ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর বাজার এলাকা থেকে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানার জোড়া খুনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি মো. কাশেম সাখিদারকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (১৪জুন) রাতে র্যাব-১৪ এর একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-১৪ এর এডি শামছুজ্জামান ও এসআই জাহাঙ্গীর আলম।
গ্রেফতারকৃত কাশেম ওই থানার চামরুল গ্রামের মোঃ নূরুল ইসলামের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছর ৮ জুলাই রাতে একদল দুর্বৃত্ত বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানার লক্ষীমন্ডপ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আফতাব উদ্দিনের (৭০) ঘরের সামনে গিয়ে দরজা খোলার জন্য ডাকাডাকি করলে আফতাব উদ্দিন ঘরের দরজা খুলে দেন। দুষ্কৃতিকারীরা ঘরে ঢুকেই প্রথমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের ডান চোখের উপরে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তার হাত-পা-মুখ রশি দিয়ে ব বেঁধে মুখের মধ্যে শাড়ি কাপড়ের কিছু অংশ গুঁজে দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ সময় পাশের ঘরে থাকা তার বড় ছেলে প্রবাসী শাহজাহানের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী রিভা (৩৫) চিৎকার শুরু করলে দুষ্কৃতিকারীরা রিভার ঘরে ঢুকে তাকেও একই কায়দায় শ্বাসরোধে হত্যা করে।
দুইজনকে হত্যা করে দুষ্কৃতিকারীরা ওই বাড়িতে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করেন। এসময় দুষ্কৃতিকারীরা ঘরের ভিতরে রক্ষিত নগদ টাকা,স্বর্ণাঙ্কার, মোবাইল ও বিভিন্ন মালামালসহ ৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে তহমিনা বিবি বাদি হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় অজ্ঞাত নামা ৩/৪ জনকে আসামি খুনসহ ডাকাতি মামলা করেন।
ওই ঘটনার পর থেকেই পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যগণ ঘটনাটি ছায়া তদন্ত শুরু করেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে কাশেম সাখিদারকে শনাক্ত করে তাকে ভালুকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
কাশেম সাখিদার তার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে বিভিন্ন এলাকায় রডমিস্ত্রির কাজ করতেন।
কাশেমের দাবি তিনি ওই ঘটনার সাথে জড়িত নন। তিনি ভালুকা এলাকায় তার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে ভাড়া বাসায় থেকে বিভিন্ন এলাকায় রডমিস্ত্রির কাজ করেন।
ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, র্যাব-১৪ এর একটি দল বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানার দুই খুনের মামলার এক আসামিকে সিডস্টোর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। বিস্তারিত র্যাব বলতে পারবে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























