বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে মিছিলের প্রস্তুতি থেকে গ্রেপ্তার ১৩ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী রিমান্ডে

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে মিছিলের প্রস্তুতির ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অন্যদিকে কিশোর হওয়ায় আসামি তাইবুর সাইফকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এ আদেশ দিয়েছেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন মোতাহের হোসেন শুভ, মারুফুল ইসলাম, তানভীর আহম্মেদ সানী, ওয়ালিউল্লাহ ফারুক আদর, সামির চৌধুরী ওরফে লিয়ন, ইমন আলী খান, ইয়াছিন আরাফাত আবির, সিফাত রহমান, ইয়াসিন আরাফাত নিহাদ, নাজমুল সরকার, আবির হোসেন, তৌকির তারেক আয়াজ ও হাবিবুর রহমান ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

তাইবুর সাইফকে শিশু দাবি করে শুনানি করেন তার আইনজীবী সাইফুর রহমান সুমন। অপর আসামিদেন পক্ষে আইনজীবী এহেসান কবীর রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘তারা একটি মাইক্রোবাসে করে মিরপুর থেকে ৩০০ ফিট যায় খেলা দেখতে। ফেরার পথে নেভি হেডকোয়ার্টারের সামনে এসে গাড়িতে সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে তারা সেখানে দাঁড়িয়েছিল। তারা রাজনীতির সাথে জড়িত না। কোনো পদ-পদবি নেউ তাদের। রিমান্ড বাতিল করে তাদের জামিন প্রার্থনা করছি।’

রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন,‘নেভি হেডকোয়ার্টার নিরিবিলি এলাকা। তারা সেই জায়গায় বেছে নিয়েছে। ড. ইউনূস ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ওই জায়গায় মিছিল, মিটিং শুরু করে। এ আসামিরা মাইক্রোবাসে থেকে জয় বাংলা স্লোগান দেয়। তারা কোনো না কোনো এজেন্টের হয়ে এ কাজ করেছে। ‘‘শেখের বেটি ফিরবে’’ মর্মে স্লোগান দেয়। তারা সকলে ছাত্রলীগকর্মী। রিমান্ডে নিলে সব তথ্য বের হয়ে আসবে।’ ​

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গেল ১৬ মে ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে কতিপয় আসামি বনানী থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের (আউটগোয়িং) নেভি হেডকোয়ার্টার্সের বিপরীত পাশে পাকা রাস্তার ওপর বেআইনিভাবে জড়ো হন। এ সময় একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে আসামিদের ১৩ জুন গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অভিযোগে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা ওই স্থানে অবস্থান নিয়ে সংগঠনের নেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে সামনে রেখে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একই সাথে তারা পরস্পর যোগসাজশে ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার মাধ্যমে সরকারি ও জনসাধারণের সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে বর্তমান সরকারকে উৎখাত বা পতন ঘটানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান সম্বলিত লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করছিলেন। অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস সংক্রান্ত লেখা ও নেতাকর্মীদের ছবি সম্বলিত ২৪টি পিভিসি পোস্টার, একটি টিভিএস আরটিআর মোটরসাইকেল এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

অভিনেত্রীর আত্মহত্যা, মৃত্যুর আগে প্রেমিকের সঙ্গে স্ক্রীনশট ফাঁস

হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে মিছিলের প্রস্তুতি থেকে গ্রেপ্তার ১৩ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী রিমান্ডে

প্রকাশিত সময় : ০৬:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে মিছিলের প্রস্তুতির ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অন্যদিকে কিশোর হওয়ায় আসামি তাইবুর সাইফকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এ আদেশ দিয়েছেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন মোতাহের হোসেন শুভ, মারুফুল ইসলাম, তানভীর আহম্মেদ সানী, ওয়ালিউল্লাহ ফারুক আদর, সামির চৌধুরী ওরফে লিয়ন, ইমন আলী খান, ইয়াছিন আরাফাত আবির, সিফাত রহমান, ইয়াসিন আরাফাত নিহাদ, নাজমুল সরকার, আবির হোসেন, তৌকির তারেক আয়াজ ও হাবিবুর রহমান ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

তাইবুর সাইফকে শিশু দাবি করে শুনানি করেন তার আইনজীবী সাইফুর রহমান সুমন। অপর আসামিদেন পক্ষে আইনজীবী এহেসান কবীর রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘তারা একটি মাইক্রোবাসে করে মিরপুর থেকে ৩০০ ফিট যায় খেলা দেখতে। ফেরার পথে নেভি হেডকোয়ার্টারের সামনে এসে গাড়িতে সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে তারা সেখানে দাঁড়িয়েছিল। তারা রাজনীতির সাথে জড়িত না। কোনো পদ-পদবি নেউ তাদের। রিমান্ড বাতিল করে তাদের জামিন প্রার্থনা করছি।’

রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন,‘নেভি হেডকোয়ার্টার নিরিবিলি এলাকা। তারা সেই জায়গায় বেছে নিয়েছে। ড. ইউনূস ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ওই জায়গায় মিছিল, মিটিং শুরু করে। এ আসামিরা মাইক্রোবাসে থেকে জয় বাংলা স্লোগান দেয়। তারা কোনো না কোনো এজেন্টের হয়ে এ কাজ করেছে। ‘‘শেখের বেটি ফিরবে’’ মর্মে স্লোগান দেয়। তারা সকলে ছাত্রলীগকর্মী। রিমান্ডে নিলে সব তথ্য বের হয়ে আসবে।’ ​

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গেল ১৬ মে ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে কতিপয় আসামি বনানী থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের (আউটগোয়িং) নেভি হেডকোয়ার্টার্সের বিপরীত পাশে পাকা রাস্তার ওপর বেআইনিভাবে জড়ো হন। এ সময় একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে আসামিদের ১৩ জুন গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অভিযোগে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা ওই স্থানে অবস্থান নিয়ে সংগঠনের নেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে সামনে রেখে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একই সাথে তারা পরস্পর যোগসাজশে ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার মাধ্যমে সরকারি ও জনসাধারণের সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে বর্তমান সরকারকে উৎখাত বা পতন ঘটানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান সম্বলিত লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করছিলেন। অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস সংক্রান্ত লেখা ও নেতাকর্মীদের ছবি সম্বলিত ২৪টি পিভিসি পোস্টার, একটি টিভিএস আরটিআর মোটরসাইকেল এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।