী খান বলেন, ‘উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা- এ চার স্তরের নাম থাকবে। তবে এখানে কোনো আইকন থাকবে না। এ বছর এভাবেই যাবে। পরের বছর বিষয়গুলো পুনরায় আরও পরিমার্জন করব, যাতে কোনো ভুল তথ্য না যায়।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল এনসিটিবি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছিল। তবে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে কোন প্রতীক ব্যবহার করা হবে, তা তখনো নিশ্চিত ছিল না।

এনসিটিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, যেসব বই ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে চলে গেছে, সেগুলোর যে পৃষ্ঠায় জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, সেটির ওপর নতুন করে ছাপানো একটি পরিমার্জিত পৃষ্ঠা বসিয়ে দেওয়া হবে। এ পর্যায়ে পুরো বই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এতে বাড়তি খরচ ও সময়ের প্রয়োজন হবে।

দাঁড়িপাল্লার প্রতীক পরিবর্তনের বিষয়ে গতকাল শনিবার প্রেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এনসিটিবি। কয়েকজন প্রেস মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বইয়ের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় নতুন করে ছাপানো আরেকটি পৃষ্ঠা যুক্ত করার বিষয়ে তারাও সম্মত হয়েছেন।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এতে চারটি স্তর রয়েছে। নিচ থেকে সেগুলো হলো উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে আলাদা প্রতীক।

উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্যের স্তরে রয়েছে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি প্রতীক। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে দাঁড়িপাল্লা।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগই ইতিমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।

আগের শিক্ষাবর্ষের বইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে প্রজ্ঞার প্রতীক নিয়ে পরিবর্তনের ধারাটি আরও স্পষ্ট হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সে অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল।

যদিও চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসে। এ নিয়ে বিতর্কের পর এবার প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।