শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র দাবদাহের পর ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল

রেকর্ডভাঙা তীব্র দাবদাহ আর দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়ার পর ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে দক্ষিণ ফ্রান্স। দেশটির একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে শত শত দমকলর্মীকে। খবর ডয়চে ভেলের।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, সবচেয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ওদ এবং এরো অঞ্চলে। সেখানে প্রায় ৯০০ হেক্টরেরও (২ হাজার ২০০ একর) বেশি এলাকা জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮০০ জন দমকলকর্মী ও ১৫০টি বিশেষ যান মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পিরেনিপোরিয়াঁতাল অঞ্চলে সাঁত-মারি-লা-মের এলাকায় দাবানল শুরু হওয়ার পর প্রায় তিন হাজার পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই আগুন পরবর্তীতে স্পেনের সীমান্ত সংলগ্ন কানেত-অ-রুসিয় শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, কানেত-অঁ-রুসিয়ঁ শহরের বেশ কিছু গুদামঘর এবং সমুদ্র উপকূলে থাকা একটি বিলাসবহুল ইয়ট আগুনে পুড়ছে। আগুন থেকে সৃষ্ট কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী পুরো সৈকত এলাকাকে অন্ধকার করে ফেলেছে।

পিরেনিপোরিয়াঁতাল অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তা পিয়েরে রেনো দে লা মথ জানিয়েছেন, আগুন নেভাতে গিয়ে দুইজন দমকলকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে, ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ের উপকণ্ঠে লাগা দুটি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন দমকলকর্মীরা ।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু মার্সেই শহরে এক জরুরি সংকটকালীন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৭ হাজারটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যাতে ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি ভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”

বর্তমান অবস্থাকে ‘বেশ উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এবারের দাবানলের তীব্রতা ও স্বাভাবিক সময়ের আগেই এর প্রাদুর্ভাবের কারণে কর্তৃপক্ষ ও দমকলকর্মীদের চরম ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় দুই হাজার দমকলকর্মী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি এখনো তাদের সম্পূর্ণ প্রতিকূলে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ফ্রান্সে টানা ১১ দিনব্যাপী একটি রেকর্ডভাঙা দাবদাহ বয়ে যায়, এতে দেশটির অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে উচ্চ তাপমাত্রাা, গাছপালায় পানির সংকট এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে বয়ে আসা প্রবল বাতাসের কারণে দাবানল আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

তীব্র দাবদাহের পর ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল

প্রকাশিত সময় : ১১:৩৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

রেকর্ডভাঙা তীব্র দাবদাহ আর দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়ার পর ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে দক্ষিণ ফ্রান্স। দেশটির একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে শত শত দমকলর্মীকে। খবর ডয়চে ভেলের।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, সবচেয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ওদ এবং এরো অঞ্চলে। সেখানে প্রায় ৯০০ হেক্টরেরও (২ হাজার ২০০ একর) বেশি এলাকা জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮০০ জন দমকলকর্মী ও ১৫০টি বিশেষ যান মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পিরেনিপোরিয়াঁতাল অঞ্চলে সাঁত-মারি-লা-মের এলাকায় দাবানল শুরু হওয়ার পর প্রায় তিন হাজার পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই আগুন পরবর্তীতে স্পেনের সীমান্ত সংলগ্ন কানেত-অ-রুসিয় শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, কানেত-অঁ-রুসিয়ঁ শহরের বেশ কিছু গুদামঘর এবং সমুদ্র উপকূলে থাকা একটি বিলাসবহুল ইয়ট আগুনে পুড়ছে। আগুন থেকে সৃষ্ট কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী পুরো সৈকত এলাকাকে অন্ধকার করে ফেলেছে।

পিরেনিপোরিয়াঁতাল অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তা পিয়েরে রেনো দে লা মথ জানিয়েছেন, আগুন নেভাতে গিয়ে দুইজন দমকলকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে, ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ের উপকণ্ঠে লাগা দুটি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন দমকলকর্মীরা ।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু মার্সেই শহরে এক জরুরি সংকটকালীন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৭ হাজারটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যাতে ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি ভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”

বর্তমান অবস্থাকে ‘বেশ উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এবারের দাবানলের তীব্রতা ও স্বাভাবিক সময়ের আগেই এর প্রাদুর্ভাবের কারণে কর্তৃপক্ষ ও দমকলকর্মীদের চরম ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় দুই হাজার দমকলকর্মী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি এখনো তাদের সম্পূর্ণ প্রতিকূলে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ফ্রান্সে টানা ১১ দিনব্যাপী একটি রেকর্ডভাঙা দাবদাহ বয়ে যায়, এতে দেশটির অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে উচ্চ তাপমাত্রাা, গাছপালায় পানির সংকট এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে বয়ে আসা প্রবল বাতাসের কারণে দাবানল আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।