সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো ‘কিচেন কেবিনেট’, পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম: তৌহিদ হোসেন

সাত সদস্যের ‘কিচেন কেবিনেট’ অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানালেন, তারা প্রতি মঙ্গলবার বৈঠক করতেন। আর তার নিজের মন্ত্রণালয়েই একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল এবং তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে তা গৃহীত হয়নি।

বিষয়টি পরিস্কার করতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেছেন, এক্ষেত্রে তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা নেই। তারপরেও তাদের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হতো। কারণ, উচ্চপর্যায়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। আমি সরে আসার চিন্তা তিনবার করেছি; তারা অনুরোধ করেছে যে সরকারের জন্য খুবই অস্বস্তিকর হবে।

এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’ সক্রিয় ছিল কি না, সেই প্রশ্নেরও জবাব দেন তৌহিদ হোসেন। বললেন, ডিপ স্টেট পৃথিবীতে সব ঘটনার সাথেই জড়িত থাকে। ডিপ স্টেট যুক্ত হয়, তবে স্রোতের বিপক্ষে নয়; তারপরে তারা সেটিকে ম্যানিপুলেট করে।

নিজের প্রত্যাশার একটা বড় অংশই পূরণ হয়নি বলে জানান সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। এ নিয়ে বলেন, কোনো এক উপলক্ষ্যে কিচেন কেবিনেটের একটা বৈঠকে আমাকে যেতে হয়েছিল, যমুনাতে। পরে আমি জেনেছি যে প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন। সিদ্ধান্ত নেয় কেউ কেউ, এ ধরনের কথাবার্তা শোনা যেত। আমার কানেও আসত। কিন্তু এর বাইরে আসলে আমার জানা ছিল না যে, এ রকম একেবারে একটা গ্রুপ আছে, যারা নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য!

ভোটের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তার সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন তিনি।

তৌহিদ হোসেন বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতে সামান্যতমও যুক্ত ছিল না। এটাতে যুক্ত ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। কোনো কারণ হয়তো ছিল পেছনে, যে জন্য আমরা বাধ্য ছিলাম। কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে সই করার বিষয়টা নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যথাযথ হতো।

দায়িত্ব নিয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে চিঠি লিখলেও, তা যে কাজে আসবে না সেটা জানতেন তৌহিদ হোসেন। জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে তার ভাবনা।

তৌহিদ হোসেনের মতে, আমি মনে করি আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এ রকম থাকবে না। আমাদের মানুষজনের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ না। আমি মনে করি, বিশ্বাস করি যে তারা রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আমার অনুমান আগামী নির্বাচনে তারা অংশ নেবে।

বিএনপি সরকার নিয়ে এখনই মূল্যায়ন করতে নারাজ এই কূটনীতিক। বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন-ভারতকে সামলানোই তারেক রহমানের বড় চ্যালেঞ্জ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন রাসিকের ১২৩৭জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বিতরণ করলেন রাসিক প্রশাসক

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো ‘কিচেন কেবিনেট’, পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম: তৌহিদ হোসেন

প্রকাশিত সময় : ০৬:০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
সাত সদস্যের ‘কিচেন কেবিনেট’ অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানালেন, তারা প্রতি মঙ্গলবার বৈঠক করতেন। আর তার নিজের মন্ত্রণালয়েই একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল এবং তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে তা গৃহীত হয়নি।

বিষয়টি পরিস্কার করতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেছেন, এক্ষেত্রে তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা নেই। তারপরেও তাদের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হতো। কারণ, উচ্চপর্যায়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। আমি সরে আসার চিন্তা তিনবার করেছি; তারা অনুরোধ করেছে যে সরকারের জন্য খুবই অস্বস্তিকর হবে।

এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’ সক্রিয় ছিল কি না, সেই প্রশ্নেরও জবাব দেন তৌহিদ হোসেন। বললেন, ডিপ স্টেট পৃথিবীতে সব ঘটনার সাথেই জড়িত থাকে। ডিপ স্টেট যুক্ত হয়, তবে স্রোতের বিপক্ষে নয়; তারপরে তারা সেটিকে ম্যানিপুলেট করে।

নিজের প্রত্যাশার একটা বড় অংশই পূরণ হয়নি বলে জানান সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। এ নিয়ে বলেন, কোনো এক উপলক্ষ্যে কিচেন কেবিনেটের একটা বৈঠকে আমাকে যেতে হয়েছিল, যমুনাতে। পরে আমি জেনেছি যে প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন। সিদ্ধান্ত নেয় কেউ কেউ, এ ধরনের কথাবার্তা শোনা যেত। আমার কানেও আসত। কিন্তু এর বাইরে আসলে আমার জানা ছিল না যে, এ রকম একেবারে একটা গ্রুপ আছে, যারা নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য!

ভোটের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তার সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন তিনি।

তৌহিদ হোসেন বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতে সামান্যতমও যুক্ত ছিল না। এটাতে যুক্ত ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। কোনো কারণ হয়তো ছিল পেছনে, যে জন্য আমরা বাধ্য ছিলাম। কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে সই করার বিষয়টা নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যথাযথ হতো।

দায়িত্ব নিয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে চিঠি লিখলেও, তা যে কাজে আসবে না সেটা জানতেন তৌহিদ হোসেন। জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে তার ভাবনা।

তৌহিদ হোসেনের মতে, আমি মনে করি আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এ রকম থাকবে না। আমাদের মানুষজনের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ না। আমি মনে করি, বিশ্বাস করি যে তারা রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আমার অনুমান আগামী নির্বাচনে তারা অংশ নেবে।

বিএনপি সরকার নিয়ে এখনই মূল্যায়ন করতে নারাজ এই কূটনীতিক। বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন-ভারতকে সামলানোই তারেক রহমানের বড় চ্যালেঞ্জ।