প্রকাশিত সময় :
০৯:১৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
১১
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, ইসলায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করবে। এর পরপরই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা লেবাননজুড়ে নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি দেশের আরও কয়েকটি এলাকাতেও আঘাত হানা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক ভিডিও বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল “হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে রয়েছে” এবং তিনি সেনাবাহিনীকে “তাদের ওপর ধ্বংসাত্মক আঘাত হানার” নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে চলতি মাসে লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল, যদিও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলতেই থাকে।
বৈরুতে এখন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা আরও বিস্তৃত হয়ে রাজধানী শহরকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী “৬০০-র বেশি সন্ত্রাসীকে নির্মূল করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এখন আমাদের যা করতে হবে, তা হলো হামলার পরিমাণ এবং তীব্রতা আরও বাড়ানো।”
গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ইসরায়েলের হামলাগুলো মূলত দক্ষিণ লেবাননে সীমাবদ্ধ ছিল। সেখানে এখনো ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন রয়েছে, এবং ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী ওই অঞ্চল থেকেই ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে।
সোমবার রাতে যে বেকা উপত্যকায় হামলা চালানো হয়েছে, সেটি পূর্ব লেবাননে সিরিয়া সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
এদিকে ইরান সরকার বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে আঞ্চলিক যুদ্ধের সব ফ্রন্টে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
তবে ইসরায়েল সরকার হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে।
লেবাননের সঙ্গে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলের ভারী বোমাবর্ষণে লেবাননে ৪০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বহু প্যারামেডিক ও জরুরি সেবা কর্মীও রয়েছেন।
ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই দক্ষিণ লেবাননের নতুন নতুন এলাকায় বসবাসরত মানুষদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। এর ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর লেবাননও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো এক ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ে।
এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এসব হামলায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তাদের মতে, এই জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হলে আগে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা জরুরি।