মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবাই মিলে দেশকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশকে সুন্দর ও নিরাপদ, বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সবাই মিলে চেষ্টা করতে হবে। বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের দেশকে পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে না। দেশটাকে সুন্দর করতে হলে সবাই মিলেই চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় গাছের সংখ্যা কম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ রক্ষা এবং দেশকে আরও সবুজ করে তুলতে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

বরিশালের গৌরনদীর সরিকল-বাটজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে উপস্থিত গ্রামবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যে পরিমাণ গাছ থাকা দরকার, তা নেই। তাই আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ জন্য আমাদের স্লোগান হচ্ছে- বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। এখন আগের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।

এক দিনের সফরে গতকাল সকালে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা থেকে উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অভ্যর্থনা জানান দলীয় নেতাকর্মীরা। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর অশ্বিনী কুমার ইনস্টিটিউট মাঠে ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে সারাদেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠন করার পরে যে বাজেট পেয়েছিলাম। সেই বাজেট হলো আগের সরকারের তৈরি করা বাজেট। সেই বাজেটে তারা ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কোনো বরাদ্দ রেখে যায়নি। গত কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদে আমরা বাজেট উপস্থাপন করেছি। এই বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গ্রামের যে অসহায় দুস্থ পরিবারগুলো আছে আমরা ধীরে ধীরে তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আগামী এক বছরে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যে বাজেট রয়েছে সে বাজেটের ওপর ভিত্তি করে আগামী এক বছরে সারাদেশে ৪১ লাখ পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব।

তারেক রহমান বলেন, দেশে আমরা সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে সামাজিকভাবে এক সঙ্গে চলতে চাই। আমরা যদি ধৈর্যশীল হই, ধৈর্য সহকারে চলি তাহলে আমরা এই দেশটাকে প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতির উৎস জনগণ। এই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ বিএনপির সঙ্গে থাকবে ততক্ষণ বিএনপি কোনো বাধা মানবে না। দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি দলমত, ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষের সমর্থন ব্যক্ত করেন। পরে তিনি বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন।

বেলা সোয়া ২টায় বরিশাল নগরের ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন সাগরদী খালের দুইপাশে একযোগে সাড়ে তিনশ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচিতে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ মিলে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি। স্বৈরাচারকে এ দেশ থেকে বিদায় করেছি। এভাবে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো কাজগুলো করি, তাহলে সবাই উপকৃত হব। তিনি বলেন, নিজেদের পরিবেশ নিজেদের রক্ষা করতে হবে, নিজেদের ঘর যদি নিজেরা গুছিয়ে না রাখি তাহলে ঘরটা ময়লা হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আমরা যদি আমাদের এলাকা, আমাদের এরিয়া, আমাদের পাড়া, আমাদের দেশ নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, নিজেরা যদি পরিবেশের দিকে খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাছের চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না, আমি অনুরোধ করব স্থানীয়সহ যারা চারা রোপণ করলেন তারা সবাই মিলে গাছগুলোর যত্ন নেবেন। গাছগুলো বড় হলে শুধু স্থানীয়রাই নয়, এখানে যারা আসেন তারাও উপকৃত হবেন।

তিনি বলেন, সুন্দর প্রবহমান গুরুত্বপূর্ণ সাগরদী খালের যত্ন করা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়, এর দুইপাশে যত মানুষ আছে তাদেরও সবাইকে এ খালের যত্ন করতে হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি, আবুল হোসেন খান এমপি, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের আবদার, সেলফি তুললেন প্রধানমন্ত্রী

গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শেষে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে স্কুল শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়িবহর থামিয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশালের সাতমাইল এলাকায় বরিশাল ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাস-সংলগ্ন শিশুনিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সড়কের পাশে অবস্থান নেন। তাদের উপস্থিতি লক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী গাড়িবহর থামান এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের অনুরোধে তিনি নিজেই তাদের সঙ্গে সেলফি তোলেন। পরে তাদের হাতে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তারা করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং স্মরণীয় মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন। শিশুনিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিদ্যালয়ের সামনে গাড়িবহর থামিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। এটি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত স্মরণীয় একটি মুহূর্ত।

বিকালে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় সভা শেষ করে তিনি ঢাকার উদ্দেশে সড়কপথে রওনা দেন।

এর আগে ভোর ৬টার দিকে গুলশানের নিজ বাসা থেকে সড়কপথে সফরসঙ্গীদের নিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’সংবলিত লাল সবুজ বাসে চড়ে গুলশানের বাসভবন থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীসহ উপস্থিত জনতা পথে পথে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের পৌঁছালে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনতা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। বরিশালে পৌঁছানের আগ পর্যন্ত পথে পথে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার এমপিরা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন ঢাকা-২ আসনের এমপি আমান উল্লাহ আমান, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সেলিমুজ্জামান সেলিম, শরীয়তপুর-৩ আসনের আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হেলেন জেরীন খান, ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

