সরকার ঘোষিত বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ (১১ জুন) মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। দীর্ঘ দুই মাস সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন সময় পার করা জেলেরা এখন নতুন উদ্যমে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কক্সবাজারের বিভিন্ন ঘাট, ফিশারি জেটি ও উপকূলীয় এলাকায় চলছে জাল মেরামত, ট্রলার সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শত শত ট্রলার গভীর সাগরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময় মাছ আহরণ, পরিবহন ও সংরক্ষণেও বিধিনিষেধ কার্যকর ছিল।
কক্সবাজার সদর উপজেলার নুনিয়ারছড়া এলাকার ট্রলার মালিক মো. আবদুস সালাম বলেন,
“দীর্ঘদিন ট্রলার ঘাটে পড়ে ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আমরা ইঞ্জিন, জাল ও বরফের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ভালো মাছ পেলে আগের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে বলে আশা করছি।”
জেলে নুরুল কবির বলেন, “দুই মাস আয়-রোজগার ছিল না। এখন সবাই সাগরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আজ রাতেই ট্রলার নিয়ে রওনা দেব।”
কক্সবাজার ফিশারি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জাল সেলাই করছেন, কেউ ট্রলারে ডিজেল ও বরফ তুলছেন। অনেক ট্রলারে রং ও যান্ত্রিক মেরামতের কাজও শেষ পর্যায়ে।
সহকারি পরিচালক কক্সবাজার জেলা মৎস্য অফিস মারজিয়া সুলতানা বলেন, “সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রতিবছর এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে থাকে। আশা করছি, নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবে জেলেরা এবার ভালো মাছ পাবেন এবং সামুদ্রিক সম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে।”
উল্লেখ্য, সরকার ঘোষিত ৫৮ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা ১১ জুন মধ্যরাতে শেষ হবে এবং এরপর থেকে দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় পুনরায় মাছ ধরা শুরু হবে।

ইকবাল হোসাইন : কক্সবাজার প্রতিনিধি: 
























