মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় ইরানকে ‌‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যুক্ত হওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে “আব্রাহাম অ্যাকর্ডস”-এ আরও দেশকে যুক্ত হতে হবে। ইরানও এতে যুক্ত হতে পারে। যাতে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়।

ট্রাম্প জানান, তিনি শনিবার কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান এবং তুরস্কসহ কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন—যারা আগে থেকেই এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

তিনি ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, তিনি “সব দেশকে অবিলম্বে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে আহ্বান জানাচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, “যদি ইরান আমার সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, তবে তাদেরও এই অসাধারণ বিশ্বজোটে যুক্ত করা সম্মানের বিষয় হবে।”

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল পরিস্থিতি সমাধানের জন্য বহু কাজ করেছে এবং তিনি আশা করেন এই দেশগুলো এতে যোগ দিতে প্রস্তুত হবে।

তিনি বলেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া কিছু দেশের হয়তো আপত্তি থাকতে পারে, তবে বেশিরভাগ দেশই এই সমঝোতায় যোগ দিতে “প্রস্তুত, ইচ্ছুক ও সক্ষম”।

ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা “ভালোভাবে এগোচ্ছে”, তবে কোনো চুক্তি খুব দ্রুত হচ্ছে—এমন ইঙ্গিত তিনি দেননি।

ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই উদ্যোগকে “অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য রূপান্তরমূলক” বলে সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এই কৌশল ইরান চুক্তিকে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার একটি চেষ্টা হলেও বাস্তবে এটি কঠিন হতে পারে।

উল্লেখ্য: আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো এমন একটি চুক্তির সমষ্টি, যার মাধ্যমে ইসরায়েল এবং কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়। এর শুরু হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনকে দিয়ে।

২০২০ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এই চুক্তিগুলো ঘোষণা করা হয় এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাক্ষরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।

এই চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ১৯৯৪ সালে জর্ডানের পর প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

এর পরবর্তী মাসগুলোতে সুদান ও মরক্কোও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়, যদিও ২০২৪ সাল পর্যন্ত সুদানের চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়নি।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে রিপোর্ট করা হয় যে, ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়া, লেবানন এবং সৌদি আরবকে এই চুক্তিতে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।

নভেম্বরে ঘোষণা করা হয় যে, কাজাখস্তান এতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে নেসেতানিয়াহু নিজ উদ্যোগে এই চুক্তি সম্প্রসারণ করেন, যখন ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং সোমালিল্যান্ডও এই অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় ইরানকে ‌‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যুক্ত হওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

প্রকাশিত সময় : ০৯:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে “আব্রাহাম অ্যাকর্ডস”-এ আরও দেশকে যুক্ত হতে হবে। ইরানও এতে যুক্ত হতে পারে। যাতে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়।

ট্রাম্প জানান, তিনি শনিবার কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান এবং তুরস্কসহ কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন—যারা আগে থেকেই এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

তিনি ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, তিনি “সব দেশকে অবিলম্বে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে আহ্বান জানাচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, “যদি ইরান আমার সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, তবে তাদেরও এই অসাধারণ বিশ্বজোটে যুক্ত করা সম্মানের বিষয় হবে।”

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল পরিস্থিতি সমাধানের জন্য বহু কাজ করেছে এবং তিনি আশা করেন এই দেশগুলো এতে যোগ দিতে প্রস্তুত হবে।

তিনি বলেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া কিছু দেশের হয়তো আপত্তি থাকতে পারে, তবে বেশিরভাগ দেশই এই সমঝোতায় যোগ দিতে “প্রস্তুত, ইচ্ছুক ও সক্ষম”।

ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা “ভালোভাবে এগোচ্ছে”, তবে কোনো চুক্তি খুব দ্রুত হচ্ছে—এমন ইঙ্গিত তিনি দেননি।

ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই উদ্যোগকে “অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য রূপান্তরমূলক” বলে সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এই কৌশল ইরান চুক্তিকে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার একটি চেষ্টা হলেও বাস্তবে এটি কঠিন হতে পারে।

উল্লেখ্য: আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো এমন একটি চুক্তির সমষ্টি, যার মাধ্যমে ইসরায়েল এবং কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়। এর শুরু হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনকে দিয়ে।

২০২০ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এই চুক্তিগুলো ঘোষণা করা হয় এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাক্ষরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।

এই চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ১৯৯৪ সালে জর্ডানের পর প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

এর পরবর্তী মাসগুলোতে সুদান ও মরক্কোও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়, যদিও ২০২৪ সাল পর্যন্ত সুদানের চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়নি।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে রিপোর্ট করা হয় যে, ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়া, লেবানন এবং সৌদি আরবকে এই চুক্তিতে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।

নভেম্বরে ঘোষণা করা হয় যে, কাজাখস্তান এতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে নেসেতানিয়াহু নিজ উদ্যোগে এই চুক্তি সম্প্রসারণ করেন, যখন ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং সোমালিল্যান্ডও এই অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।