নীলফামারীর জলঢাকায় বাস-মিনিবাস ও কোচ শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় জলঢাকা পেট্রোল পাম্প ও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি স্বাক্ষরিত এক আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আদেশে বলা হয়, শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতিসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রশাসনকে অবহিত করেন।
এরই প্রেক্ষিতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ওই এলাকায় সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা দেশীয় অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন, মাইকিং বা শব্দযন্ত্রের ব্যবহার, পাঁচ বা তার অধিক ব্যক্তির একত্রে চলাচল এবং যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সংঘর্ষের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, “ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশও তৎপর রয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রশাসন সম্পূর্ণ সজাগ অবস্থানে আছে।”

সুমন মিয়া, জলঢাকা (নীলফামারী) 






















