শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে টানটান উত্তেজনা: বিএসএফের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা নস্যাৎ করল বিজিবি

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার তিনবিঘা করিডোর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বাঁশের খুঁটি স্থাপন ও বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে একটি জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ৫১ বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়নের অধীন পানবাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৮১২-এর কাছে ভারতের অভ্যন্তরে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৫১ বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান এবং বিএসএফের পক্ষে ছিলেন ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিনোদ কুমার।

বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া আপত্তি জানিয়ে বলা হয়, ১৯৪৭ সালের সীমান্ত আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী স্থাপনা বা বেড়া নির্মাণের সুযোগ নেই। অথচ বিএসএফ শূন্যরেখার (জিরো লাইন) মাত্র ৫০ গজের মধ্যে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা সীমান্ত আইনের স্পষ্ট পরিপন্থী।

জবাবে বিএসএফের অধিনায়ক বিনোদ কুমার দাবি করেন, ভারতের সীমান্তবর্তী জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে মূলত সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে এই মাপজোখের কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশি কিছু কৃষক ভারতীয় ভূখণ্ডের ধান ও ভুট্টা কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি অধিনায়ক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারতের অভ্যন্তরে জমি অধিগ্রহণে বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই। তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো কাঁটাতারের বেড়া বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।

পুশইন প্রসঙ্গে বিজিবি অধিনায়ক বৈঠকে দৃঢ়ভাবে বলেন, এই সীমান্ত দিয়ে কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে না। কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভুলবশত ভারতের অভ্যন্তরে আটক হলে তাকে পুশইন না করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিএসএফ অধিনায়কও সীমান্তে ১৫০ গজের মধ্যে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকার এবং ভবিষ্যতে কোনো পুশইন না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো সমস্যা দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানে উভয় দেশের সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) এবং কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকটি শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অনিশ্চয়তার মুখে সালমান খানের ‘মাতৃভূমি’!

সীমান্তে টানটান উত্তেজনা: বিএসএফের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা নস্যাৎ করল বিজিবি

প্রকাশিত সময় : ১১:০৪:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার তিনবিঘা করিডোর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বাঁশের খুঁটি স্থাপন ও বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে একটি জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ৫১ বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়নের অধীন পানবাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৮১২-এর কাছে ভারতের অভ্যন্তরে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৫১ বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান এবং বিএসএফের পক্ষে ছিলেন ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিনোদ কুমার।

বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া আপত্তি জানিয়ে বলা হয়, ১৯৪৭ সালের সীমান্ত আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী স্থাপনা বা বেড়া নির্মাণের সুযোগ নেই। অথচ বিএসএফ শূন্যরেখার (জিরো লাইন) মাত্র ৫০ গজের মধ্যে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা সীমান্ত আইনের স্পষ্ট পরিপন্থী।

জবাবে বিএসএফের অধিনায়ক বিনোদ কুমার দাবি করেন, ভারতের সীমান্তবর্তী জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে মূলত সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে এই মাপজোখের কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশি কিছু কৃষক ভারতীয় ভূখণ্ডের ধান ও ভুট্টা কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি অধিনায়ক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারতের অভ্যন্তরে জমি অধিগ্রহণে বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই। তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো কাঁটাতারের বেড়া বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।

পুশইন প্রসঙ্গে বিজিবি অধিনায়ক বৈঠকে দৃঢ়ভাবে বলেন, এই সীমান্ত দিয়ে কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে না। কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভুলবশত ভারতের অভ্যন্তরে আটক হলে তাকে পুশইন না করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিএসএফ অধিনায়কও সীমান্তে ১৫০ গজের মধ্যে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকার এবং ভবিষ্যতে কোনো পুশইন না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো সমস্যা দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানে উভয় দেশের সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) এবং কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকটি শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।