মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা তৃতীয় রাত ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও উপকূলীয় স্থাপনায় টানা তৃতীয় রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ওয়াশিংটন উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ পুনর্বহাল করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা হবে, তবে এর জন্য ২০ শতাংশ ফি দিতে হবে।

এর কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে নতুন দফার হামলা শুরু হয়েছে। এর আগে রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ রাতে ইরানকে খুব কঠোরভাবে আঘাত করা হবে, আগামীকালও হবে। তারা এ বিষয়ে কিছুই করতে পারবে না।’

হামলা শুরুর পরপরই ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে। বন্দর নগরী বান্দার আব্বাস, পারস্য উপসাগরের কিশ ও কেশম দ্বীপ এবং আবু মুসা দ্বীপে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়।

এ ছাড়া ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, বুশেহর প্রদেশের জাম শহরের বাসিন্দারাও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট স্থান তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পরে নূর নিউজ জানায়, বুশেহর উপকূলীয় প্রদেশের কয়েকটি এলাকা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

এর আগে মেহর নিউজ এজেন্সিও বুশেহরে বিস্ফোরণের খবর দেয়। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের ওমিদিয়েহ এলাকার কয়েকটি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

পরে সেন্টকম জানায়, ওয়াশিংটন সময় সোমবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান শেষ হয়েছে।

সেন্টকমের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট অনুযায়ী, অভিযানে বুশেহর, চাবাহার, জাস্ক, কোনারাক, আবু মুসা ও বান্দার আব্বাসসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করা। এ সময় নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানায় সেন্টকম।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের ৫০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে।

হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলিবর্ষণের ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হওয়ায়, সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

টানা তৃতীয় রাত ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও উপকূলীয় স্থাপনায় টানা তৃতীয় রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ওয়াশিংটন উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ পুনর্বহাল করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা হবে, তবে এর জন্য ২০ শতাংশ ফি দিতে হবে।

এর কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে নতুন দফার হামলা শুরু হয়েছে। এর আগে রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ রাতে ইরানকে খুব কঠোরভাবে আঘাত করা হবে, আগামীকালও হবে। তারা এ বিষয়ে কিছুই করতে পারবে না।’

হামলা শুরুর পরপরই ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে। বন্দর নগরী বান্দার আব্বাস, পারস্য উপসাগরের কিশ ও কেশম দ্বীপ এবং আবু মুসা দ্বীপে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়।

এ ছাড়া ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, বুশেহর প্রদেশের জাম শহরের বাসিন্দারাও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট স্থান তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পরে নূর নিউজ জানায়, বুশেহর উপকূলীয় প্রদেশের কয়েকটি এলাকা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

এর আগে মেহর নিউজ এজেন্সিও বুশেহরে বিস্ফোরণের খবর দেয়। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের ওমিদিয়েহ এলাকার কয়েকটি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

পরে সেন্টকম জানায়, ওয়াশিংটন সময় সোমবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান শেষ হয়েছে।

সেন্টকমের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট অনুযায়ী, অভিযানে বুশেহর, চাবাহার, জাস্ক, কোনারাক, আবু মুসা ও বান্দার আব্বাসসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করা। এ সময় নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানায় সেন্টকম।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের ৫০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে।

হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলিবর্ষণের ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হওয়ায়, সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।