মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আকিকা বিলম্বে করা যাবে কি

আমি আসফিয়া আলমগির সিনথিয়া। আমার বাড়ি ঢাকা জেলার দোহার থানায়। সম্প্রতি আমি মা হয়েছি, আল-হামদুলিল্লাহ!। কিন্তু আমার স্বামী প্রবাসে থাকায় সন্তানের আকিকা দেওয়া হয়নি। আমার প্রশ্ন হলো, সন্তানের আকিকা পরবর্তীতে করা যাবে? করলে তা কত দিনের মধ্যে করতে হয়?

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, আকিকা একটি সুন্নত আমল। ফরজ বা ওয়াজিব নয়। সামর্থ্য ও সুযোগ থাকলে আকিকা করবে, এতে শিশু বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাবে, মানুষের দোয়া পাবে, সন্তানের পিতৃপরিচয় ও বংশধারা মানুষ জানবে। কিন্তু কেউ যদি কোনো কারণে আকিকা না করে তাতে কোনো গুনাহ নেই।

আকিকা করার মুস্তাহাব সময় হলো সন্তান জন্মের সপ্তম দিন। সপ্তম দিনে করতে না পারলে ১৪তম দিনে করা। তাও না পারলে ২১তম দিনে করা। সবচেয়ে উত্তম হলো জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা। ২১ দিনের পরও আকিকা করা যায় এবং করলে তা আদায় হয়ে যায়, তবে এর মাধ্যমে মুস্তাহাব আমলের মর্যাদা অর্জিত হয় না। সুতরাং আপনার স্বামী আসার পরও সন্তানের আকিকা করতে পারবেন, তবে তা যদি ২১ দিনের পর হয় তাতে মুস্তাহাবের ফজিলত পাওয়া যাবে না।

আকিকা করার নিয়ম হলো ছেলে সন্তানের জন্য দুটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা এবং মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা। যদি গরু, মহিষ বা উট জবাই করা হয়, তবে ছেলের জন্য সাত ভাগের দুই ভাগ এবং মেয়ের জন্য এক ভাগ নির্ধারণের মাধ্যমেও আকিকা করা যায়। কেউ যদি ছেলের জন্য দুটি ছাগল জবাই করতে না পারে তবে একটি দ্বারা করারও সুযোগ আছে।

আল্লামা ইবনে হাজার আস্কালানি (রহ.) লিখেছেন, ‘নিশ্চয়ই ইমাম তিরমিজি বলেছেন, ২১ দিন পর্যন্ত আকিকা বিলম্বিত করার অবকাশ আছে। আমি বলি, আকিকা মৃত্যু পর্যন্ত করার অবকাশ আছে। কেননা কোনো কোনো বর্ণনায় আমি পেয়েছি, নবীজি (সা.) নিজের আকিকা নিজে করেছেন। আকিকার রহস্য হলো আল্লাহ তোমাদেরকে একটি জীবন দান করেছেন, সুতরাং তোমরাও একটি প্রাণ উত্সর্গ করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ কোরো। এটাই কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার রহস্য। এজন্য আকিকা ও কোরবানি উভয় ক্ষেত্রে পশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ থাকা শর্ত আরোপ করা হয়েছে। পার্থক্য হলো, কোরবানি বাত্সরিক ইবাদত আর আকিকা জীবনে একবার করতে হয়।’ (ফাতহুল বারি : ৫/৬৪৮; ফাতাওয়ায়ে শামি : ৬/৩৩৬)

আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আকিকা বিলম্বে করা যাবে কি

প্রকাশিত সময় : ১০:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
আমি আসফিয়া আলমগির সিনথিয়া। আমার বাড়ি ঢাকা জেলার দোহার থানায়। সম্প্রতি আমি মা হয়েছি, আল-হামদুলিল্লাহ!। কিন্তু আমার স্বামী প্রবাসে থাকায় সন্তানের আকিকা দেওয়া হয়নি। আমার প্রশ্ন হলো, সন্তানের আকিকা পরবর্তীতে করা যাবে? করলে তা কত দিনের মধ্যে করতে হয়?

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, আকিকা একটি সুন্নত আমল। ফরজ বা ওয়াজিব নয়। সামর্থ্য ও সুযোগ থাকলে আকিকা করবে, এতে শিশু বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাবে, মানুষের দোয়া পাবে, সন্তানের পিতৃপরিচয় ও বংশধারা মানুষ জানবে। কিন্তু কেউ যদি কোনো কারণে আকিকা না করে তাতে কোনো গুনাহ নেই।

আকিকা করার মুস্তাহাব সময় হলো সন্তান জন্মের সপ্তম দিন। সপ্তম দিনে করতে না পারলে ১৪তম দিনে করা। তাও না পারলে ২১তম দিনে করা। সবচেয়ে উত্তম হলো জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা। ২১ দিনের পরও আকিকা করা যায় এবং করলে তা আদায় হয়ে যায়, তবে এর মাধ্যমে মুস্তাহাব আমলের মর্যাদা অর্জিত হয় না। সুতরাং আপনার স্বামী আসার পরও সন্তানের আকিকা করতে পারবেন, তবে তা যদি ২১ দিনের পর হয় তাতে মুস্তাহাবের ফজিলত পাওয়া যাবে না।

আকিকা করার নিয়ম হলো ছেলে সন্তানের জন্য দুটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা এবং মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা। যদি গরু, মহিষ বা উট জবাই করা হয়, তবে ছেলের জন্য সাত ভাগের দুই ভাগ এবং মেয়ের জন্য এক ভাগ নির্ধারণের মাধ্যমেও আকিকা করা যায়। কেউ যদি ছেলের জন্য দুটি ছাগল জবাই করতে না পারে তবে একটি দ্বারা করারও সুযোগ আছে।

আল্লামা ইবনে হাজার আস্কালানি (রহ.) লিখেছেন, ‘নিশ্চয়ই ইমাম তিরমিজি বলেছেন, ২১ দিন পর্যন্ত আকিকা বিলম্বিত করার অবকাশ আছে। আমি বলি, আকিকা মৃত্যু পর্যন্ত করার অবকাশ আছে। কেননা কোনো কোনো বর্ণনায় আমি পেয়েছি, নবীজি (সা.) নিজের আকিকা নিজে করেছেন। আকিকার রহস্য হলো আল্লাহ তোমাদেরকে একটি জীবন দান করেছেন, সুতরাং তোমরাও একটি প্রাণ উত্সর্গ করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ কোরো। এটাই কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার রহস্য। এজন্য আকিকা ও কোরবানি উভয় ক্ষেত্রে পশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ থাকা শর্ত আরোপ করা হয়েছে। পার্থক্য হলো, কোরবানি বাত্সরিক ইবাদত আর আকিকা জীবনে একবার করতে হয়।’ (ফাতহুল বারি : ৫/৬৪৮; ফাতাওয়ায়ে শামি : ৬/৩৩৬)

আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।