সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহানবী (সা.)-এর মৃত্যুর পর যেকারণে কাঁদতেন উম্মে আইমান (রা.)

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আনাস (রা.)- থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর ইন্তিকালের পর আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বললেন, মহানবী (সা.) যেভাবে উম্মে আইমান (রা.)-এর সাক্ষাতে যেতেন, চলুন, আমরাও তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে যাই। তাঁরা উম্মে আইমান (রা.)-এর কাছে গেলে উম্মে আইমান (রা.) কান্না করতে লাগলেন।

তাঁরা তাঁকে বললেন, আপনি কাঁদছেন কেন? আপনি কি জানেন না যে, মহানবী (সা.)-এর জন্য (ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়া থেকে) আল্লাহর কাছে যা আছে তা উত্তম? তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহর কাছে মহানবী (সা.)-এর জন্য কী উত্তম জিনিস আছে, তা আমি জানি। তবে আমি সে কারণে কাঁদছি না। আমি এজন্য কাঁদছি যে, আসমান থেকে ওহি আসা বন্ধ হয়ে গেছে। একপর্যায়ে উম্মে আইমান (রা.)-এর কান্না তাঁদের কাঁদতে বাধ্য করল।

ফলে তাঁরাও তাঁর সঙ্গে কাঁদতে লাগলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৩১৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৩৫৯)

শিক্ষা ও বিধান

১. নেককার ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেওয়া ও তাঁদের সম্মান করা উচিত। আর উম্মে আইমান (রা.) ছিলেন মহানবী (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় সাহাবিয়া।

২. ওহি ছিল উম্মাহর সবচেয়ে বড় নিয়ামত।

উম্মে আইমান (রা.)-এর কান্নার প্রধান কারণ ছিল ওহি বন্ধ হয়ে যাওয়া। আর সাহাবায়ে কেরাম দুনিয়াবি ক্ষতির চেয়ে দ্বীনের ক্ষতিকে বেশি গুরুত্ব দিতেন।
৩. আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। তিনি জানতেন যে, আল্লাহর কাছে মহানবী (সা.)-এর জন্য দুনিয়ার চেয়ে উত্তম প্রতিদান রয়েছে। তাই তাঁর কান্না আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তুষ্টি ছিল না।

৪. আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও দ্বীনের প্রতি গভীর আবেগ। মূলত তাঁর আবেগ-অনুভূতি ছিল দ্বীনের কল্যাণকে কেন্দ্র করে, ব্যক্তিগত স্বার্থকে নয়।

৫. নেককার মানুষের কান্না অন্যদের হৃদয়কেও নরম করে। উম্মে আইমান (রা.)-এর আন্তরিক আবেগ দেখে আবু বকর (রা.) ওমর (রা.)-ও কেঁদে ফেলেন। এটি ঈমানদারদের পারস্পরিক হৃদ্যতার প্রমাণ।

এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, একজন মুমিনের কাছে দুনিয়ার কোনো ক্ষতির চেয়ে দ্বীনের ক্ষতি বেশি বেদনাদায়ক হওয়া উচিত। একই সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ, নেককার মানুষের খোঁজ নেওয়া এবং আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মহানবী (সা.)-এর মৃত্যুর পর যেকারণে কাঁদতেন উম্মে আইমান (রা.)

প্রকাশিত সময় : ০৬:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আনাস (রা.)- থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর ইন্তিকালের পর আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বললেন, মহানবী (সা.) যেভাবে উম্মে আইমান (রা.)-এর সাক্ষাতে যেতেন, চলুন, আমরাও তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে যাই। তাঁরা উম্মে আইমান (রা.)-এর কাছে গেলে উম্মে আইমান (রা.) কান্না করতে লাগলেন।

তাঁরা তাঁকে বললেন, আপনি কাঁদছেন কেন? আপনি কি জানেন না যে, মহানবী (সা.)-এর জন্য (ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়া থেকে) আল্লাহর কাছে যা আছে তা উত্তম? তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহর কাছে মহানবী (সা.)-এর জন্য কী উত্তম জিনিস আছে, তা আমি জানি। তবে আমি সে কারণে কাঁদছি না। আমি এজন্য কাঁদছি যে, আসমান থেকে ওহি আসা বন্ধ হয়ে গেছে। একপর্যায়ে উম্মে আইমান (রা.)-এর কান্না তাঁদের কাঁদতে বাধ্য করল।

ফলে তাঁরাও তাঁর সঙ্গে কাঁদতে লাগলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৩১৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৩৫৯)

শিক্ষা ও বিধান

১. নেককার ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেওয়া ও তাঁদের সম্মান করা উচিত। আর উম্মে আইমান (রা.) ছিলেন মহানবী (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় সাহাবিয়া।

২. ওহি ছিল উম্মাহর সবচেয়ে বড় নিয়ামত।

উম্মে আইমান (রা.)-এর কান্নার প্রধান কারণ ছিল ওহি বন্ধ হয়ে যাওয়া। আর সাহাবায়ে কেরাম দুনিয়াবি ক্ষতির চেয়ে দ্বীনের ক্ষতিকে বেশি গুরুত্ব দিতেন।
৩. আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। তিনি জানতেন যে, আল্লাহর কাছে মহানবী (সা.)-এর জন্য দুনিয়ার চেয়ে উত্তম প্রতিদান রয়েছে। তাই তাঁর কান্না আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তুষ্টি ছিল না।

৪. আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও দ্বীনের প্রতি গভীর আবেগ। মূলত তাঁর আবেগ-অনুভূতি ছিল দ্বীনের কল্যাণকে কেন্দ্র করে, ব্যক্তিগত স্বার্থকে নয়।

৫. নেককার মানুষের কান্না অন্যদের হৃদয়কেও নরম করে। উম্মে আইমান (রা.)-এর আন্তরিক আবেগ দেখে আবু বকর (রা.) ওমর (রা.)-ও কেঁদে ফেলেন। এটি ঈমানদারদের পারস্পরিক হৃদ্যতার প্রমাণ।

এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, একজন মুমিনের কাছে দুনিয়ার কোনো ক্ষতির চেয়ে দ্বীনের ক্ষতি বেশি বেদনাদায়ক হওয়া উচিত। একই সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ, নেককার মানুষের খোঁজ নেওয়া এবং আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।