সবাই মিলে দেশকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখি

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশকে সুন্দর ও নিরাপদ, বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সবাই মিলে চেষ্টা করতে হবে। বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের দেশকে পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে না। দেশটাকে সুন্দর করতে হলে সবাই মিলেই চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় গাছের সংখ্যা কম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ রক্ষা এবং দেশকে আরও সবুজ করে তুলতে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

বরিশালের গৌরনদীর সরিকল-বাটজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে উপস্থিত গ্রামবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যে পরিমাণ গাছ থাকা দরকার, তা নেই। তাই আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ জন্য আমাদের স্লোগান হচ্ছে- বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। এখন আগের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।

এক দিনের সফরে গতকাল সকালে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা থেকে উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অভ্যর্থনা জানান দলীয় নেতাকর্মীরা। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর অশ্বিনী কুমার ইনস্টিটিউট মাঠে ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে সারাদেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠন করার পরে যে বাজেট পেয়েছিলাম। সেই বাজেট হলো আগের সরকারের তৈরি করা বাজেট। সেই বাজেটে তারা ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কোনো বরাদ্দ রেখে যায়নি। গত কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদে আমরা বাজেট উপস্থাপন করেছি। এই বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গ্রামের যে অসহায় দুস্থ পরিবারগুলো আছে আমরা ধীরে ধীরে তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আগামী এক বছরে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যে বাজেট রয়েছে সে বাজেটের ওপর ভিত্তি করে আগামী এক বছরে সারাদেশে ৪১ লাখ পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব।

তারেক রহমান বলেন, দেশে আমরা সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে সামাজিকভাবে এক সঙ্গে চলতে চাই। আমরা যদি ধৈর্যশীল হই, ধৈর্য সহকারে চলি তাহলে আমরা এই দেশটাকে প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতির উৎস জনগণ। এই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ বিএনপির সঙ্গে থাকবে ততক্ষণ বিএনপি কোনো বাধা মানবে না। দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি দলমত, ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষের সমর্থন ব্যক্ত করেন। পরে তিনি বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন।

বেলা সোয়া ২টায় বরিশাল নগরের ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন সাগরদী খালের দুইপাশে একযোগে সাড়ে তিনশ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচিতে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ মিলে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি। স্বৈরাচারকে এ দেশ থেকে বিদায় করেছি। এভাবে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো কাজগুলো করি, তাহলে সবাই উপকৃত হব। তিনি বলেন, নিজেদের পরিবেশ নিজেদের রক্ষা করতে হবে, নিজেদের ঘর যদি নিজেরা গুছিয়ে না রাখি তাহলে ঘরটা ময়লা হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আমরা যদি আমাদের এলাকা, আমাদের এরিয়া, আমাদের পাড়া, আমাদের দেশ নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, নিজেরা যদি পরিবেশের দিকে খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাছের চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না, আমি অনুরোধ করব স্থানীয়সহ যারা চারা রোপণ করলেন তারা সবাই মিলে গাছগুলোর যত্ন নেবেন। গাছগুলো বড় হলে শুধু স্থানীয়রাই নয়, এখানে যারা আসেন তারাও উপকৃত হবেন।

তিনি বলেন, সুন্দর প্রবহমান গুরুত্বপূর্ণ সাগরদী খালের যত্ন করা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়, এর দুইপাশে যত মানুষ আছে তাদেরও সবাইকে এ খালের যত্ন করতে হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি, আবুল হোসেন খান এমপি, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের আবদার, সেলফি তুললেন প্রধানমন্ত্রী

গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শেষে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে স্কুল শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়িবহর থামিয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশালের সাতমাইল এলাকায় বরিশাল ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাস-সংলগ্ন শিশুনিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সড়কের পাশে অবস্থান নেন। তাদের উপস্থিতি লক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী গাড়িবহর থামান এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের অনুরোধে তিনি নিজেই তাদের সঙ্গে সেলফি তোলেন। পরে তাদের হাতে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তারা করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং স্মরণীয় মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন। শিশুনিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিদ্যালয়ের সামনে গাড়িবহর থামিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। এটি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত স্মরণীয় একটি মুহূর্ত।

বিকালে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় সভা শেষ করে তিনি ঢাকার উদ্দেশে সড়কপথে রওনা দেন।

এর আগে ভোর ৬টার দিকে গুলশানের নিজ বাসা থেকে সড়কপথে সফরসঙ্গীদের নিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’সংবলিত লাল সবুজ বাসে চড়ে গুলশানের বাসভবন থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীসহ উপস্থিত জনতা পথে পথে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের পৌঁছালে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনতা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। বরিশালে পৌঁছানের আগ পর্যন্ত পথে পথে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার এমপিরা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন ঢাকা-২ আসনের এমপি আমান উল্লাহ আমান, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সেলিমুজ্জামান সেলিম, শরীয়তপুর-৩ আসনের আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হেলেন জেরীন খান, ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল।