শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে, যারা সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়।

শুক্রবার দুপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর পতিসর-এ রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী আছে, তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা এই সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাই না। আমাদের রাজনীতি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নয়। বারবার মানুষ পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের মূল ভিত্তি হচ্ছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ। আমরা বাংলাদেশি -এই পরিচয় সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। নয় মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আবার গণতন্ত্রও সংগ্রামের মাধ্যমেই ফিরে পেয়েছি।”

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা যে আন্দোলন করেছে, আমরা একে জুলাই যুদ্ধ বলি। এর মধ্য দিয়ে পরিবর্তন এসেছে। নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে। ফ্যাসিস্টরা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। অর্থনীতি লুটপাট হয়েছে, ব্যাংক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, প্রশাসন ধ্বংস করা হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করেই আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “অনেকে এখন এই পরিবর্তনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে চায়। আমরা কেউ চাই না দেশে আর কোনো অস্থিরতা তৈরি হোক।”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মজীবন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “রবীন্দ্রনাথ এখানে এসে কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ চালু করেছিলেন। কবিতা, গান, নাটক, গদ্য- সব ক্ষেত্রেই তার অবাধ বিচরণ ছিল। গীতাঞ্জলি লিখে তিনি বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমার মনে হয়, রবীন্দ্রনাথকে সারা জীবন পড়লেও শেষ করা যায় না।”

ড. আ ন ম বজলুর রশীদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মিজানুর রহমান মিনু, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজুসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

আলোচনা সভা শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরে এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশে হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমীর সমাগম ঘটে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে, যারা সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়।

শুক্রবার দুপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর পতিসর-এ রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী আছে, তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা এই সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাই না। আমাদের রাজনীতি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নয়। বারবার মানুষ পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের মূল ভিত্তি হচ্ছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ। আমরা বাংলাদেশি -এই পরিচয় সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। নয় মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আবার গণতন্ত্রও সংগ্রামের মাধ্যমেই ফিরে পেয়েছি।”

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা যে আন্দোলন করেছে, আমরা একে জুলাই যুদ্ধ বলি। এর মধ্য দিয়ে পরিবর্তন এসেছে। নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে। ফ্যাসিস্টরা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। অর্থনীতি লুটপাট হয়েছে, ব্যাংক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, প্রশাসন ধ্বংস করা হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করেই আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “অনেকে এখন এই পরিবর্তনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে চায়। আমরা কেউ চাই না দেশে আর কোনো অস্থিরতা তৈরি হোক।”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মজীবন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “রবীন্দ্রনাথ এখানে এসে কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ চালু করেছিলেন। কবিতা, গান, নাটক, গদ্য- সব ক্ষেত্রেই তার অবাধ বিচরণ ছিল। গীতাঞ্জলি লিখে তিনি বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমার মনে হয়, রবীন্দ্রনাথকে সারা জীবন পড়লেও শেষ করা যায় না।”

ড. আ ন ম বজলুর রশীদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মিজানুর রহমান মিনু, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজুসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

আলোচনা সভা শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরে এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশে হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমীর সমাগম ঘটে।