মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে দুই বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো শহরের একটি মসজিদে সোমবার (১৮ মে) দুই কিশোর বন্দুকধারীর গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। পরে সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীকেও কয়েক ব্লক দূরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সান দিয়েগোর ইসলামীক সেন্টারের এই হামলাকে ঘৃণাজনিত অপরাধ (হেট ক্রাইম) হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

সান ডিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওহাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এই ঘটনার পেছনের পরিস্থিতিগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিষ্কার হবে।”

নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তারক্ষীও ছিলেন। পুলিশের ধারণা, তিনি হামলাকে আরও ভয়াবহ হওয়া থেকে রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এই ইসলামিক সেন্টারটি সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ। এর সঙ্গে এআই রশিদ স্কুল নামে একটি স্কুলও রয়েছে, যেখানে ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষা, ইসলামিক স্টাডিজ ও কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়।

স্কট ওয়াল বলেন, “সব শিশুই নিরাপদ আছে।” আবেগপ্রবণ কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “যেসব পরিবার এখন তাদের প্রিয়জনদের বিষয়ে এই দুঃসংবাদ পাচ্ছেন, তাদের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল।”

পুলিশ জানায়, ফোন পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। সেখানে পৌঁছানোর সময় কয়েক ব্লক দূরে আবার গুলির শব্দ শোনা যায়। একজন ল্যান্ডস্কেপ কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলেও তিনি আহত হননি। পরে হামলাকারীদের একটি গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা রাস্তার মাঝখানে থামানো ছিল।

টেলিভিশনের আকাশপথের ভিডিওতে দেখা যায়, এক ডজনেরও বেশি শিশু হাত ধরে ইসলামিক সেন্টারের পার্কিং এলাকা থেকে বের হয়ে আসছে, চারদিকে তখন অসংখ্য পুলিশ গাড়ি ঘিরে রেখেছে। সাদা রঙের মসজিদটি এমন একটি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে বাড়িঘর, অ্যাপার্টমেন্ট এবং মধ্যপ্রাচ্যের রেস্টুরেন্ট ও মার্কেট রয়েছে।

শিশুদের নিতে অভিভাবকদের কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট স্থানে যেতে বলা হয়।

মসজিদের পরিচালক ইমাম তাহা হাসানে বলেন, “উপাসনালয়ের ওপর হামলা চালানো অত্যন্ত জঘন্য ঘটনা।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সুন্দর শহরের সব উপাসনালয় সবসময় সুরক্ষিত থাকা উচিত।”

হাসানে জানান, ইসলামিক সেন্টারটি আন্তধর্মীয় সম্পর্ক ও কমিউনিটি উন্নয়নের কাজ করে। হামলার দিনও অমুসলিমদের একটি দল ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য মসজিদটি পরিদর্শনে এসেছিল।

ইসলামিক সেন্টারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তাদের লক্ষ্য শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়া নয়, বরং বৃহত্তর সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তা করা, শিক্ষা বিস্তার এবং দেশকে আরও উন্নত করতে কাজ করা। সেখানে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন সামাজিক কাজে সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এর সান ডিয়েগোর নির্বাহী পরিচালক তাজহিন নিজাম এক বিবৃতিতে বলেন, “কেউই যেন নামাজ আদায় করতে বা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় না পায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করছি এবং সবাইকে এই কমিউনিটির জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, পিবিএস নিউজ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে দুই বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩

প্রকাশিত সময় : ১০:৩৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো শহরের একটি মসজিদে সোমবার (১৮ মে) দুই কিশোর বন্দুকধারীর গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। পরে সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীকেও কয়েক ব্লক দূরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সান দিয়েগোর ইসলামীক সেন্টারের এই হামলাকে ঘৃণাজনিত অপরাধ (হেট ক্রাইম) হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

সান ডিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওহাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এই ঘটনার পেছনের পরিস্থিতিগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিষ্কার হবে।”

নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তারক্ষীও ছিলেন। পুলিশের ধারণা, তিনি হামলাকে আরও ভয়াবহ হওয়া থেকে রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এই ইসলামিক সেন্টারটি সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ। এর সঙ্গে এআই রশিদ স্কুল নামে একটি স্কুলও রয়েছে, যেখানে ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষা, ইসলামিক স্টাডিজ ও কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়।

স্কট ওয়াল বলেন, “সব শিশুই নিরাপদ আছে।” আবেগপ্রবণ কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “যেসব পরিবার এখন তাদের প্রিয়জনদের বিষয়ে এই দুঃসংবাদ পাচ্ছেন, তাদের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল।”

পুলিশ জানায়, ফোন পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। সেখানে পৌঁছানোর সময় কয়েক ব্লক দূরে আবার গুলির শব্দ শোনা যায়। একজন ল্যান্ডস্কেপ কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলেও তিনি আহত হননি। পরে হামলাকারীদের একটি গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা রাস্তার মাঝখানে থামানো ছিল।

টেলিভিশনের আকাশপথের ভিডিওতে দেখা যায়, এক ডজনেরও বেশি শিশু হাত ধরে ইসলামিক সেন্টারের পার্কিং এলাকা থেকে বের হয়ে আসছে, চারদিকে তখন অসংখ্য পুলিশ গাড়ি ঘিরে রেখেছে। সাদা রঙের মসজিদটি এমন একটি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে বাড়িঘর, অ্যাপার্টমেন্ট এবং মধ্যপ্রাচ্যের রেস্টুরেন্ট ও মার্কেট রয়েছে।

শিশুদের নিতে অভিভাবকদের কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট স্থানে যেতে বলা হয়।

মসজিদের পরিচালক ইমাম তাহা হাসানে বলেন, “উপাসনালয়ের ওপর হামলা চালানো অত্যন্ত জঘন্য ঘটনা।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সুন্দর শহরের সব উপাসনালয় সবসময় সুরক্ষিত থাকা উচিত।”

হাসানে জানান, ইসলামিক সেন্টারটি আন্তধর্মীয় সম্পর্ক ও কমিউনিটি উন্নয়নের কাজ করে। হামলার দিনও অমুসলিমদের একটি দল ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য মসজিদটি পরিদর্শনে এসেছিল।

ইসলামিক সেন্টারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তাদের লক্ষ্য শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়া নয়, বরং বৃহত্তর সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তা করা, শিক্ষা বিস্তার এবং দেশকে আরও উন্নত করতে কাজ করা। সেখানে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন সামাজিক কাজে সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এর সান ডিয়েগোর নির্বাহী পরিচালক তাজহিন নিজাম এক বিবৃতিতে বলেন, “কেউই যেন নামাজ আদায় করতে বা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় না পায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করছি এবং সবাইকে এই কমিউনিটির জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, পিবিএস নিউজ