প্রকাশিত সময় :
১০:২৪:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
৫
ইরানের সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ইউনিটের প্রধান আলী আব্দুল্লাহি বলেছেন, “আমরা ইরানি জাতির অধিকার সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করবো। কোনো আগ্রাসী ইরানের দিকে হাত বাড়ালে সেই হাত ভেঙে দেবো।’
সোমবার (১৯ মে) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও তার যুদ্ধ-পরীক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি প্রস্তুত ও শক্তিশালী এবং তারা দেশ রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ইউনিটের প্রধান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্রদের যেকোনো নতুন আগ্রাসনের জবাব “অপ্রতিরোধ্য শক্তি” দিয়ে দেওয়া হবে, কারণ ইসলামি প্রজাতন্ত্র এখন তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, “আমরা আমেরিকা ও তার মিত্রদের জানাচ্ছি: আর কোনো কৌশলগত ভুল বা ভুল হিসাব করবেন না।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “শত্রুরা যদি আবারও আগ্রাসন বা আক্রমণের চেষ্টা করে, তাহলে তার জবাব হবে দ্রুত, সিদ্ধান্তমূলক, শক্তিশালী এবং ব্যাপক।”
কমান্ডার দাবি করেন, তথাকথিত আমেরিকান-জায়নিস্ট শত্রুরা বারবার ইরানি জাতির সাহস ও সামরিক শক্তিকে পরীক্ষা করেছে, কিন্তু প্রতিবারই তারা কঠোর শিক্ষা পেয়েছে।
তিনি বলেন, “ঈশ্বরের সংকল্প ও দৃঢ়তার সঙ্গে আমরা প্রমাণ করেছি যে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুদের সামনে আমাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রদর্শন করব।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে শত্রুরা যদি আবারও ভুল করে, তাহলে ইরান আগের ৪০ দিনের সংঘাতের তুলনায় আরও বেশি শক্তি ও সক্ষমতা দিয়ে মোকাবিলা করবে।
ইরানি সামরিক নেতারা বলেছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়, তবে জনগণ ও ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে যেকোনো উসকানি বা আগ্রাসনের জবাবে তারা কঠোর ও উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দিতে পিছপা হবে না।
তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি কেবল প্রতিরোধমূলক, যার উদ্দেশ্য বিদেশি হুমকি ও হস্তক্ষেপ ঠেকানো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে প্রতিদিন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালায়।
এছাড়া, ইরান প্রতিশোধ হিসেবে হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
গত ৮ এপ্রিল, ৪০ দিনের যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হলেও ওয়াশিংটনের “কঠোর শর্ত” ও অবস্থানের কারণে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি।