ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য অত্যন্ত সতর্ক পরিকল্পনা করেছিলেন আনচেলত্তি। এমনকি সম্ভাব্য টাইব্রেকারের প্রস্তুতিও ছিল সেই পরিকল্পনার অংশ।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, নথিতে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডকে ভুলভাবে ডান পায়ের খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। অথচ বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই ফরোয়ার্ড মূলত বাঁ পায়ের খেলোয়াড়।
বিল্ডের দাবি, ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ পেনাল্টি শুটআউটে গড়ালে কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হবে, সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নরওয়ের সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে প্রতিটি খেলোয়াড়ের পছন্দের পা উল্লেখ থাকলেও হালান্ডের নামের পাশে ভুলবশত “রাইট-ফুটেড” লেখা ছিল।
বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ব্রাজিলের হারের ম্যাচে হালান্ড তার দ্বিতীয় গোলটি করেন বাঁ পায়ে। এর আগে প্রথম গোলটি করেছিলেন হেড থেকে। যদিও ম্যাচটি পেনাল্টি পর্যন্ত গড়ায়নি, তবুও হালান্ডের পছন্দের পা নিয়ে এমন ভুল তথ্য ব্রাজিলের বিশ্লেষণী প্রস্তুতির নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
নথিতে নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিয়ল্যান্ডকে নিয়েও বিস্তারিত বিশ্লেষণ ছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তিনি প্রায় প্রতিটি শটে মাটিতে ঝাঁপ দেন এবং মাঝারি উচ্চতার শট ঠেকাতে দুর্বল। একটি নোটে লেখা ছিল, সে সবসময় নিচে ঝাঁপ দেয়, তাই ওপরের বল ঠেকানোর সুযোগ তার খুব কম।

এছাড়া ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসনের জন্যও আলাদা নির্দেশনা রাখা হয়েছিল। সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটআউটে নরওয়ের প্রতিটি খেলোয়াড় কোন দিকে শট নিতে পারেন, সে সম্পর্কেও নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া ছিল ওই নথিতে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত প্রস্তুতির ঘাটতি নয় বরং মাঠে সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে ব্যর্থতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্নায়ুচাপ সামলাতে না পারাই ব্রাজিলের বিদায়ের অন্যতম কারণ।
এখন প্রশ্ন উঠছে, আনচেলত্তির এই খাতা কি কেবলই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল, নাকি খেলোয়াড়রা মাঠের ভেতরে সেই নির্দেশনার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছেন?
সূত্র: প্রো-স্পোর্ট

রিপোর্টারের নাম 























