মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কয়েক দিন আগে বৃদ্ধা মায়ের মরদেহে পচন ধরেছে, জানেন না যুগ্ম সচিব-বুয়েটের শিক্ষক ছেলেরা

রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকায় একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (০১ জুন) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল পেয়ে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পল্লবী থানা পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, উদ্ধারের অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহটিতে পচন ধরেছিল।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম মিরপুরের ওই বাসায় তার মেয়ের সঙ্গেই থাকতেন। তবে মেয়ে থাকতেন অন্য একটি কক্ষে।

বেশ কিছুদিন মায়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রবিবার এক নার্সকে ডেকে আনেন মেয়ে। ওই নার্স কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধার মেয়েকে তার মায়ের মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞেস করলে যে উত্তর দেন তা আমার কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। বৃদ্ধার মৃত্যুর সঠিক সময়ও তিনি বলতে পারেননি। তাই আমরা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধা যে কক্ষটিতে থাকতেন, সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো এবং আবর্জনায় ভরা। কক্ষের ভেতরের পরিবেশ দেখে স্পষ্ট বোঝা গেছে যে দীর্ঘদিন ধরে তিনি চরম অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে ছিলেন।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলেই সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের একজন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডায় থাকেন। তবে তারা মায়ের সঙ্গে থাকতেন না, আলাদা বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ আরো জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত এক সপ্তাহ আগে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় থানায় ডায়েরি করা হয়েছে এবং মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

প্রশাসনে বড় রদবদল, প্রজ্ঞাপন জারি

কয়েক দিন আগে বৃদ্ধা মায়ের মরদেহে পচন ধরেছে, জানেন না যুগ্ম সচিব-বুয়েটের শিক্ষক ছেলেরা

প্রকাশিত সময় : ০৪:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকায় একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (০১ জুন) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল পেয়ে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পল্লবী থানা পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, উদ্ধারের অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহটিতে পচন ধরেছিল।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম মিরপুরের ওই বাসায় তার মেয়ের সঙ্গেই থাকতেন। তবে মেয়ে থাকতেন অন্য একটি কক্ষে।

বেশ কিছুদিন মায়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রবিবার এক নার্সকে ডেকে আনেন মেয়ে। ওই নার্স কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধার মেয়েকে তার মায়ের মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞেস করলে যে উত্তর দেন তা আমার কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। বৃদ্ধার মৃত্যুর সঠিক সময়ও তিনি বলতে পারেননি। তাই আমরা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধা যে কক্ষটিতে থাকতেন, সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো এবং আবর্জনায় ভরা। কক্ষের ভেতরের পরিবেশ দেখে স্পষ্ট বোঝা গেছে যে দীর্ঘদিন ধরে তিনি চরম অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে ছিলেন।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলেই সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের একজন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডায় থাকেন। তবে তারা মায়ের সঙ্গে থাকতেন না, আলাদা বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ আরো জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত এক সপ্তাহ আগে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় থানায় ডায়েরি করা হয়েছে এবং মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন